Afghanistan: মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৬২

কাবুলঃ ফের আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কান্দাহার। দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রভিন্সের এক মসজিদে আচমকাই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। বিস্ফোরণে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে,আহত শতাধিক। এমনটাই সূত্রের খবর। 

শুক্রবার নামাজের জন্য ওই মসজিদে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৫০০ জন। আচমকাই মসজিদের সিকিউরিটি চেকিং গেটে আচমকাই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপত্তারক্ষীরা পালাতে গেলে আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে। 

বিস্ফোরণের পর মসজিদের মধ্যে আতঙ্কিত মানুষ আর্তনাদ করতে থাকে এবং পালানোর চেষ্টা করতে থাকে, সেই সময় সিকিউরিটি চেকিং গেট দিয়ে আরও দুইজন দৌড়ে ভিতরে ঢুকে পরপর আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। 

পর পর চারটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মসজিদ। তখন চারিদিকে শুধু আর্তনাদ আর হাহাকার। এদিক-ওদিক পড়ে আছে রক্তাক্ত মৃতদেহ ,  মসজিদের দেয়ালে বারবার প্রতিধ্বনি' হচ্ছে তখন আহতদের আর্তনাদ। কান্দাহার প্রভিন্সের প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা খবর পেয়ে ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। উদ্ধার কাজে হাত লাগায় পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় মানুষ এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ। 

কান্দাহার প্রভিন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় ৩০ টি মৃতদেহ আর ৭০ জন আহত ব্যক্তিকে। অন্য আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় একাধিক মৃতদেহ এবং ৫৬ জন আহত ব্যক্তিকে। কান্দাহার প্রভিন্সের প্রশাসনিক মুখপাত্র বিলাল করিমি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৪৭ টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, পাশাপাশি প্রায় ১০০ জনের উপর আহতকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে দুটি হাসপাতলে। আরও কিছু আহত ব্যক্তিকে অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

কান্দাহার প্রভিন্সের তথ্য এবং প্রযুক্তি দপ্তরের তালিবান কর্মকর্তা হাফিজ শহিদ জানান ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে। এই বিস্ফোরণের দায়ভার এখনো কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে দ্রুততার সঙ্গে আহতদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের সমস্ত রকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত ২০১৭ অক্টোবর তালিবান প্রভিন্স এ এক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল এক মসজিদে, যে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ৫৬ জনের। এবারের এই বিস্ফোরণ ও পরিকল্পনা মাফিক ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রথমে সিকিউরিটি চেকিং এর গেটে ঘটানো হয় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ যাতে নিরাপত্তারক্ষীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আর সেই সুযোগেই আরও দুই আত্মঘাতী জঙ্গী শরীরে বোমা নিয়ে ঢুকে যায় মসজিদের ভিতরে, আর সেখানে ঘটায় বিস্ফোরণ।

 আফগানিস্তানের তালিবান সরকার গঠনের পর এই একাধিক জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ সহ হামলা চালাচ্ছে আইএস খরশান গোষ্ঠী। এক্ষেত্রেও এই বিস্ফোরণের পিছনে আইএস ঘর্ষণ গোষ্ঠী আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে তালিবান সরকার।


Afghanistan: আফগানিস্তানের বোমা বিস্ফোরণের পিছনে কি আফিম ব্যবসা!

কাবুলঃ আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের খান আবাদ জেলার একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করলো ইসলামিক স্টেট। বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় প্রায় ৫০ জন, আহত বহু। 

ঘটনার দুই দিন পর্যন্ত কোন জঙ্গিগোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। অবশেষে আইএস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করলো। পাশাপাশি তারা জানান মোহাম্মদ উল উইঘুড়ি নামের এক ব্যক্তি তাদের নির্দেশেই এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেনই বিস্ফোরণ ? কেন এই আত্মঘাতী হামলা ?

কেন এই আত্মঘাতী হামলা?

দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্থানের ক্ষমতা দখল করে তালিবান। ক্ষমতা দখলের পর তারা সরকার গঠন করে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি না পেলেও, পাকিস্তান তালেবানের এই নবগঠিত সরকারকে মান্যতা দেয়। ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আখুনজাদা। সরকারে যোগদান করে হাক্কানী গোষ্ঠী ও। কিন্তু বরাবরই তালিবান বিরোধী বলে খ্যাত ইসলামিক এস্টেট খোরশান গোষ্ঠী। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হয় মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখন্দ, উপপ্রধানমন্ত্রী হর্ন মোল্লা আব্দুল বরাদার। 

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাঝেই গন্ডগোল বাদে নিজেদের মধ্যে সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই গন্ডগোলে গুলিবিদ্ধ হন মোল্লা আব্দুল বরাদর। তলায় তলায় ততদিনে সক্রিয় হয়েছে আইএস খোরসান গোষ্ঠী। পাকিস্তানের আইএস প্রধান এর তত্ত্বাবধানে নবগঠিত সরকার কাজ শুরু করে। পাকিস্তানের সহযোগিতায় একমাত্র বিরোধী পাজ্ঞশির উপত্যাকায় হামলা চালায় তালিবানরা। তখন থেকেই তালিবানদের নবগঠিত সরকারের ক্ষমতায়নের অন্দরমহলে ঢুকতে চায় আই এস। 

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাদক উৎপাদনকারী এবং পাচারকারী দেশ হল আফগানিস্থান। আফগানিস্তানের অধিকাংশ জমিতেই পপি অর্থাৎ আফিম চাষ হয় সর্বসমক্ষে। এই আফিম চাষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তালিবানরা। আফিম এবং আফিম জাত মাদক জাতীয় দ্রব্য বেআইনিভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে বৈদেশিক অর্থ আমদানি হয়, তার অধিকাংশ ব্যবহৃত হয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র, হাতিয়ার ক্রয় এবং জঙ্গিগোষ্ঠী পরিচালনার ক্ষেত্রে। নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের জন্য বিখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল। অর্থাৎ মায়ানমার, লাওস,থাইল্যান্ড। 

কিন্তু এই গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এর বাইরে ও বিশ্বের আফিম চাষে প্রথম স্থান ধরে রেখে দিয়েছে আফগানিস্তান। ফলে এই আফিম এর ক্ষেত এবং আফিম এর ব্যবসা নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইএস গোষ্ঠী। এই আফিম মাদক ব্যবসা যদি আইএস গোষ্ঠীর হাতে যায়, সে ক্ষেত্রে খুব সহজেই তারা পাকিস্তানের সহযোগিতায় ভারতসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করতে পারবে ।

এই ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ জঙ্গিগোষ্ঠীর কাজে ব্যবহার করতে পারবে।  ফলে তালিবানদের সঙ্গে আইএস গোষ্ঠীর বরাবরই সংঘাত আফিম এর ব্যবসাকে সামনে রেখে। সে লক্ষ্যেই একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তালিবানদের উপর আইএস গোষ্ঠী। অন্যদিকে সরকার এবং ব্যবসা দুটোই নিজেদের হাতে রাখতে মরিয়া তালিবানরা ও। ফলে এই সংঘাতের বাতাবরণ আগামী দিনেও আফগানিস্থানে বজিয়ে থাকবে বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।


Panjshir: মহিলাদের এবার জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তালিবানরা

 আফগানিস্তান এর পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে । বিশেষ করে পাঞ্জশির । অভিযোগ তালিবান বন্দুকবাজরা যখন তখন যে কোনো নাগরিক এর বাড়ীতে ঢুকে লুঠপাট চালাচ্ছে । মহিলাদের জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে । বন্ধ ব্যবসা বাণিজ্য । স্তব্দ পাঞ্জশির । মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন । এমনই এক ছবি ধরা পড়লো কিছুক্ষণ আগের তোলা একটি ভিডিও তে । দেখা যাচ্ছে তালিব বন্দুকবাজরা রাস্তা থেকে দুই স্থানীয় যুবক কে জোর করে গাড়ির ডিকির ভেতরে আটকে দেয় । এরপর বেপাত্তা হয়ে যায় ওই তালিব বন্দুকবাজরা। 

