ষাটোর্ধ্বদের সরকারি করোনা টিকা বিনামূল্যে, বেসরকারিতে লাগবে টাকা

কেন্দ্রীয় সরকার আগেই জানিয়েছিল ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের নীচে যাদের কো-মর্বিডিটি আছে তাঁদের করোনার টিকা দেওয়া হবে পরবর্তী পর্যায়ে। আগামী ১ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে করোনার টিকার এই দ্বিতীয় পর্যায়। বুধবারই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা এই বিষয়ে চুরান্ত ছাড়পত্র দিল। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে যেমন সরকারি টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়া যাবে, তেমনই বেসরকারি কেন্দ্র থেকেও টিকা নিতে পারবেন ইচ্ছুকরা। তবে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে গেলে টাকা দিতে হবে ইচ্ছুকদের।  তবে কত টাকা দিতে হবে সেটা এখনও জানানো হয়নি।  কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক অবশ্য আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে। ঠিক হয়েছে দ্বিতীয় দফায় প্রাথমিকভাবে ১০,০০০ সরকারি এবং ২০,০০০ বেসরকারি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। অপরদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রত্যেকটি মানুষকেই বিনামূল্যে টিকা দিতে চান।



প্রতি পাঁচজনে একজন করোনা আক্রান্ত, জানাল আইসিএমআর

প্রতি পাঁচজন ভারতীয়ের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় দফার সেরোলজিকাল সমীক্ষার পর এই তথ্য জানিয়েছে আইসিএমআর। তারা বলছে, আগস্ট থেকে ডিসেম্বর প্রায় তিনগুণ সংক্রমণ বেড়েছে। মে মাস থেকে ধরলে তা প্রায় ৩০ গুণ। মে মাসেই আইসিএমআরের আগের সমীক্ষাটি হয়েছিল। 

তারা বলছে, এখনও জনসাধারণের একটা বড় অংশ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। টিকাকরণ তাই জরুরি। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব মানায় কোনও শিথিলতা চলবে না, জানিয়েছেন আইসিএমআরের ডিরেক্টর বলরাম ভার্গব।  দেশের ২১টি রাজ্যের ৭০টি জেলায় এই সেরোলজিকাল সমীক্ষা করা হয়েছিল। তাদের হিসেবে, সবমিলিয়ে জনগণের ২১ শতাংশই করোনায় সংক্রমিত হয়েছিলেন। দেশে এখন ১ কোটির কিছু বেশি করোনায় আক্রান্ত।  প্রকৃত হিসেব বলছে, অন্তত ২৭ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রতিটি নিশ্চিত সংক্রমণ পিছু তা ২৭টি কেস। 

গত সেপ্টেম্বর থেকেই দেশে করোনার সংক্রমণ কমতির দিকে। বৃহস্পতিবার মাত্রই ১২ হাজার নতুন সংক্রমিত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে সেরোসার্ভেতে পুরো ছবিটা পাওয়া যায় না। অ্। ধরেনর সীমক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দেশের নাগরিকদের অর্ধেকই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইসিএমআরের আগের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, গ্রামীণ এলাকায় ৫.২ শতাংশের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এবারের সমীক্ষায় তা হয়েছে ১৯ শতাংশ। 

আগামী জুনে ভারতে আসছে তৃতীয় করোনা টিকা কোভাভ্যাক্স

আগামী জুনে আরও একটি করোনার টিকা আসছে দেশে। সিরামের প্রধান আদার পুনেওয়ালা শনিবার জানিয়েছেন, তাঁরা আরও একটি টিকা বাজারে আনতে পারবেন। এটি অনুমোদিত হলে তা হবে ভারতের তৃতীয় করোনা টিকা। সিরাম জানিয়েছে, নতুন টিকার নাম কোভাভ্যাক্স। এখন তার পরীক্ষা চলছে। তার ফল খুবই ভালো।

আদার টুইটারে জানিয়েছেন, নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে তাঁদের অংশীদারিতে কোভাভ্যাক্সের কার্যকারিতা দারুণ। ভারতে পরীক্ষা শুরুর জন্য তাঁরা আবেদন করেছেন। জুনের মধ্যেই তা তৈরি হয়ে যাবে। ১৬ জানুয়ারি দেশজুড়ে টিকাকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। সিরামের কোভিশিল্ড আর ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন জরুরি ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহযোগিতায় কোভিশিল্ড তৈরি করছে সিরাম। 


দেশে নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ডোজ করোনার টিকা

দেশে প্রায় ৫ হাজার ডোজ করোনার টিকা নষ্ট হয়েছে। সবথেকে বেশি টিকা নষ্টের ঘটনা ত্রিপুরায়। ১১ শতাংশ টিকা নষ্ট হয়েছে ত্রিপুরাতেই। কাণ হিসেবে বলা হয়েছে, টিকার ভায়াল খোলার পর যথেষ্ট সংখ্যায় টিকাগ্রহীতা পাওয়া যায়নি। ভায়াল খোলার পর চারঘণ্টার মধ্যে টিকা দিতে হয়। নইলে তা নষ্ট হয়ে যায়। টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের তরফে নানারকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৬ জানুয়ারি থেকে টিকাদান কেন্দ্রের ১০০ জনের মধ্যে এসেছেন গড়ে ৫৫ জন। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা ছিল প্রতি ১০০ জনে ৪৯ জন। মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ লাখের মতো।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, আন্দামান, হিমাচলপ্রদেশ, জম্মপ়ু কাশ্মীর, কেরল ও ছত্তিশগড়ে টিকার কোনও ডোজ নষ্ট হয়নি। পাটনার নালন্দা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নষ্টের পরিমাণ গত সপ্তাহে ছিল ২৫ শতাংশ। উত্তরাখণ্ডে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ ৪.১ শতাংশ। নষ্ট হয়েছে ১৪,৫০০ ডোজ। ওডিশায় নষ্ট হয়েছে ১,১২৫ ডোজ। পাঞ্জাবে নষ্ট হয়েছে ১,২০০ ডোজ। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের নষ্ট হওয়ার সংখ্যা বেশি। কারণ সিরামের কোভিশিল্ডের তুলনায় তাদের ভায়ালের সাইজ বড়।