৩৮ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে ইকিমধ্যেই। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল রাজ্যের ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল শুক্রবার দুপুরে। এর কিছু সময় পরই বামফ্রন্ট প্রথম দুই দফার ৩৮ আসনে তাঁদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক সম্মেলন করেই আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন। উল্লেখ্য, প্রথম দুই দফায় মোট ৬০ আসনে ভোট হবে মূলত পুরুলিয়া বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরে। এরমধ্যে নন্দীগ্রাম আসনটি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তাই সেখানকার প্রার্থীর নাম জানানো হল না বলেই জানিয়েছেন বিমান বসু।


তবে সূত্রের খবর, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নন্দীগ্রাম আসনটি আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফ পেতে পারে। প্রথম দুই দফায় ৬০ আসনের মধ্যে বামফ্রন্টের ভাগে পড়েছে ৩৮টি আসন। বাকি গুলিতে কংগ্রেস এবং আইএসএফ প্রার্থী দেবে। এদিন বামেদের প্রার্থী তালিকায় কয়েকটি হেভিওয়েট নাম রয়েছে। প্রত্যাশা মতোই শালবনি থেকে প্রার্থী হলেন সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। গড়বেতায় তপন ঘোষ টিকিট পেলেন। ঝাড়গ্রাম থেকে ডিওয়াএফআই নেত্রী মধুজা সেন রায়কে টিকিট দিয়েছে সিপিএম। রানীবাঁধ থেকে টিকিট পেলেন লড়াকু সিপিএম নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম। বিমান বসু জানিয়েছেন, কংগ্রেস হাইকমান্ড দিল্লি থেকেই তাঁদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে। অপরদিকে আইএসএফ নিজেদের মতো করেই প্রার্থী তালিকা জানিয়ে দেবে। তাই সংযুক্ত মোর্চার শরিকদের প্রাপ্য আসনগুলি বাদ দিয়েই এদিন বামফ্রন্ট নিজেদের প্রার্থীদের নাম জানালেন। এরমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা, দাসপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, এগরা, ঝাড়গ্রামের কাশীপুর কেন্দ্রে এখনও কারা লড়বেন সেটা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।  


দেখে নিন উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের নাম ও কেন্দ্র—


তমলুক – গৌতম পণ্ডা (সিপিএম)
পাঁশকুড়া পূর্ব – শেখ ইব্রাহিম আলি (সিপিএম)
পাঁশকুড়া পশ্চিম – চিত্তদাস ঠাকুর (সিপিএম)
হলদিয়া – মণিকা কর ভৌমিক (সিপিএম)
নন্দীগ্রাম – সিদ্ধান্ত হয়নি
কাঁথি উত্তর – সুতনু মাইতি (সিপিএম)
কাঁথি দক্ষিণ – অনুরূপ পণ্ডা (সিপিআই)
চণ্ডীপুর – আশিস গুছাইত (সিপিএম)
পটাশপুর – সৈকত গিরি (সিপিআই)
কেশিয়াড়ি – পুলিনবিহারী বাস্কে (সিপিএম)
খড়গপুর গ্রামীণ – শেখ সাদ্দাম আলি (সিপিএম)
গড়বেতা – তপন ঘোষ (সিপিএম)
শালবনি – সুশান্ত ঘোষ (সিপিএম)
ঝাড়গ্রাম – মধুজা সেন রায় (সিপিএম)
রানিবাঁধ – দেবলীনা হেমব্রম (সিপিএম)

ব্রিগেড আপডেটঃ জনসমুদ্র দেখে সিপিএম বলল ‘পরিবর্তন’ আসবেই

একুশের বিধানসভা প্রচারের প্রথম ব্রিগেড সমাবেশ চলছে রবিবার। কানায় কানায় পূর্ণ ব্রিগেড ময়দান। সিপিএমের লাল, কংগ্রেসের তিরঙ্গা এবং আব্বাসের দলের নীল-সবুজ পতাকায় ছয়লাপ ব্রিগেড। বামফ্রন্টের ডাকা ব্রিগেডে আমন্ত্রিত জোটসঙ্গী প্রদেশ কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকীর নতুন রাজনৈতিক দল আইএসএফ। এদিন বিভিন্ন বক্তা জোটের যথার্থতা বোঝাতে নানান যুক্তি যেমন দিয়েছেন, তেমনই রাজ্যের তৃণমূল সরকার এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও আক্রমণ করেন। ব্রিগেডে জনসমুদ্র দেখে উচ্ছ্বসিত বাম নেতারা রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তেমনই কংগ্রেস নেতারা ভাষণে বেশি ব্যস্ত থাকলেন নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপিকে আক্রমণ করতে।


সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি যেমন বলেই দিলেন, বাংলায় পরিবর্তন আনবে এই সংযুক্ত মোর্চা। পাশাপাশি তিনি বলেন, এই রাজ্যে সারদা-নারদ কেলেঙ্কারি দেখেছে সবাই, বিজেপি ও তৃণমূল একই। তাই পরিবর্তন আনা জরুরী। সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রও প্রায় একই সুরে বললেন, মুখ্যমন্ত্রী এমন করেছেন পুরো দলটাই বিজেপি হয়ে গিয়েছে। তাই এই জোট দরকার। শেষ কথা বলবে মানুষের ঐক্য, দাবি সূর্যকান্তবাবুর। তিনি আরও বলেন, মানুষই ঠিক করে দেবে কী হবে, কেমন সরকার চাই। তবে তিনি বাম কর্মী ও নেতৃত্বকে এটাও মনে করিয়ে দেন, মানুষ কিছু বললে তা মাথা পেতে নিতে হবে। আমাদের কথা নয়, মানুষের সঙ্গে কথা হবে আবার আমাদের কথা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।