সিবিআইয়ের নতুন অধিকর্তা হলেন সুবোধকুমার জয়সওয়াল

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বেছে নিল সিবিআইয়ের নতুন অধিকর্তাকে (CBI Director)। সিবিআই এর নতুন অধিকর্তা হলেন সুবোধকুমার জয়সওয়াল। তিনি মহারাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) ডিরেক্টর জেনারেল পদে আসীন ছিলেন। সিবিআই ডিরেক্টর পদে যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করার ওই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়া রয়েছেন‌ দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা ও লোকসভায় বিরোধী নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন ঋষিকুমার শুক্লা। এরপর থেকে পদটি খালি ছিল। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর প্রবীণ সিনহা। সোমবারই এই কমিটি বৈঠক করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পুরোনো একটি রায় উল্লেখ করে কেন্দ্রের বাছাই করা দুই প্রার্থীর নাম বাতিল করে দেন। এরপর আজ ফের ওই কমিটি বসে বৈঠকে। অবশেষে সিবিআইয়ের ডিরেক্টর হিসেবে সুবোধকুমার জয়সওয়ালের নাম চুরান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি।

Cbi-withdraws-case-from-supreme-court-of-narada-case

সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নারদ মামলা সরানোর আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল। মঙ্গলবার মামলার শুনানি শুরু হতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এরপরেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিবিআই। তার ফলে আবারও কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে (পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে) ফিরল নারদ মামলা।


সর্বোচ্চ আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিন সাওয়াল শুরু হতেই সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, ‘হাই কোর্টের বিচারপতিরাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এই জায়গাটা লক্ষ্য করুন, ‘ওই ব্যক্তিরা কী প্রভাব ফেলেছিল’। প্রত্যেকে তা জানেন। ওই ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল। সিবিআই কী করতে পারে? তাদের প্রভাব এবং ঔদ্ধত্য দেখুন’। কিন্তু বিচারপতিদের পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমরা যখন আইনজীবী ছিলাম, আমরা কি চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সওয়াল জবাব করতাম?’ পরে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের বিচারপতিরা বলেন, ‘আমাদের নির্দেশ শুনুন। এই শুনানির উপর ভিত্তি করে আমরা কিছু রায় দিতে চাই না। সিবিআইয়ের আইনজীবী স্বীকার করেছেন, হাই কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি শুনছেন। তাই তাঁর কাছে অনুরোধ, হাই কোর্টের কাছেই তাঁরা সমস্ত বিষয়টি উত্থাপন করুন। হাই কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ কী রায় দেয় সে দিকে আমরা নজর রাখব’। এরপরই সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার মেহতা জানিয়ে দেন, মামলা প্রত্যাহার করার বিষয়টি। ফলে আগামী বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চেই নারদ মামলার শুনানি হবে।

সিবিআইয়ের আর্জি খারিজ হাইকোর্টে

সোমবার হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে নারদ মামলার শুনানি ছিল কিন্তু শুনানি বাতিল করার আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই | মধ্যরাতে তারা এই আবেদন করে | আজ বেলা ১১ টাতে সময়মতো হাইকোর্টে উপস্থিত হন ৫ বিচারপতি | সিবি আইয়ের আইনজীবী প্রথমেই আবেদন করেন যেন এই শুনানি কয়েক ঘন্টার জন্য স্থগিত করা হয় কিন্তু বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় পরিষ্কার বার্তা দেন, শুনানি চলবে কারণ এখনও সুপ্রিমকোর্ট থেকে কোনও বার্তা আসেনি | আবার জামিনের বিরোধী প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল বলেন, একদম গোড়া থেকে মামলা ফের শুনতে চান তারা | এতে অখুশি হয়ে ববি হাকিমদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, আলোচনা দীর্ঘ কেন? তিনি বলেন, সিবিআই অকারণে বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব নিচ্ছে যা অত্যন্ত বেদনার | বিচারপতি মুখোপাধ্যায় জানান, শুনানি চলবে | শোনা যাচ্ছে বিচারপতিরা আজই ফায়সালা কোরতে চাইছেন | তিনটি ঘটনা হতে পারে ১) অন্তর্বতীকালীন জামিন ২) জামিন ৩) গৃহবন্দী 

হাইকোর্টের বৃহত্তম বেঞ্চকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই

সোমবার নারদ মামলার বৃহত্তম বেঞ্চের শুনানি ছিল সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টে | এই শুনানিতে উপস্হিত থাকার কথা প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি সোমেন সেন ও বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন | কিন্তু রবিবার মধ্য রাতেই সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে, কলকাতা হাইকোর্টের শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন রেখেছে | সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এ বিষযে শুনানি হওয়ার কথা | এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত হয়ে যেতে পারে | প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দুই বিচারপতির রায়দানে মতপার্থক্য হওয়াতে ববি হাকিম সহ ৪ নেতাকে গৃহবন্দীর আদেশ দেওয়া হয়, যাকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহত্তম বেঞ্চে যাওয়ার পথে যেতে বাধ্য হয় ববিদের আইনজীবী | এখন সমস্ত বিষয়টি প্রশ্নের মুখে

