পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখে হেসে গড়াগড়ি

স্কুলে পড়া না পারা কিংবা পরীক্ষার খাতায় এর দেখে ওর দেখে লেখা, সে তো চলেই আসছে। তবে এবার ঘটল এক অবাক করা কাণ্ড। সম্প্রতি এক ছাত্রের উত্তরপত্র ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। যা দেখে নেট নাগরিকরা হেসেই গড়াগড়ি। ঠিক কী ছিল ওই উত্তরপত্রে ? দেখা যাচ্ছে, ওই ছাত্র তাঁর উত্তরপত্রে যতরকম সম্ভব আজগুবি উত্তর লিখেছেন, যেসবের সঙ্গে প্রশ্নের কোনও মিলই নেই।  

যা দেখে কেউ কেউ তো আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন, যে শিক্ষক উত্তরপত্র দেখেছেন, তিনি কোমায় চলে যাননি তো! নেটিজেনদের একাংশের মজার ছলে মন্তব্য, যে ছাত্র এই কাজটি করেছে, বলা যায়, সে খুব ট্যালেন্টেড। তবে ওই উত্তরপত্রে ১০ এর মধ্যে ০ দেওয়া হয়েছে। 

স্কুল-কলেজে সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের ছাত্র-ছাত্রী দেখা যায়। এদের মধ্যে অনেকে অল্পেতেই পড়া বুঝে নেয়। আবার অনেকে কিছুতেই সেটি বুঝতে পারে না। এক-একজনের ক্ষমতা এক-এক রকমের হয়। কিন্তু তা বলে উত্তরপত্রে যা খুশি লেখা, এটা অনেককেই অবাক করেছে। 

সেই মজার উত্তরপত্র একবার দেখে নেওয়া যাক। এই মজাদার উত্তরপত্রটি ইনস্টাগ্রামে ফান কি লাইভে শেয়ার করা হয়েছে। তার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছিল আসলে ভাকরা-নাঙ্গাল প্রোজেক্ট নিয়ে। যদিও সেই প্রশ্নের উত্তরের শুরুতেই ছাত্র লিখেছেন যে সতলুজ নদীর উপর রয়েছে এই ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ। 

এখানেই শেষ নয়, উত্তর ধীরে ধীরে যত এগতে থাকে, তার মধ্যে দেখা গিয়েছে আরও চমক। ওই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে সর্দার প্যাটেল, টাটা, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, গোলাপের ক্ষেত, চিনি, লন্ডন, জার্মানি এবং বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদির মতো বিষয়ও। যার সঙ্গে প্রশ্নের কোনও সম্পর্কই নেই। এসব দেখেই শিক্ষকের চক্ষু চড়কগাছ।

 তবে শিক্ষকও থাকতে না পেরে শেষমেশ সেই উত্তরপত্রে লিখেছেন, এই উত্তর দেখে কোমায় চলে গেছি। এখানে ভূগোল, ইতিহাস, কলা, সাহিত্য সব একাকার। তবে নেট নাগরিকদের কেউ কেউ বলছেন, সত্যি ছেলের এলেম আছে। 

স্ট্রিট ফুডের সততা নিয়ে কলকাতা

সারা বিশ্বে রাস্তার খাবার খাওয়ার লোভ কমবেশি সবারই থাকে | একেক দেশে একেক রকম স্ট্রিট ফুড আছে | বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপ বা আমেরিকায় রাস্তার খাবার যথেষ্ট পুষ্টিকর, রেস্টুরেন্টের থেকে কোনও অংশে কম নয় | অবশ্য সেখানে মূলত বিশেষ ধরনের মিট রোল বা বার্গার বিক্রি হয়ে থাকে | অবশ্যই ফল বা ফলের রস সারা বিশ্বের সর্বত্র পাওয়া যায় এবং সেগুলি স্বাস্থ্যসম্মত ভাবেই বিক্রি হয় | তবে বিদেশের স্ট্রিট ফুড খুব সস্তার হয় না | 

এদেশে নানা রাজ্যে নানা স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায় | দিল্লিতে চানা বাটুরা, মশালা চাট, চাটনি সিঙারা, দই কচুরি থেকে খুঁজলে চিকেনের নানা খাদ্য পাওয়া যায় | তবে দিল্লিতে বিখ্যাত ফলের রস | সারা দিল্লিতে গ্রীষ্মে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ফলের রস বিক্রি হয় | মুম্বইতে বিখ্যাত পাও ভাজি এবং বড়া পাও | মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রের মানুষ পাউরুটি খেতে খুব ভালোবাসে | ওই শহরে রাস্তায় খুব বেশি সিঙারা বা চাটের চল নেই | পাও ভাজি পাউরুটি দিয়ে একধরনের ডাল খাওয়ার নাম | নানা ডাল এবং মশলা দিয়ে বানানো হয় পাও ভাজি | বড়াপাও-ও পাউরুটি দিয়ে বানাতে হয়, তবে এটি সাধারণ পাউরুটি নয় বরং মিষ্টিহীন বন রুটি | রুটিটি কেটে তার মধ্যে আলুর চপ দিয়ে চাটনি সহযোগে বানাতে হয় | করোনা আবহে প্রতিটি খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু কলকাতা আছে কলকাতাতেই |

কলকাতার রাস্তায় পাওয়া যায় না, এমন খাদ্য নেই | ভাত, রুটি থেকে কচুরি, জিলিপি, রোল চাউমিন থেকে কাবাব এবং সারা ভারতের অন্য রাজ্যের খাবার | অনত্র দাম প্রচুর বাড়লেও কলকাতাতে আজও কম  টাকার মধ্যেই পেট ভরে খাওয়া যায় | যারা বিক্রেতা তাদের বক্তব্য, মানুষের হাতে টাকা নেই অথচ পেটে খিদে আছে। কাজেই বেশি লাভ করে লাভ নেই | আজও তাই অমলিন কলকাতার স্ট্রিট ফুড।  


CN FLASH গুরুত্বপূর্ণ খবর


# রাজ্যে ১৫ই নভেম্বর খুলছে স্কুল

# শব্দবাজি রুখতে পুলিশি অভিযান

# কনটেইমেন্ট জোন নিয়ে সিধান্ত

# সব্যসাচী খুনে নয়া মোড়

# লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ

# নাবালিকার পাশে প্রশাসন

# সদ্যোজাতের মৃতদেহ উধার

কাচ খেয়েই খোশমেজাজে

তিন ভাই এবং তিন বোনের অভাবের সংসার। দাদন দিতে গিয়ে খাবারের পয়সা জুটতো না। অভ্যাসটা তখন থেকেই। লুকিয়ে লুকিয়ে কাচ খেয়েই পেটের জ্বালা মেটাতেন। এই অভ্যাসই আজ নেশায় পরিণত হয়েছে l অবাক হলেও পুরুলিয়া পুঞ্চা ব্লকের কৈড়া গ্রামের বাসিন্দা বছর ৫৫র অনিরুদ্ধ সিং পাতর-এর খাদ্যাভ্যাস বিজ্ঞান তথা সাধারণ সমাজকে অবাক করেছেl

কাচ খাওয়া যে বিপজ্জনক, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে নাl কোনওভাবে শরীরের ভিতর যদি কাচ প্রবেশ করে, তাহলে অন্দরে ক্ষত তৈরি হয়ে তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে l হতে পারে রক্তক্ষরণ, এমনকি মৃত্যুওl  তবে বিজ্ঞানকে একরকম চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অনিরুদ্ধবাবু অনায়াসে টিউবলাইট, বাল্ব, ভাঙা বোতল, সিএফএল বাল্বের কাচ নির্দ্বিধায় খাবারের মতো চিবিয়ে খেয়ে ফেলেনl তবে এই অভ্যাস এক বা দুদিনের নয় l ১৫ বছর ধরে এভাবে কাঁচ খেয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন তিনি l হয়নি কোনও সমস্যা l তাঁর এই কৃতিত্ব দেখে আশপাশের গ্রামেও তাঁকে নিয়ে চর্চা হয় l তার কাচ খাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল l

কিভাবে অনিরুদ্ধবাবু এভাবে কাচ খেয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে? সেই নিয়ে ধন্দে চিকিৎসকরাl পুঞ্চা ব্লকের বিএমওএইচ নবকুমার বিশ্বাস বলেন, এটি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা l কাচ হজম করা সম্ভব নয় l ছোটবেলা থেকে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বড় হলেও তা রয়ে যায়।  এটি আসলে মানসিক রোগ l চিকিৎতকদের পরিভাষায় একে বলা হয় পাইকা। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর শরীরের নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার। বোঝা দরকার তাঁর সমস্যাটা ঠিক কোথায়।

এখন দেখার চিকিৎসার পর অনিরুদ্ধবাবুর দীর্ঘদিনের অদ্ভুত ওই অভ্যাসে কোনও পরিবর্তন আসে কি না।   


অপ্রাপ্তির সুন্দরবন

এ যেন প্রদীপের নিচেই অন্ধকার। একদিকে ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠছে শহর, মানুষকে আরও স্বাচ্ছন্দ্য দিতে মেট্রো বিদায় জানাচ্ছে নন-এসি রেককে। অন্যদিকে একের পর এক ধাক্কায় নদীবাঁধ ভেঙে বিপর্যস্ত সুন্দরবনের গোসাবার বিস্তীর্ণ এলাকা। এক ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ধেয়ে আসছে আর এক বিপর্যয়। 

সামনেই উপ নির্বাচন। তাই না পাওয়ার ক্ষোভ ফের একবার ফেটে বেরিয়ে আসছে। চাই নদীবাঁধ, চাই ব্রিজ, চাই জেটিঘাট, চাই স্বাস্থ পরিষেবা। এরকম হাজারো দাবি নিয়ে এবার সোচ্চার ভুক্তভোগী ৯টি দ্বীপের গ্রামবাসীরা। 

এলাকাবাসীর আক্ষেপ, তিন বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গদখালি-গোসাবা ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। সেই ব্রিজ তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নির্মাণ হয়নি। থমকে গিয়েছে ব্রিজের কাজ, ব্রিজের মালপত্রও চলে যাচ্ছে কলকাতায়। স্বপ্নপূরণ কবে হবে, সেই ধোঁয়াশাতেই দিন কাটাচ্ছেন সুন্দরবাসী। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গোসাবা ব্লকেই বিধানসভা উপনির্বাচন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোট প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছে। গ্রামবাসীরাও মনে করছেন, তাঁদের দাবিদাওয়ার কথা নেতানেত্রীদের সামনে তুলে ধরার এটাই মোক্ষম সময়। 

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় দ্বীপ অঞ্চলের মধ্যে শীতের মরশুমে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ত। কিন্তু করোনার করাল গ্রাসে পর্যটকদের সেই আনাগোনা আর নেই। ফলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানও নেই। 

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের অভিযোগ, নিত্যদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে যেতে হয় কলকাতায়। নদীপথে তাঁদের ভরসা নৌকাই। তাই ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় তাঁরা অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এখানকার জেটিঘাটগুলিরও ভগ্নদশা। তৃণমূল সরকার আসার পর গোসাবায় নতুন করে কোনও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। চিকিৎসার জন্য রোগীদের যেতে হয় ক্যানিং, বাসন্তী অথবা কলকাতা শহরে। ইয়াসে নদীবাঁধ ভেঙে রাঙাবেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙাবেলিয়া ও পাখিরালয়, গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুলকি এবং সোনাগা এলাকায় প্লাবিত হয়ে পড়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি।

