সৌমিত্র খাঁ-র ডিগবাজি

বুধবার ফেসবুকে পোস্ট করে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন সৌমিত্র। তারপর ২৪ ঘন্টা না কাটতেই ডিগবাজি খেলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি পদত্যাগ করছেন না। দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুরোধেই তাঁর সুরবদল। যদিও রাজ্য বিজেপি বলছে অন্য কথা। তাদের কথায়, ওঁকে কেউ চাপ দেয়নি। সৌমিত্র নিজেই চাপ দিতে চেয়েছিলেন। কাজ হবে না বুঝতে পেরে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।

বুধবার মোদীর মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ আগেই দলীয় পদ ছাড়েন তিনি।  নিজের ফেসবুক পেজে সৌমিত্র লেখেন, "আজ থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতে আছি, আগামী দিনে বিজেপিতে থাকব, ভারত মাতা কি জয়।"

উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ ভাগের দাবি উঠতেই সৌমিত্র জঙ্গলমহল ভাগের কথা বলেন। আর তাতেই দলের অনেকে সৌমিত্রের উপর বিরাগভাজন হয়েছিলেন। তার আগেও বেশ কয়েকবার লাগামহীন মন্তব্য করেছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

বাংলা থেকে ৪ বিজেপি সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, বাদ দেবশ্রী ও বাবুল

বাংলা থেকে নতুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় জায়গা পেলেন ৪ জন। এরা হলেন শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লা ও সুভাষ সরকার। এই মূহুর্তে রাষ্ট্রপতি ভবনে চলছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে এবারও মোদী সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী পাচ্ছে না বাংলা।

বিস্তারিত আসছে

বক্তব্যে অটল কিন্তু দল আগে : সৌমিত্র খান

সৌমিত্র খানের আলাদা জঙ্গলমহল রাজ্যের দাবি করেছিলেন কয়েকদিন আগে , বিতর্ক হয়েছিল যথেষ্ট কিন্তু বৃহস্পতিবারও সেই দাবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন নি | আগামী ২৯ জুন রাজ্য বিজেপির কার্যকারিনী বৈঠক | উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা | দলের অন্দর থেকে শোনা গেলো ওই বৈঠকে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন নেতার, বিশেষ করে ভোট পর্বের নানা সির্দ্ধান্ত নিয়ে | এই সভাতে সৌমিত্র খান এবং জন বার্লার উৎপাটন মন্তব্য নিয়েও সরব হবেন সিংহভাগ নেতারা বলেই সংবাদ |

সৌমিত্র খান কিন্তু রাজ্যভাগের বক্তব্যে আজও অটল | CN পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন, আমি যা বলেছি ভেবেই বলেছি | এটি দীর্ঘদিনের দাবিতো ছিলই \আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য আজও তাই আছে কিন্তু যেখানে দল বিষয়টি বিবেচনা করছে না এবং পছন্দ করছে না তাই দলের নির্দেশই মানতে হবে | তিনি কি তৃণমূলে ফিরতে পারেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বারবার দল পরিবর্তন করা কি মানুষ পছন্দ করে ? তা ছাড়াও ভাঙা কাঁচ কি জোড়া লাগে ? তবে তিনি এটাও জানান তিনি যেখানে যাই বলুন না কেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা তাঁর কাজ নয়, উচিতও নয় |  

উত্তরবঙ্গকে আলাদা করতে মরিয়া বিজেপি সাংসদ

কোনও সন্দেহ নেই, বিষয়টি ভয়ঙ্কর যে, ফের বঙ্গ ভঙ্গের ভাবনা আসছে কারুর কারুর মাথায় | এই কেউ আর কেউ নন, বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা | হঠাৎ এসব তাঁর মাথায় আসছে কেন ? রাজ্য জুড়ে উঠেছে প্রশ্ন |

বার্লা জানিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের মানুষরা চাইছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ডুয়ার্স তরাইকে আলাদা করতে | কিন্তু বার্লা এরকম ধারণা কাদের সাথে কথা বলে ঠিক করলেন ? বার্লার বক্তব্য কোচবিহার থেকে নানান প্রান্তের মানুষের নাকি এমনই |

বিজেপির অন্যান্য রাজ্য নেতারা অবশ্য এই বিষয়ে মতামত দিতে চান নি | বার্লা এই ভিন্ন রাজ্যের বিষয়ে জানান যে, হয় অন্য রাজ্য অথবা কেন্দ্র শাসিত রাজ্য হোক | তিন এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পত্র দিচ্ছেন |

তৃণমূলের পক্ষে সুখেন্দু শেখর রায় জানান, চক্রান্ত চলেছে | মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, মে মাসের হারের পরও শিক্ষা নেই এদের |     

এবার কি করবেন শিশির, দিব্যেন্দু, সুনীল ?