বাড়ি ফিরলেন ফিরহাদ, তবে থাকতে হবে কড়া নজরদারিতে

শুক্রবারই শর্তসাপেক্ষ জামিন পান নারদ মামলায় ধৃত চার নেতা। কিন্তু মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ থাকায় এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে বাড়ি ফিরলেন রাজ্যের পরিবহন ও আবাসন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে চেতলার বাড়ি পৌঁছান। ফলে স্বভাবতই খুশি তাঁর পরিবার। তবে এই অবস্থায় তাঁকে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হবে সিবিআই এবং আদালতের কড়া নজরদারিতে।


 ফিরহাদের অপেক্ষায় পরিবার...



এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে দেওয়া হোক মন্ত্রী বিধায়কদের। পরে আদালত তাঁদের আংশিক অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাঁদের সব কাজই করতে হবে অনলাইনে। ফাইল আসবে অনলাইনে, আলোচনা করতে হবে ভিডিও কনফারেন্সে। যদি কোনও সরকারি আধিকারিক তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তবে তাঁদের যাবতীয় তথ্য নথিভূক্ত করতে হবে। প্রত্যেকের বাড়ির সামনে তিনটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। যদিও সিসিটিভি নাও থাকে তবে সেটার ব্যবস্থা করতে হবে জেল কর্তৃপক্ষকে। গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালাবে আদালত এবং সিবিআই আধিকারিকরা।

গুরুতর অসুস্থ মদন, সুব্রত ও শোভন হাসপাতালেই

নারদ মামলায় ধৃত চার নেতাই অসুস্থ। তবে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অসুস্থ হলেও প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারেই রয়েছেন। কিন্তু বাকি তিন নেতা মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় ভর্তি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্টের নতুন রায় এসেছে। তাতে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন হলেও সিবিআইয়ের নজরদারিতে গৃহবন্দি থাকতে হবে। কিন্তু এই তিন নেতা এতটাই অসুস্থ যে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া সম্ভব নয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।  মদন মিত্র হাই সুগার রোগে আচ্ছন্ন। তাঁর COPD সমস্যাও রয়েছে। আবার সম্প্রতি করোনা হওয়ার পর তাঁর ফুসফুসে গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। ফলে শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। তাই মদন মিত্রর অক্সিজেন থেরাপি চলেছে। দেওয়া হচ্ছে সি-প্যাপ। সূত্রের খবর, শুক্রবার তাঁর অবস্থার অবনতি হয়েছে।


অপরদিকে, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সিরোসিস অফ লিভার ধরা পড়েছে।  এর সাথে রয়েছে হাই সুগার। জানা যাচ্ছে শোভন চট্টোপাধ্যায়েরও COPD সমস্যা রয়েছে। তাঁর অবস্থাও স্থিতিশীল নয় | পাশাপাশি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাইপার টেনশনের সমস্যা সঙ্গে COPD সমস্যা রয়েছে। ফলে সুব্রত এবং শোভনকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়েছে। ফলে গৃহবন্দির নির্দেশ থাকা সত্বেও হয়ত তাঁদের হাসপাতালেই থাকতে হবে আপাতত। একমাত্র ব্যাতিক্রম ফিরহাদ হাকিম। সামান্য অসুস্থতা থাকলেও আদালতের রায়ে আপাতত প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার বাড়ি ফিরতে পারবেন তিনি।  

নারদ মামলায়শুনানি শুরু , আজই কি ভাগ্য নির্ধারণ চার নেতার?

নারদ মামলার শুনানি শুরু হল কলকাতা হাইকোর্টে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চেই শুরু হল শুনানি। নারদ মামলায় সিবিআই তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং মদন মিত্র এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালত। রাতেই সেই জামিনে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপর চার নেতাই এই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টে। যেই আবেদনেরই শুনানি চলছে। অপরদিকে সিবিআই আবেদন করেছে মামলা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার। গত বুধবার এই মামলার শুনানি হয় প্রায় আড়াই ঘন্টা। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কলকাতা হাইকোর্ট। আজ শুক্রবার ফের শুরু হল শুনানি। সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী তুষার মেহতা এবং চার নেতার হয়ে লড়ছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। গোটা বাংলার নজর এখন এই মামলার দিকেই।

নারদ মামলাঃ আজ ফের শুনানি হাইকোর্টে, উদ্বেগে চার নেতা

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের নারদ মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। আপাতত রাজ্যবাসীর নজর আদালতের দিকেই। রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ কী আজ হবে? নাকি জেলেই থাকতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি চার নেতার শারীরিক পরিস্থিতির উপরও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। বুধবার জামিন মামলার শুনানি না শেষ না হওয়ায় এখনও জের হেফাজতেই রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়। এদের মধ্যে তিন জন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় ভর্তি রয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালে। শুধুমাত্র মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। চারজনেরই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, চারজনই নেগেটিভ। প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবার হালকা জ্বর ছিল ফিরহাদ হাকিমের। জেলের হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা হয়। তবে বৃহস্পতিবার তাঁর জ্বর নেই। রাতে স্বাভাবিক খাবারই খেয়েছেন তিনি। অপরদিকে, এসএসকেএম হাসপাতালে সুব্রত, মদন এবং শোভনের চিকিৎসা চলছে, তাঁদের উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকদের প্যানেল। ওই তিন নেতারই রক্তচাপ ওঠানামা করছে। মদন মিত্রকে টানা অক্সিজেন দিতে হচ্ছে, তাঁর বাইপ্যাপও দিতে হয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে বৃহস্পতিবারও যদি শুনানি শেষ না হয় তবে তাঁদের আরও বেশি সময় জেল হেফাজতে থাকতে হবে। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো থেকে শুরু হওয়া শুনানির দিকে তাঁকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।

ফের আদালতে শুনানি বৃহস্পতিবার

সমস্ত বাংলা জুড়ে বুধবার ছিল টেনশনের দিন কারণ সিবিআই এর নারদ কাণ্ডে জেলে তিন বিধায়ক বা মন্ত্রী ও একজন প্রাক্তন বিধায়ক | সিবিআয়ের তরফ থেকে আইনজীবী তুষার মেহেতা, সহযোগী ওয়াই এস দস্তুর অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সহযোগী সিদ্ধার্থ লুথরা আজ সওয়াল জবাবে ছিলেন | নানা প্রশ্ন ছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ, রাজেশ বিন্দাল ও অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়দের পক্ষ থেকে | শেষ পর্যন্ত আগামীকাল অবধি স্থগিত থাকলো শুনানি, যা শোনা হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টোর পর | ফলে আজ ফের জেলে থাকতে হবে ববি হাকিমকে এবং হাসপাতালে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে |   

মামলা সরানোর আর্জি সিবিআইয়ের, পার্টি করা হল মুখ্যমন্ত্রীকে

কলকাতা হাইকোর্টে নারদ মামলা অন্যত্র সরানোর আর্জি জানাল সিবিআই। আদালত সূত্রে খবর, আইনের ৪০৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই মামলাটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়েছে সিবিআই। আর বড় খবর হল এই মামলায় সিবিআই যুক্ত করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ওই আর্জিতে সিবিআই দাবি করছে, পশ্চিমবঙ্গে মামলাটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে। কারণ সোমবার রাজ্যের ৪ হেভিওয়েট নেতাকে নিজাম প্যালেসে গ্রেফতার করার পরই মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। প্রায় ৬ ঘন্টা তিনি নিজাম প্যালেসে ছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন ছিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। অপরদিকে সিবিআই-এর দাবি, সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে গোলমাল করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ধৃত চার নেতা-মন্ত্রীর আবেদনের শুনানি বুধবার বেলা ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে সেটি পিছিয়ে বেলা ২টো নাগাদ শুরু হবে।

মুকুল-শুভেন্দু কেন গ্রেফতার নয়? জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে

নারদ ঘুষ তদন্তে সোমবারই চারজন হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। যা নিয়ে সোমবার দিনভর তোলপাড় রাজ্য। মঙ্গলবার সকাল থেকেও ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এবার নয়া সংযোজন আরেকটি জনস্বার্থ মামলা। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল এই জনস্বার্থ মামলা। মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীকে কেন গ্রেফতার করা হল না একই অপরাধে? এই মর্মেই দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়ের নাম উল্লেখ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী। জানা যাচ্ছে, নারদ মামলায় তাঁর আগের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাতে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।


সোমবার এক লিখিত বিবৃতিতে অমিতাভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আমার যতদূর মনে পরে বাংলার কোনও নেতা-মন্ত্রীকে এইভাবে হাত পেতে টাকা নিতে টিভির পর্দায় দেখিনি। এইসব অন্য রাজ্যে হয়,  বাংলায় হয় না। সেই জন্যই মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টে কাছে আমার আবেদন ছিল যে, যিনি স্ট্রিং অপারেশন করেছেন তিনি অপরাধী,  না যে সব নেতাদের টাকা নিতে দেখা গেছে তাঁরা অপরাধী,  সেটাই বিচার হোক। সিবিআই আমাকে যখন ডেকেছিল তখনও একই কথা তাঁদেরও বলেছিলাম। তবে হাইকোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না। জানা যাচ্ছে লকডাউনের পরে এই মামলা শোনা যেতে পারে বলেই মত প্রধান বিচারপতির।