শাসকদলের অবশ্য বক্তব্য, ব্রিজের কাজ চলছে। ব্রিজ হবেই। উন্নয়নও কম হয়নি। 

কিন্তু এলাকাবাসীর ক্ষোভ, ভোট আসে ভোট যায়, নেতারা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতিই রয়ে যায়। লাভের লাভ কিছুই হয় না। এখনও সুন্দরবনের বহু মানুষকে মাছ ও কাঁকড়া ধরেই অন্নের সংস্থান করতে হয়|


CN TOP HEADLINES গুরুত্বপূর্ণ খবর

# উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী

# প্রচারে অভিষেক

# ফিরল ৫ নিথর দেহ

# আবাসিকদের ডেপুটেশন

# 'দাদা সাহেব' রাজনীকান্ত

মেলেনি আবাস যোজনার বাড়ি, অসহায় বৃদ্ধা

কথায় আছে, অন্ধের কিবা দিন কিবা রাত! কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মারা গিয়েছে। বড় ছেলে কর্মসূত্রে থাকে বাইরে। মেয়েও বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে। একাকিত্বের জীবন কাটাতে হচ্ছে এক বৃদ্ধাকে। এই বয়সে এসে এভাবে জীবন কাটানো যে কী কষ্টের, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন।  

পুরুলিয়ার বলরামপুর রাঙাডি গ্রামের বৃদ্ধা ঝুরুবালা ঘড়াই। বয়স  আশি বছর। কানে ভালো করে শুনতে পান না। চোখে দেখতে পেলেও তা পরিষ্কার নয়। একা একটি ভাঙা চালাবাড়িতে কাটছে তাঁর জীবন। মাটির উনুনে একবারের মতো তৈরি করে নেন ভাত। না হলে পাড়াপ্রতিবেশীর সাহায্যে জোটে অন্ন। বড় ছেলে তো আলাদা বাড়িতে থাকেন। মেয়েও আর নাকি মায়ের কাছে আসে না। ফলে এই বয়সে তাঁর পাশে কেউই নেই। 

তাই অশ্রুভেজা গলায় বৃদ্ধার আকুতি, আবাস যোজনায় আমার বাড়িটা অন্তত করে দেওয়া হোক। কারণ সামান্য বৃষ্টি হলেই মাথায় কুলো ঢাকা দিয়ে রাত কাটাতে হয়। প্রশাসনের কাছে তিনি বারবার দরবার করেও কোনও সুরাহা পাননি। ফলে চরম ভোগান্তি এবং অসহায়ের মতো তাঁকে দিনযাপন করতে হচ্ছে।  

এদিকে ওই বৃদ্ধা জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার টাকা এসেছে। সেই খবর পাওয়া মাত্রই তিনি পাশ বই নিয়ে একাধিকবার ছুটে গিয়েছেন ব্যাঙ্কে। কিন্তু তাঁকে বারবারই ফিরে আসতে হয়েছে হতাশ হয়ে । আজও আসেনি টাকা। 

 এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা ভবানী গড়াই জানান, বৃদ্ধার পরিচয়পত্রে দুটি নাম আছে, তাই নিয়ে একটা সংশয় থেকে যাচ্ছে। সেই কারণেই টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, চেষ্টা করা হচ্ছে আবাস যোজনার এই টাকা যাতে দ্রুত তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়। 

তাহলে বৃদ্ধার আশা কি একদিন সত্যি হবে? নাকি শেষ বয়সে এসেও এভাবে কষ্টের মধ্যেই তাঁকে দিন কাটাতে হবে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। 