শিশির অধিকারী, তাঁর পুত্র দিব্যেন্দু এবং বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল সরকারিভাবে এখনও তৃণমূলের সাংসদ। যদিও সুনীল এবং শিশিরবাবু বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা মোদি ও শাহর সভামঞ্চেও উপস্থিত হয়েছিলেন একুশের নির্বাচনী প্রচারে। কিন্তু লোকসভা বা যে কোনও আইনসভার নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও দল ছাড়তে গেলে ওই দলের এক তৃতীয়াংশ নিয়েই ছাড়তে হয় অথবা সেই আইনসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়। ঠিক পদ্ধতিতে শুভেন্দু বা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগ করেছিলেন। অতএব তিনজন সাংসদকে  আজও তৃণমূলের সমস্ত নিয়ম লোকসভায় মানতে হবে। ব্যতিক্রম হলে সাংসদ পদ বাতিল হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এঁদের ধারণা ছিল বিগত বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল আসন নিয়ে বাংলার রাজপাঠে আসবে বিজেপি কিন্তু ফল হরেছে উল্টো। ফলে ভোটের ফল প্রকাশ হতেই কার্যত তাঁরা নিজেদের গৃহবন্দী করে রেখেছেন বলেই খবর। অন্যদিকে শিশিরবাবু এবং দিব্যেন্দুর ডানা ছাঁটা হয়ে গিয়েছে এবং তাঁদের সিকিউরিটিও নাকি ঢিলেঢালা করে রাখা হয়েছে। এমত অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য তাঁদের সিকিউরিটি বাড়িয়ে দিল। কিন্তু কী তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ? বর্তমানে তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতা তাঁদের উপর রাগে ফুটছেন। ফলে এখন অপেক্ষা করা ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।              

আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এবার অর্জুন সিং ও তাঁর ভাইপোকে নোটিশ দিল CID

এবার রাজ্য সিআইডির নজরে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। এক আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অর্জুন সিং এবং তাঁর ভাইপো সৌরভ সিংকে নোটিশ পাঠিয়ে তলব করল সিআইডি (CID)। যদিও অর্জুনের দাবি এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাঁরা কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।


সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, গত বছর আর্থিক তছরুপের দায়ে দায়ের হওয়া এক অভিযোগের তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। আগামী ২৫ মে সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে কলকাতার সিআইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিআইডি ও ব্যারাকপুর পুলিশের যৌথ দল। ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে ভাটপাড়া পুরসভা এবং ভাটপাড়া নৈহাটি কো-অপারেটিভ ব্যাংকের টাকা তছরুপের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এমনকি ওই একই অভিযোগ ছিল তাঁর ভাইপো তথা ভাটপাড়া পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান সৌরভ সিংয়ের বিরুদ্ধেও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ সিআইডির একটি প্রতিনিধিদল পৌঁছয় জগদ্দলের মেঘনা মোড়ে অর্জুন সিংয়ের বাড়ি মজদুর ভবনে। সেসময় অর্জুন সিং বাড়ি না থাকায় হাজিরার নোটিশ বাড়ির গেটে সাঁটিয়ে দিয়ে আসে সিআইডি।


পরে অবশ্য অর্জুন সিং স্বীকার করে নেন, তাঁকে নোটিশ পাঠিয়েছে সিআইডি। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সশরীরে ভবানীভবনে হাজির হতে পারছেন না করোনা পরিস্থিতির জন্য। তিনি ভার্চুয়ালি জেরার জবাব দিতে তৈরি। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ বলেন, সিআইডি-র জেরায় সহযোগিতা করব। তবে তা ভার্চুয়ালি হতে হবে। তবে তিনি এও দাবি করেন, শুধু এই মামলা নয়, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সব মামলাই পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কোনও আদালতে হওয়া উচিত। বিষয়টি নিয়ে তিনি যে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন সেই কথাও জানিয়ে দিয়েছেন অর্জুন সিং।

বিধায়ক পদই ছাড়তে চলেছেন বিজেপির নিশীথ-জগন্নাথ

বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা চলছিল সাংসদ নাকি বিধায়ক পদে থাকবেন বিজেপির দুই জয়ী সাংসদ। যদিও বঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এই বিষয়ে কেউ এখনও মুখ খোলেননি। মুখে কুলুপ এঁটেছেন দুই জয়ী সাংসদও। তবুও বিজেপির অন্দরের খবর, সাংসদ পদই রেখে দিচ্ছেন জগন্নাথ সরকার এবং নিশীথ অধিকারী। ভিতরে ভিতরে নদিয়ার শান্তিপুর এবং কোচবিহারের দিনহাটায় উপ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সূত্রের খবর, গত শনিবার দিল্লিতে রাজ্য নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দু'জন এখনও পর্যন্ত বিধানসভায় গিয়ে শপথও নেয়নি।


প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটে দলের চারজন সাংসদকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। এরমধ্যে আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় টালিগঞ্জ আসনে এবং হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে হেরে যান। কিন্তু কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ অধিকারী দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী উদয়ন গুহকে মাত্র ৫৯ ভোটে হারিয়ে দেন। অপরদিকে নদিয়ার শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫,৮৭৮ ভোটে জয়ী হন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। একুশের বিধানসভা ভোটে ভালো ফল করতে পারেনি বিজেপি। মাত্র ৭৭টি আসনে জয়ী হয় তাঁরা। ফলে বিরোধী দলের মর্যাদা পেলেও নীলবাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। এই বিপর্যয়ের পর দুটি লোকসভা আসন ছেড়ে দিতে চাইছেন না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত সাংসদ পদ বজায় রেখে বিধায়ক পদেই ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে দু’জনকে বলেই সূত্রের খবর। তবে কবে তাঁরা বিধায়ক পদ ছাড়বেন সেটা জানা সম্ভব হয়নি।