মেঘের আড়ালে আশীর্বাদ মারাদোনার !

খেলোয়াড় ছিলেন বটে মারাদোনা, যেন মধ্য মাঠের সর্বকালের সেরা, বলেছিলেন প্রয়াত পি কে ব্যানার্জী । প্রদীপদা একবার সি এন কে জানিয়েছিলেন পেলে বড় খেলোয়াড় ঠিকই এবং দুনিয়ার সেরা ট্রফি পেয়েওছেন কিন্তু দেখে নাও তাঁর পাশে কারা কারা খেলেছেন  । মারাদোনাকে বাদ দিলে দলতা তো ক্লাব স্তরের । বাস্তব বলেছিলেন প্রদীপবাবু । কিন্তু মারাদোনার ইচ্ছা ছিল আরও  একবার বিশ্বকাপ বা কোপা কাপ আর্জেন্টিনাতে আসুক ।
তাঁর একান্ত ইচ্ছা জীবদ্দশায় পূর্ণ করতে পারেন নি তাঁর ভাব শিষ্য মেসি । আসলে মেসি ছিলেন ক্লাব ফুটবলের বাঘ আর দেশের ক্ষেত্রে বিড়াল বলেছিলেন লুই ফার্নান্দো, এক সময়ের আর্জেন্টিনার মন্ত্রী । কিন্তু রবিবারের সকাল মন কেড়ে নিলো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের । যদিও আজকের ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য ছিল অনেক বেশি এবং নির্দ্বিধায় বলা যায় নেইমার এটাকিং মুভের সেরা কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁর ট্রফি উঠলো না তাঁর হাতে । দুই বাংলার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একটাই  বক্তব্য 'আকাশ থেকে মারাদোনার আশীর্বাদই প্রেরণা দিয়েছে দলকে "। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুকে ।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয় আর্জেন্টিনার

ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলতে নেমে প্রথম থেকেই দুই দল দুই প্রতিপক্ষ কে চাপে রেখেছিলো . ম্যাচের ২২মিনিটের  মাথায় এঞ্জেল ডি মারিয়া গোলকিপার এর মাথার উপর দিয়ে বল ব্রাজিলের গোলপোস্টের জালে জড়িয়ে দেয়. ম্যাচ চলাকালীন প্রচুর ফাউল করেন দুই দল ই . প্রথম অর্ধে খেলার ফলাফল ১-০ থাকে , দ্বিতীয় অর্ধের শুরুর দিকেই অসাধারণ ডজ করে ব্রাজিল এর খেলোয়াড় বল আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে দিলেও শেষে লাইন্সম্যানের নির্দেশে সেই গোল বাতিল হয়ে যায় , এরপর আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি অসাধারণ তৎপরতায় ১:১ এ ব্রাজিলের বক্স ঢুকে যায় কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক ই মরিয়াস বলটিকে নিজের দখলে নিয়ে নেন  , এক্সট্রা টাইম হিসেবে ৫ মিনিট যোগ হলেও ব্রাজিল কোনো কাজে লাগাতে পারেনি . অবশেষে খেলার ফল ১-০ হয় . জয় ছিনিয়ে না আর্জেন্টিনা . গোটা ম্যাচে হলুদ কার্ড ও  দেখেন  দু পক্ষের বেশ কিছু খেলোয়াড় . 

খেলা রিওতে, পুলিশ বাংলাদেশে

ভোর ৫ টায়ে এই উপমহাদেশ নজর রাখবে টিভির পর্দায় । দিনটি অবশ্য রবিবার ভারতে ছুটির দিন কিন্তু ও বাংলায় ছুটি নেই কারণ তাদের ছুটি শুক্রবারে । অবশ্য করোনা আবহে অনেক অফিস ছুটি থাকে এ ছাড়া বাংলাদেশে অত সকালে তো আর কর্মস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই । খেলা হবে রিও দে জেনিরোতে । সেখানে দর্শক শূন্য স্টেডিয়াম । ও দেশে নিশ্চই আর্জেন্টিনার পরাজয় চাইবে দেশবাসী । ব্রাজিলের ফুটবলের চির শত্রু আর্জেন্টিনা ।



এ দেশের মতো বাংলাদেশেও ফুটবল প্রেমী মানুষ পাগল হবে ল্যাটিন আমেরিকার ফাইনাল দেখতে । বাংলাদেশ এই দুই দেশের খেলা থাকলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে । বিস্তর মারামারির এমনকি হাসপাতালে পাঠাতে হয় আহত ক্রীড়াপ্রেমিকে । এই চিন্তাই হাসিনা সরকার সারা দেশে পুলিশ পোস্টিং করছে । দরকারে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বলে খবর । বাংলাদেশে এমনই তীব্র উত্তেজনা হয়ে থাকে এই খেলাকে কেন্দ্র করে ।

ব্রাজিল আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতোয়ারা দুই বাংলা

ভারতীয় সময় রবিবার সকল ৫.৩০ এ কোপা আমেরিকা কাপের ফাইনাল । খেলবে ব্রাজিল ও তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা । ৫০/ ৬০ এর দশক থেকে দুই বাংলা পেলের খেলার প্রেমে পরে ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে পরে অবশ্য ভারতের অন্য প্রান্তেও বেশ খানিকটা তাই হয়েছিল । এরপর ১৯৮২ তে উঠে আসে আরেক নতুন নাম দিয়াগো মারাদোনা ।

এবারে বাঙালি তার প্রেমেও পরে । ভাগাভাগি হয়ে যায় দর্শক । কেউ ব্রাজিল তো কেউ আর্জেন্টিনা । ভারত বা বাংলাদেশ ফুটবলে নাম করতে না পারলেও ফুটবল প্রেমীরা ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের মতো বাড়িতে বা পাড়ায় এই দুই দলের পতাকা টাঙিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে থাকে কয়েক দশক ধরে ।

রবিবার সাত সকালে উঠবে দু বাংলার বাঙালিরা । ভাগাভাগি হয়ে সমর্থন করবে নেইমারের ব্রাজিল বা মেসির আর্জেন্টিনাকে । বাংলাদেশের এক চিত্র উঠে এলো সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পাতায় এবং দেখতে দেখতে ভাইরাল হয়ে গেলো । একটি ফুটপাথের খাবারের দোকানে দুই পার্টনার খাবার বিক্রি করছে যাদের পরনে নেইমার এবং মেসি । ফাইনালের আগেই ওদেশের থেকেও উত্তেজিত বাঙালি সমাজ ।

ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির জন্মদিন

আজ বৃহস্পতিবার আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির জন্মদিন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন।  

মেসির বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার পৈতৃক পরিবারের আদি নিবাস ছিল ইতালির আকোনা শহরে।

তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছে। বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল।

লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। যিনি স্পেনের সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবল প্রতিযোগিতা লা লিগা তে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

টানা চারবারসহ মোট ছয়বার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় গোল্ডেন শু জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়, যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন। যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ।