রাজ্যে ১১ মাস পর করোনায় মৃত্যুহীন সোমবার

দীর্ঘ ১১ মাস পর সোমবার পশ্চিমবঙ্গে করোনায় একজনেরও মৃত্যু হয়নি। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের করোনা বুলেটিন থেকে এই সুখবর মিলল। সোমবার রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ১৯৮ জন। সবমিলিয়ে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহল। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের শুরু থেকেই রাজ্যে করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করেছিল। রোজই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা করছিল। মৃত্যুতেও লাগাম টানা গিয়েছিল। সোমবার সেটা শূন্যে এসে ঠেকলো। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সোমবার ২১২ জন করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ভোটের মুখে এই পরিসংখ্যান যথেষ্টই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এই চার রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসতে হলে অবশ্যই লাগবে করোনা রিপোর্ট

দেশের কয়েকটি রাজ্যে করোনা সংক্রমণ দিনে দিনে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করছেন এর জন্য দায়ী করোনার নতুন ভারতীয় প্রজাতি বা স্ট্রেন। মহারাষ্ট্র ও কেরলে করোনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এরসঙ্গে কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানাতেও দিনে দিনে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্নাটক ও তেলেঙ্গানা থেকে কোনও ব্যক্তি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাঁকে করোনা রিপোর্ট দেখাতেই হবে। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে চালু হবে এই নতুন বিধি।

রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা থেকে মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্নাটক ও তেলেঙ্গানা থেকে বিমানে আগত ব্যক্তিদের RT-PCR পরীক্ষার রিপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক করা হল। ওই রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই মিলবে এই রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি। বিমান ছাড়ার সময়ের থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার বেশি পুরনো হলে চলবে না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, এই পরিস্থিতিতে বাংলায় ফের করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাক, সেটা চাইছে না নবান্ন। ফলে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া চার রাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের নিয়ন্ত্রিত ভাবেই রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দিতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। তবে বাকি রাজ্যের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না আপাতত।

ষাটোর্ধ্বদের সরকারি করোনা টিকা বিনামূল্যে, বেসরকারিতে লাগবে টাকা

কেন্দ্রীয় সরকার আগেই জানিয়েছিল ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং ৪৫ বছরের নীচে যাদের কো-মর্বিডিটি আছে তাঁদের করোনার টিকা দেওয়া হবে পরবর্তী পর্যায়ে। আগামী ১ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে করোনার টিকার এই দ্বিতীয় পর্যায়। বুধবারই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা এই বিষয়ে চুরান্ত ছাড়পত্র দিল। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে যেমন সরকারি টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়া যাবে, তেমনই বেসরকারি কেন্দ্র থেকেও টিকা নিতে পারবেন ইচ্ছুকরা। তবে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে গেলে টাকা দিতে হবে ইচ্ছুকদের।  তবে কত টাকা দিতে হবে সেটা এখনও জানানো হয়নি।  কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক অবশ্য আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে। ঠিক হয়েছে দ্বিতীয় দফায় প্রাথমিকভাবে ১০,০০০ সরকারি এবং ২০,০০০ বেসরকারি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। অপরদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রত্যেকটি মানুষকেই বিনামূল্যে টিকা দিতে চান।



ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনার ‘ভারতীয়’ স্ট্রেন

অবশেষে মহারাষ্ট্র, কেরলের নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার কারন উদ্ধার করলো অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স বা এইমস। সংস্থার প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া সংক্রামণের কারণ কোভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন বা প্রজাতি। তিনি আরও জানান, ভারতে সঙ্কটের মেঘ কেটে গিয়েছে বলে ভাবলে ভুল হবে। কারণ এই ভারতে খুঁজে পাওয়া করোনার নতুন প্রজাতি আরও ভয়ানক এবং এর ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেক বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, প্রথমত এই নতুন স্ট্রেনটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরে, দ্বিতীয়ত শরীরে প্রবেশ করলে নানা রকম ক্ষতি করতে পারে। যা আগের ভাইরাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, এই নতুন স্ট্রেনটি যারা পুর্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের শরীরেও বাসা বাধতে পারে। এমনটা শোনা যাচ্ছিল একবার করোনা আক্রান্ত হলে আর ফের হবে না কারণ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। কিন্তু সেই ধারণাকে নস্যাৎ করে জানানো হচ্ছে করোনার নতুন স্ট্রেনে করোনার অ্যান্টিবডি কাজ করবে না। আপাতত দেশে ২৪০ জনের শরীরে করোনার নতুন ভারতীয় সংস্করণের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর বর্তমানে ভারতে উর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের পিছনেও এই নতুন স্ট্রেন রয়েছে বলেই মনে করছে দিল্লির এইমস। মহারাষ্ট্র ছাড়াও কেরল, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় এবং পঞ্জাবে গত কয়েক দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েছে।

ফের 'করোনা' সংকটে মহারাষ্ট্র, কেরল

বিগত কয়েকদিন ধরেই হু হু করে করোনা সংক্রমণ কমছিল সারা ভারতেই। সেইসঙ্গে কমছিল মহারাষ্ট্র এবং কেরলেও। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত দিন দশেক ধরে ফের প্রকোপ বেড়েছে এই দুটি রাজ্যে। একসময় এই দুই রাজ্যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। মাঝখানের সাময়িক বিরতির পর ফের কিভাবে সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ছে সেটা বিশেষজ্ঞরা বুঝে উঠতে পারছেন না। এটি কি পুরনো ভাইরাস, নাকি বিলেতে হওয়া নয়া করোনা স্ট্রেন? সেটা নিয়েই ধন্ধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে জানা গিয়েছে শুধু ব্রিটেনে সীমাবদ্ধ নয় নতুন করোনা স্ট্রেনটি। বর্তমানে ছড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক তদন্ত করে দেখে নিতে চাইছে মহারাষ্ট্র ও কেরলে আচমকা করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ। এই নতুন ভাইরাস অনেক বেশি সংক্রামক, কিন্তু সুখের বিষয় এই যে এর শক্তি পূর্বতন করোনা ভাইরাসের চেয়ে কম। কিন্তু তাই বলে চুপ করে নেই দেশের সরকার বা এই দুই রাজ্য। তারা আক্রান্তদের পরীক্ষা করে দেখছে।
কেরলের বাম সরকার এবং মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরের জোট সরকার বহিরাগতদের পরীক্ষা না করে কোনও শহরে ঢুকতে দিচ্ছে না। বিমানবন্দরগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মাস্ক ছাড়া কারুকে রাস্তায় দেখলে পুলিশ তাকে জরিমানা করবে। এমন কি গ্রেফতার পর্যন্ত করতে পারে। মহারাষ্ট্র কয়েকটি জেলায় ফের লকডাউন করেছে প্রশাসন। আগামী দিনে তেমন হলে গোটা মহারাষ্ট্ৰেই লকডাউন হবে জানিয়েছেন উদ্ধব সরকার।                

আজ থেকেই খুলছে তারকেশ্বর মন্দিরের গর্ভগৃহ

করোনার জেরে প্রায় একবছর পর খুলছে তারকেশ্বর মন্দিরের গর্ভগৃহ৷ বুধবার থেকেই ভক্তরা প্রবেশ করতে পারবেন সেখানে। তবে মেনে চলতে হবে করোনা সতর্কতা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি। প্রসঙ্গত, আনলক পর্বে গত বছরই  সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকেই তারকেশ্বর মন্দির খুলে দেওয়া হলেও গর্ভগৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ 

তারকেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নয়া নির্দেশিকায় এবার ভক্তরা গর্ভগৃহে ঢুকে পুজো দিতে পারবেন৷  নির্দিষ্ট সময়  অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত খোলা থাকবে গর্ভগৃহ৷ ৬ জনের বেশি গর্ভগৃহে ঢোকা যাবে না৷ গর্ভগৃহে ঢুকতে হলে  মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক৷

কোভিডে লাভবান ব্যবসায়ীদের ওপর ট্যাক্স চাপাল ব্রিটেন

করোনা আবহে বিশ্বের প্রচুর ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবার উল্টো ঘটনাও ঘটেছে অনেক ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে। ব্রিটিশ সরকার করোনাকালে ধনবৃদ্ধির ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত কর বসাল। তাদের সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে, বেশকিছু ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনও না কোনও ব্যবসায়ী লাভবান হবেন। কাজেই যারা এই কঠিন সময়ে অতিরিক্ত লাভবান হয়েছে তাদের উপর বিশেষ ট্যাক্স বসানো হল। এই ঘটনা দেখে প্রশ্ন উঠেছে আমাদের দেশেও। প্রশ্ন এসেছে, দেশের এক শ্রেণীর অতি ধনবানরাও কোভিড কালে কোটি কোটি টাকা লাভ করেছে। তবে কেন অর্থমন্ত্রী তাঁদের কেন উপর বিশেষ কর বসবেন না?

আমাদের দেশে অর্থনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ব্রিটেনের মতো আমাদের দেশে এক শ্রেণীর 'বিশেষ ধানবান' আছেন যাঁরা করোনা আবহে নিজেদের ব্যবসার ফায়দা তুলে কোটি টাকা লাভ করেছেন এবং তাঁরা যুক্তি দেন আন্তর্জাতিক মানবধিকার সংগঠন 'অক্সফ্যাম'এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের। সংস্থাটি জানাচ্ছে, দেশের অতি ধনীরা করোনা আবহে তাঁদের সম্পদ বাড়িয়েছেন ৩৫ শতাংশ। 

প্রতি পাঁচজনে একজন করোনা আক্রান্ত, জানাল আইসিএমআর

প্রতি পাঁচজন ভারতীয়ের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় দফার সেরোলজিকাল সমীক্ষার পর এই তথ্য জানিয়েছে আইসিএমআর। তারা বলছে, আগস্ট থেকে ডিসেম্বর প্রায় তিনগুণ সংক্রমণ বেড়েছে। মে মাস থেকে ধরলে তা প্রায় ৩০ গুণ। মে মাসেই আইসিএমআরের আগের সমীক্ষাটি হয়েছিল। 

তারা বলছে, এখনও জনসাধারণের একটা বড় অংশ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। টিকাকরণ তাই জরুরি। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব মানায় কোনও শিথিলতা চলবে না, জানিয়েছেন আইসিএমআরের ডিরেক্টর বলরাম ভার্গব।  দেশের ২১টি রাজ্যের ৭০টি জেলায় এই সেরোলজিকাল সমীক্ষা করা হয়েছিল। তাদের হিসেবে, সবমিলিয়ে জনগণের ২১ শতাংশই করোনায় সংক্রমিত হয়েছিলেন। দেশে এখন ১ কোটির কিছু বেশি করোনায় আক্রান্ত।  প্রকৃত হিসেব বলছে, অন্তত ২৭ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রতিটি নিশ্চিত সংক্রমণ পিছু তা ২৭টি কেস। 

গত সেপ্টেম্বর থেকেই দেশে করোনার সংক্রমণ কমতির দিকে। বৃহস্পতিবার মাত্রই ১২ হাজার নতুন সংক্রমিত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে সেরোসার্ভেতে পুরো ছবিটা পাওয়া যায় না। অ্। ধরেনর সীমক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দেশের নাগরিকদের অর্ধেকই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইসিএমআরের আগের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, গ্রামীণ এলাকায় ৫.২ শতাংশের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এবারের সমীক্ষায় তা হয়েছে ১৯ শতাংশ। 