নারদ মামলাঃ সুপ্রিম কোর্টে যাবে তৃণমূল? আগাম ক্যাভিয়েট দাখিল করছে CBI

নারদ মামলায় এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে। সূত্রের খবর, হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। অপরদিকে সিবিআইয়ের তরফেও আগাম ব্যবস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করতে চলেছে বলেই জানা যাচ্ছে। এর অর্থ, যদি কোনও পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়, তবে সিবিআইকে না জানিয়ে এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। যদিও তৃণমূলের আরেকটি সূত্র মারফৎ অবশ্য জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট নয়, হাইকোর্টেই করা হবে আইনি লড়াই। যদিও আঁটঘাট বেধেই আইনি লড়াইয়ে নামতে চাইছে সিবিআই। তবে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থই হচ্ছে শাসকদলের ধৃত নেতারা। সোমবারই সিবিআই নারদ মামলায় রাজ্যের তিন বিধায়ক ও প্রাক্তন মেয়রকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবেই সুপ্রিম কোর্টে আগাম ক্যাভিয়েট দাখিল করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।


শাসকদল সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাইকোর্টের গতকালের নির্দেশের পুনর্বিবেচনা করতে কলকাতা হাইকোর্টেরই দ্বারস্থ হচ্ছেন ধৃত তৃণমূলের তিন বিধায়ক। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও একই আবেদন করেছেন। মঙ্গলবারের মধ্যেই যাতে শুনানি হয় সেই আবেদনও করা হচ্ছে। আপাতত হাইকোর্টে আইনি লড়াই করে তাদের সিবিআইয়ের হেফাজত থেকে মুক্ত করে আনাই লক্ষ্য তৃণমূল কংগ্রেসের। সুপ্রিম কোর্টে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই আপাতত নেওয়া হয়েছে। কারণ বিষয়টিকে সুপ্রিমকোর্টে নিয়ে গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আর আলোচনা চাইছে না বাংলার শাসক দল।

জেলে অসুস্থ মদন, শোভন

শেষ পর্যন্ত জেলেই যেতে হলো ববি হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়দের | জেলে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন মদন, শোভন | তাঁদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় | তখন বাজে ভোর ৪ টা | পরে বর্ষীয়ান সুব্রত মুখোপাধ্যায় অসুস্থ বোধ করেন, তাঁকে ডাক্তারি পরীক্ষা করে ফের জেলে ফেরত পাঠানো হয় | সম্পূর্ণ ঘটনায় স্তম্ভিত রাজ্যের মানুষ | আগামী বুধবার এঁদের মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে | জানা গিয়েছে সূত্র মারফত সেখানেও সিবিআই এর মামলা তাদের বিরুদ্ধে গেলে সুপ্রিম করতে যাবে |


জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের, আপাতত জেলেই চার নেতা

সোমবার সকালে গ্রেফতার থেকে শুরু হয় দিনভর টানাপোড়েনের। সন্ধ্যায় ব্যাংকশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালত দুই মন্ত্রী সহ চার নেতার জামিন দেয়। শর্ত সাপেক্ষে ব্যক্তিগত ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন হয় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। সেইমতো জামিন নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন চার নেতা। এরমধ্যেই সিবিআই হাইকোর্টে আবেদন করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে। রাতেই জরুরী ভিত্তিতে আবেদন শোনেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ওই আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানি শুরু হয়। শেষে নিম্ন আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে দুই মন্ত্রী সহ চার নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠায় পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত। আগামী বুধবার এই মামলা ফের শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট। ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে চার হেভিওয়েট নেতার জন্য।

সকালে গ্রেফতার, সন্ধ্যায় জামিন, স্বস্তি তৃণমূলে

দিনভর নাটক ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে জামিন পেলেন সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই মন্ত্রী সহ চারজন। ব্যাংকশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতে হল ভার্চুয়াল শুনানি। সোমবার বিকেলে শুরু হয় ভার্চুয়াল শুনানি।  পরে ধৃত ৪ জনেরই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে বিশেষ সিবিআই আদালত। ব্যক্তিগত ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্ট যেতে পারে সিবিআই। তবে স্বস্তি ফিরে এসেছে তৃণমূল শিবিরে। প্রসঙ্গত নারদ কাণ্ডের তদন্তে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার পুরপ্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। দিনভর নাটকের পর অবশেষে জামিন পেলেন চারজনই।