ওই যুবকদের ভবিষ্যৎ যে তালিবানদের বন্দুক এর বুলেট , তেমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।এবার শুধুমাত্র তাজিক বংশভুত হওয়ার অপরাধে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে গুলি করে খুন করলো তালিবান বন্দুক বাজ রা । শুক্রবার অন্ধ রাব জেলার নাওবাহার এলাকায় তালিবান বন্দুকবাজ রা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে খুন করে ওই প্রধান শিক্ষককে । মুখ বদলের দাবি করেছিল তালিবান । কিন্তু মুখ ও মুখোশের ফারাক দ্রুত মিলিয়ে গেলো তালিব শাসকদের । জ্বালিয়ে দেওয়া হলো পাঞ্জশির বিশ্ববিদ্যালয় ।


Afghanistan: তালিবানদের দখলদারি!

দেশের ভার এখন তালিবানদের হাতে । আফগানিস্তান এর সুসময় এখন. তালিবান শাসক বন্দুকবাজ প্রতিষ্ঠিত করবে । বিশ্বের একটা বড় অংশ তেমনটাই হয়তো আশা করছে। দোহার মুল রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তালিব মুখপাত্র সাহিল শাহীন বার বার বলেছেন তালিবানরা পরিবর্তিত হয়েছে । তারা এখন অনেক মানবিক ।

কিন্তু সোশ্যাল সাইটের আপলোড হওয়া ছবি অন্য কথা বলছে । ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে  তালিব যোদ্ধারা চাকা লাগানো চেয়ার নিয়ে গাড়ি গাড়ি খেলছে । হুটোপুটি করছে । হাসছে । লুটিয়ে পড়ছে । ঠিক পাঁচ ছয় বছর এর শিশুর মতো । অনেকের মতে বুনো জংলীদের মতো । প্রশ্ন উঠছে আধুনিক শিক্ষা , পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তে গত কুড়ি বছর ধরে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে ওঠা আফগানিস্তান কি আদৌ সুরক্ষিত তালিব শাসক দের হাতে । কি হবে আফগান শিশুদের ভবিষ্যত । শিক্ষা ব্যবস্থা । তা এখন সত্যি বড়সড় প্রশ্নের মুখে ।

Afghanistan: পাঞ্জশির বিশ্ববিদ্যালয় উড়িয়ে দিল তালিবানরা

মুখ বদলের দাবি করেছিল তালিবান । কিন্তু মুখ ও মুখোশের ফারাক দ্রুত মিলিয়ে গেলো তালিব শাসকদের । জ্বালিয়ে দেওয়া হলো পাঞ্জশির বিশ্ববিদ্যালয় ।এবার শুধুমাত্র তাজিক বংশ ভুত হওয়ার অপরাধে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গুলি করে খুন করলো তালিবান বন্দুকবাজরা । শুক্রবার  অন্ধ রাব জেলার নাওবাহার এলাকায় তালিবান বন্দুকবাজরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে খুন করে ওই প্রধান শিক্ষককে।

একেই তো সদ্যগঠিত তালিবান সরকার স্কুল খোলার অনুমতি দিয়েছে কিন্তুতা শুধুমাত্র পুরুষ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য। শনিবার থেকে স্কুল খোলার কথা বলা হচ্ছে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাথীদের জন্য।  যদিও এই নির্দেশে কোথাও শিক্ষিকা অথবা ছাত্রীদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এই নির্দেশের মাধ্যমে আফগানিস্তান তার দেশের প্রায় অর্ধেক নাগরিককে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে UNICEF প্রধান Henrietta Fore বলেন কট্টর ইসলামপন্থী তালিবান সরকার মেয়েদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।