আন্দামান নিকোবর এখন করোনামুক্ত

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এখন করোনামুক্ত। দেশের মধ্যে প্রথম এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছে শূন্যে। করোনায় আন্দামান-নিকোবরে শেষ যে ৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁরা সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। সবমিলিয়ে সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪,৯৩২ জন, মারা গিয়েছেন ৬২ জন।

তবে উদ্বেগ কেরল নিয়ে। সারা দেশের মোট করোনার আক্রান্তের ৫১.৮ ভাগই কেরলের। সেখানে সক্রিয় রোগীও বেশি। মোট ১ লাখ ৬১ হাজার অ্যাক্টিভ রোগীর মধ্যে কেরলেই ৬৯,১৫৭ জন। মৃতের নিরিখে এখনও এগিয়ে মহারাষ্ট্র। তবে গত দুদিনে মহারাষ্ট্রে ৪০০-রও কম সংক্রমণ হয়েছে। বুধবার দেশে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১১,০৩৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ১১০ জন। 


আগামী জুনে ভারতে আসছে তৃতীয় করোনা টিকা কোভাভ্যাক্স

আগামী জুনে আরও একটি করোনার টিকা আসছে দেশে। সিরামের প্রধান আদার পুনেওয়ালা শনিবার জানিয়েছেন, তাঁরা আরও একটি টিকা বাজারে আনতে পারবেন। এটি অনুমোদিত হলে তা হবে ভারতের তৃতীয় করোনা টিকা। সিরাম জানিয়েছে, নতুন টিকার নাম কোভাভ্যাক্স। এখন তার পরীক্ষা চলছে। তার ফল খুবই ভালো।

আদার টুইটারে জানিয়েছেন, নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে তাঁদের অংশীদারিতে কোভাভ্যাক্সের কার্যকারিতা দারুণ। ভারতে পরীক্ষা শুরুর জন্য তাঁরা আবেদন করেছেন। জুনের মধ্যেই তা তৈরি হয়ে যাবে। ১৬ জানুয়ারি দেশজুড়ে টিকাকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। সিরামের কোভিশিল্ড আর ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন জরুরি ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহযোগিতায় কোভিশিল্ড তৈরি করছে সিরাম। 


দেশে নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ডোজ করোনার টিকা

দেশে প্রায় ৫ হাজার ডোজ করোনার টিকা নষ্ট হয়েছে। সবথেকে বেশি টিকা নষ্টের ঘটনা ত্রিপুরায়। ১১ শতাংশ টিকা নষ্ট হয়েছে ত্রিপুরাতেই। কাণ হিসেবে বলা হয়েছে, টিকার ভায়াল খোলার পর যথেষ্ট সংখ্যায় টিকাগ্রহীতা পাওয়া যায়নি। ভায়াল খোলার পর চারঘণ্টার মধ্যে টিকা দিতে হয়। নইলে তা নষ্ট হয়ে যায়। টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের তরফে নানারকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৬ জানুয়ারি থেকে টিকাদান কেন্দ্রের ১০০ জনের মধ্যে এসেছেন গড়ে ৫৫ জন। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা ছিল প্রতি ১০০ জনে ৪৯ জন। মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ লাখের মতো।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, আন্দামান, হিমাচলপ্রদেশ, জম্মপ়ু কাশ্মীর, কেরল ও ছত্তিশগড়ে টিকার কোনও ডোজ নষ্ট হয়নি। পাটনার নালন্দা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নষ্টের পরিমাণ গত সপ্তাহে ছিল ২৫ শতাংশ। উত্তরাখণ্ডে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ ৪.১ শতাংশ। নষ্ট হয়েছে ১৪,৫০০ ডোজ। ওডিশায় নষ্ট হয়েছে ১,১২৫ ডোজ। পাঞ্জাবে নষ্ট হয়েছে ১,২০০ ডোজ। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের নষ্ট হওয়ার সংখ্যা বেশি। কারণ সিরামের কোভিশিল্ডের তুলনায় তাদের ভায়ালের সাইজ বড়।