৭ দেশের গুপ্তচর বৈঠকে বাদ ভারত

সম্প্রতি আফগানিস্তানের উদ্ভুত পরিস্থিতি নেই দুই দফার বৈঠক হলো ইসলামাবাদে বলে সূত্র মারফত খবর । প্রথম দফায় রাশিয়া বাদে ৬ দেশের বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনা হয় । এই দুই বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তানের আইএসআই দপ্তর । উপস্থিত ছিল চিন, ইরান, কাজখিস্তান ,তাজাকিস্তান,তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ।পরে আইএসআই প্রধান ফয়েজ হামিদের ডাকে গুপ্তচর সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত হয়ে বৈঠক করেন তখন রাশিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল । প্রশ্ন উঠেছে অনেক, আফগানিস্তান লাগোয়া দেশগুলি উপস্থিত থাকলেও ভারত কেন অনুপস্থিত ? জানা গিয়েছে, ভারতকে আমন্ত্রণই জানানো হয় নি ।

সমস্যা এখানেই । তালিবানদের এই দেশগুলিকি সমর্থন বা ইন্ধন যোগাচ্ছে ? পরিষ্কার নয় কারুরই মনোভাব, তবে প্রাক্তন রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা দেশগুলি কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বরাবরই প্রতিবাদ করেছে । রাশিয়াও এখনও তালিব পরিচালিত আফগানিস্থাকে সমর্থন করে নি । কিন্তু এই ৭ দেশ কখনোই প্রকাশ্য বিরোধিতাও করে নি । ভারতের ভাবনা বাড়ছে  । 

Afghanistan:পাঞ্জশিরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী (SSG) বিপর্যয়ের মুখে!

পাঞ্জশির কি পাক সেনাবাহিনীর কফিনে পরিণত হচ্ছে ক্রমশ। ইঙ্গিত সে দিকেই। তালিবানকে সমর্থন দিতে পাক সেনাবাহিনীর SSG- র স্পেশাল কমান্ডোরা পাঞ্জশিরে প্রবেশ করে। এমনকি পাক বাহিনীর মদতে চলে এয়ার স্ট্রাইক। 

তবে সূত্র অনুসারে ও ভারতের প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের টুইট থেকে পাক বাহিনীর বিপর্যয়ের খবর সামনে আসছে। তথ্য বলছে ৭ জন অফিসার, ১২ জন জুনিয়র কমিশনডসহ ৭৫ জন সেনা আধিকারিক ও কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। 

আহমেদ মাসুদ এর নেতৃত্বে ন্যাশনাল রেসিস্টেন্স ফোর্স এর বাধার মুখে পড়ে পাক বাহিনীর ১৬০ জন সেনা জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। সূত্র বলছে, পরিস্থিতি সামলাতে মেজর জেনারেল আদিল রাহামনিকে কোয়েটা প্রদেশ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পাঞ্জশিরে প্রবল গুলির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আমিরুল্লা সালেহর ভাই এর মৃত্যু হয়েছে। তালিবান বন্দুকবাজদের গুলিতেই মৃত্যু হয় আমিরুল্লা সালেহর ভাইয়ের। 


ক্ষমতায় এসেই মহিলাদের ওপর ১৭টি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে তালিবান

কাবুলঃ ক্ষমতায় এসেই মহিলাদের ওপর ১৭টি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে তালিবান। কর্মক্ষেত্রে যাওয়া থেকে রাস্তায় বের হওয়া,সব কিছুতেই বারণ তালিবানদের। 

সূত্রের খবর, ফতোয়া না মানলেই মহিলাদের ওপর নেমে আসছে শাস্তির খাড়া। এমনকি বেশ কিছু ছবি সামনে আসছে তাতে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের গর্ভগৃহে বন্দী করে,ক্রীত দাসী হিসাবে ব্যবহার করছে উন্মত্ত তালিব যোদ্ধারা। 

কোথাও মহিলাদের বেত দিয়ে চাবকানো হচ্ছে,কোথাও গুলি করা হচ্ছে। তবে নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন আফগান মহিলারা। তারা প্রতিবাদ এর ঝড় তুলেছেন। কাবুল,কান্দাহারসহ সর্বত্র তালিবানি ফতোয়া ছুড়ে ফেলে দিয়ে, প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় সামিল হয়েছেন আধুনিক ও সমাজ সচেতন আফগান নারীরা। 

Afghanistan: তালিবানদের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় কে কোন পদে,জানুন

কাবুলঃ আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে তালিবান। আফগানিস্তানে জীবন চলবে শরিয়ত আইন মেনে। জানিয়ে দিল তালিবান সুপ্রিমো হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। 

মঙ্গলবার দীর্ঘ জল্পনার শেষে সরকার গঠন করে তালিবান। তাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সিরাজউদ্দিন হাক্কানির মতো রাষ্ট্রসংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি। 

তালিবানের 'সুপ্রিম লিডার' হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। 

প্রধানমন্ত্রী: মোল্লাহ মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। 

উপ-প্রধানমন্ত্রী: আবদুল গনি বারাদার।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী: মোহাম্মদ ইয়াকুব। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী: মৌলভী আমির খান মুত্তাকি।

অর্থমন্ত্রী: মোল্লাহ হিদায়াত বদ্রী।

বিচারমন্ত্রী: আবদুল হাকিম ইশাকজী।

তথ্যমন্ত্রী: খাইরুল্লাহ সাইদউয়ালি খয়েরখা।

এই মন্ত্রীসভায় কোন নারী প্রতিনিধি নেই। এই প্রশ্নের উত্তরে তালিবানি সংস্কৃতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান আমানুল্লাহ ওয়াসিক বলেছেন, মন্ত্রীসভার গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে সরকার গঠনের পর তালিবানদের শীর্ষনেতা হায়বাতোল্লা আখুন্দজাদা জানালেন,“ভবিষ্যতে প্রশাসনের সমস্ত কাজ এবং জনজীবন নিয়ন্ত্রিত হবে শরিয়ত আইন মেনেই।”


Afghanistan: উচ্চ শিক্ষা নয়, মোল্লারাজই পথ- শিক্ষামন্ত্রী

কাবুলঃ আফগানিস্তানে তৎকাল মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছে । আপাতত কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী পদ তৈরী করা হয়েছে । এখন দেশ চালাবার দায়িত্ব কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ এবং শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন শেখ মৌলবী নুরুল্লা মুনির । বর্তমানের মন্ত্রিসভা থেকে তালিবানদের ফ্রন্ট লাইন নেতাদের কারুরই উচ্চ মাধ্যমিক পাশের যোগ্যতাও নেই । ক্ষমতায় এসে এবং মন্ত্রীসভা গঠন করে তাঁরা শিক্ষা নিয়ে হুঙ্কার দিয়েছে । শিক্ষামন্ত্রী মুনির বলেছেন, পিএইচডি থেকে কোনও উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন নেই মোল্লাতন্ত্র জানলেই হবে । তিনি নতুন ভাবে শিক্ষার পরিবর্তন আনছেন বলে সূত্রের খবর ।

এইরকম অদ্ভুত প্রয়োগ পরিস্থিতিতে ভয় পেয়েছে আফগান নাগরিক । বিদ্যালয়ে বা কলেজে ছেলে মেয়েদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ছেলে মেয়েদের মধ্যে কাপড় বা প্লাস্টিকের ডিভাইডার দেওয়া হয়েছে । ১৯৯৬ থেকে ২০০১ অবধি মেয়েদের বিদ্যালয়ে আসার অনুমতি ছিল না । এখন আতংকিত নাগরিকরা মনে করছে ফের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেওয়াল তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তালিবানরা । কলকাতার আফগানিস্তানে শিক্ষকতা করা তমাল ভট্টাচার্জ এবারে কি বলবেন ?

Afghanistan: দেশ ছাড়লেন প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ,দাবি তালিবানের

পঞ্জশিরঃ দেশের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা তালিবান বিরোধী জোটের অন্যতম নেতা আমরুল্লাহ সালেহ আফগানিস্তান ছেড়েছেন বলে দাবি তালিবানের। নিজেকে কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট বলেও দাবি করেছিলেন সালেহ।  

এদিকে তালিবান দাবি করছে, আমরুল্লাহ তাজিকিস্তানে রয়েছেন। যদিও এনিয়ে এখনও আফগানিস্তানের প্রাক্তন উপ রাষ্ট্রপতির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তালিবানদের দাবি,পঞ্জশির এখন তাদের দখলে। অন্যদিকে এই দাবিকে মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করেছে মাসুদ বাহিনী। তাদের দাবি, পার্বান এলাকা তারা তালিবান মুক্ত করতে পেরেছে। 

নর্দান অ্যালাইন্সের নেতা আহমেদ মাসুদের অভিযোগ, পাকিস্তান সেনার নর্দান লাইট ইনফ্যান্ট্রির মদতেই পঞ্জশির কিছু এলাকা দখল করতে পেরেছে তালিবান। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হামিদ ফায়েজের তদারকিতে পাহাড়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েক হাজার পাক সেনা এই কাজ করছে। 


Exclusive: যুদ্ধ বিদ্ধস্ত আফগানিস্তান, শান্ত হোক তার দেশ- প্রার্থনা পাঞ্জশির ছোট্ট খাইয়া

সত্যজিৎ মুখোপাধ্যায়ঃ যুদ্ধ বিদ্ধস্ত আফগানিস্তান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হচ্ছেন। শয়ে শয়ে মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছেন। বিনা কারণে খুন হয়ে যাচ্ছেন। আফগানিস্তানের চোখ জুড়ানো উপত্যকা জুড়ে যেমন কান পাতলে নদীর বয়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়, তেমনি অসংখ্য শিশু,অসহায় এর বুক ফাটা আর্তনাদও কানে ভেসে আসে।

এরই মাঝে পাঞ্জশির ছোট্ট খাইয়ান এর প্রার্থনা। ঈশ্বরের কাছে তার প্রার্থনা এই সব কিছু বন্ধ হোক। শান্ত হোক তার দেশ। তার প্রিয় উপত্যকা। পাহাড়ি নদীর স্রোতে আবার ভেসে আসুক সংগীত এর সুর। বিশ্ববাসী ও তাই চায়। সত্যি হোক খাইয়ান এর প্রার্থনা। 

পাঞ্জশির জুড়ে প্রবল যুদ্ধের পর ছড়িয়ে আছে বহু দেহ। পাঞ্জশির জুড়ে চলছে এখনও গুলির লড়াই। তালিবানদের আগ্রাসন রুখতে বদ্ধপরিকর নর্দান অ্যালাইন্স এর যোদ্ধারা। প্রানপনে মাটি কামড়ে নিজেদের স্বল্প সামর্থ্য নিয়ে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এ সজ্জিত তালিবানদের বিরুদ্ধে চলছে লড়াই। 

এদিকে তালিবানদের দাবি, পাঞ্জশির তাদের দখলে। অন্যদিকে নর্দান অ্যালাইন্স দাবি, পাঞ্জশির এখনও তাদের দখলেই আছে। 


Afghanistan: পিছিয়ে গেল তালিবানের সরকার গঠন

কাবুলঃ পিছিয়ে গেল তালিবানের সরকার গঠন। প্রকাশ্যে সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করে, এখনও মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারল না তালিবান। 

তালিবানের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিত জানান, নতুন সরকার গঠন এবং মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন,তা আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। অন্য একটি সূত্রে খবর, গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরেই তালিবানরা সরকার গঠন করতে পারছে না। 

 সরকার গঠনের আগেই ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে হক্কানি গোষ্ঠী এবং কন্দহরের ইয়াকুব গোষ্ঠীর মধ্যে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই কন্দহরে ছুটে গিয়েছিল শীর্ষ নেতারা। এই ফাটল মেরামত না করতে পারলে যে আগামী দিনে বিপদ ঘনাতে পারে, তা আঁচ করেই সব গোষ্ঠীকে নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে তালিবান। 

তাছাড়া তালিবানদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে কাবুল থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরের হিন্দুকুশ ঘেরা স্বাধীন পঞ্জশির। বাধ্য হয়ে ‘ওয়ারলর্ড’ আহমেদ মাসুদ ও সালেহর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইছিল তালেবরা। কিন্তু সেই কথায় কান দেননি তাঁরা। বাবার মতোই জেহাদি গোষ্ঠীটির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মাসুদ। আর গোড়া থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলে আসছেন সালেহ। 


Afghanistan:পাঞ্জশির দখলে তালিবান বাহিনীকে সরাসরি মদত দিচ্ছে পাকিস্তান-সূত্র

পাঞ্জশির: পর্দার আড়ালে থেকে নয়, এবার পাঞ্জশির দখল করতে তালিবান বাহিনীকে সরাসরি মদত দিচ্ছে পাকিস্তান।এমনটাই অভিযোগ। 

স্থানীয় সূত্র অনুসারে, পাকিস্তানের এসএসজি কমান্ডোদের নেতৃত্বে পাক বিমান পাঞ্জশির আকাশ সীমায় প্রবেশ করেছে। শুরু হয়েছে এয়ার strike। রবিবার সন্ধ্যের পর থেকেই পাক বাহিনীর মদতে পাঞ্জশির দখলে ঝাঁপিয়ে পরে তালিবান। সারা রাত ব্যাপক গোলাগুলি চলে ন্যাশনাল রেসিস্টেন্স ফোর্স ও তালিবানদের মধ্যে। লড়াই তীব্র হয় মূলত খায়ক পাসে,দাসে রাওয়াক অঞ্চলে। 

প্রথম পর্যায়ে লড়াইয়ে হেরে তালিবান বন্দুকবাজরা পালিয়ে যায় কপিসা প্রদেশে। এর পরই শুরু পাক বিমান বাহিনীর এয়ার strike। শেষ খবর অনুসারে আমিরুল্লা সালেহ ও মাসুদ আহমেদ পাঞ্জশিরেই রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এখনও নর্দান অ্যালাইন্সের দখলে। তালিবানদের পাঞ্জশির দখলের দাবি ও সত্য নয় বলে জানিয়েছে নর্দান অ্যালাইন্স। 

অন্যদিকে আমিরুল্লা সালেহ পাঞ্জশির এর তথ্য সবিস্তারে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তালিবান শীর্ষ নেতা মোল্লা ব্রাদার রাষ্ট্রপুঞ্জে গিয়ে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর তালিবানদের মনোভাব ও দক্ষতা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জ এর যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপুঞ্জ ও আন্তর্জাতিক দুনিয়ার বড় অংশের সরাসরি সমর্থন না আসায়,আফগানিস্তান এ সরকার গঠন প্রক্রিয়া আবার পিছিয়ে দিলো তালিবান শীর্ষ নেতৃত্ব। 


Afghanistan: রণক্ষেত্রে পঞ্জশির! ৬০০ তালিবান-কে মারল নর্দান অ্যালাইন্স

পঞ্জশিরঃ আফগানিস্তানের দখল নিলেও, পঞ্জশির প্রদেশ এখনও হাতছাড়া তালিবানদের। নর্দান অ্যালাইন্সের দাপটে ওই এলাকার দখল নিতে পারছে না জেহাদিরা।  

যদিও তালিবান দাবি করেছে পঞ্জশির তাদের দখলে এসেছে। অপরদিকে নর্দান অ্যালাইন্স ওই উড়িয়ে দিয়ে,জানিয়েছে পঞ্জশির তাদের দখলেই রয়েছে। পাশাপাশি আমরুল্লাহ সালেহর পালানোর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার থেকে পঞ্জশিরে তালিবান এবং নর্দান অ্যালাইন্সের মধ্যে ফের গুলির লড়াই শুরু হয়েছে। নর্দান অ্যালাইন্সের মুখপাত্র ফাহিম দশতি টুইটে জানান, ইতিমধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি তালিবান জঙ্গি মারা গিয়েছে। আত্মসমর্পন করেছে প্রায় ১০০০ তালিবান বাহিনী। 

প্রতিরোধ বাহিনীর পরাক্রমের সামনে অস্ত্র প্রত্যাহার করেছে হাজারেরও বেশি জঙ্গি। তারা আত্মসমর্পন করেছে।

মূলত পঞ্জশিরে তালিবানের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি আমিরুল্লাহ সালেহ এবং আহমেদ মাসুদের দলবল। যা নর্দান অ্যালাইন্স নামে পরিচিত।