লজ্জার হার ভারতের

ভারত-পাকিস্তানের যে কোনও খেলাই হাইভোল্টেজ ম্যাচ| দু দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের একটাই চাহিদা, দেশ যেন জেতে| রবিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি| সকাল থেকে তেরঙ্গা পতাকায় দেওয়াল ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলা তথা কলকাতায়| উত্তেজনায় ভরপুর ছিল আম বাঙালিও, ভুলে গিয়েছিল রাজনীতির রেষারেষি| খেলা তো ভারতে নয়, সুদূর দুবাইতে, যেখানে কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে আইপিএল টুর্নামেন্ট। কাজেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা অনেকটাই অভ্যস্ত ছিলেন স্থানীয় আবহাওয়া এবং উইকেটের অবস্থান নিয়ে| 

ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে ৭ টা বাজতেই শুরু খেলা| টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামল ভারত| শুরুতেই বিপর্যয়| পরপর আউট হলেন রোহিত শর্মা এবং কে রাহুল| পাক বোলার আফ্রিদি কামাল করলেন দুটি মূল্যবান উইকেট নিয়ে| আসলেন অধিনায়ক কোহলি | ধরে খেলতে শুরু করলেন, কিন্তু তারপরই তৃতীয় উইকেটের পতন| এবারে এলেন ঋষভ পন্থ| কোহলি-পন্থ জুটি ধরে খেলে ১০ ওভারে ৬০ রান অর্থাৎ ৬ এর অ্যাভারেজ | ফের পরপর পন্থ সহ আরও উইকেট পতন | শেষ পর্যন্ত ভারতকে ১৫১ রানে থামতে হল| এই মাঠে যা খুব খারাপ নয়, আবার খুব ভালোও নয়| কোহলি অনেকদিন বাদে ভালো ব্যাট করে ৫০এর বেশি রান তুললেন| 

কিন্তু তারপরই চমক পাক অধিনায়ক বাবর আজম এবং রিজোয়ান। ধীরেসুস্থে ১৭ ওভারেই রান তুলে দিলেন| দেখা গেল, প্রতি ওভারে একটি বড় হিট এবং বাকি খুচরো রানেই ভারতের ইতি | রবিবার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বোলাররা | ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কোহলি এবং পন্থ ছাড়া কারও ব্যাটেই রান আসেনি|

এরপর শুরু কাটাছেঁড়া| দোষ কার ? প্রথমত এই পাক দল সম্বন্ধে ভারতের কোনও ধারণাই নেই| বহুদিন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়নি এবং কোনও এক অজানা কারণে পাক দলের কাউকে ভারতের আইপিএলে নেওয়া হয়নি| দলটি আগের স্ট্র্যাটেজি ঝেড়ে ফেলে নতুন তারুণ্যদের দল গঠন করেছে| পাকিস্তানের ফিল্ডিং বরাবরই খারাপ ছিল। কিন্তু এই নতুন দলটিতে ১১ জন খেলোয়াড়ই প্রভূত উন্নতি করেছে| ভারতের প্রায় ১৫ রান আটকেছে ফিল্ডিংয়ে| স্পিনিং ট্রাক হওয়া সত্ত্বেও অশ্বিনকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে| কোহলির পছন্দের ব্যাটসম্যান-বোলাররা সম্পূর্ণ ব্যর্থ| এবার ভাবার পালা।  


দেশে করোনা সংক্রমণ কমল

বেশ কয়েকদিন ধরে করোনার গ্রাফ অনেকটাই ওঠা-নামা করছিল। এদিকে এখনও উৎসবের মরশুম চলছে। তার মধ্যেই শীতের আমেজ শুরু। এইরকম একটা পরিস্থিতিতে যদি করোনাবিধি মেনে না চলা হয়, তবে তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশে খানিকটা কমল করোনা সংক্রমণ। 

সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ১৪ হাজার ৩৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪৪৩ জনের। রবিবার আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি ছিল। দেশে কমেছে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। এদিকে কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ সামনেই দীপাবলি।

সেইমত উৎসবে নিয়মবিধি বাঁধতেই নির্দেশ কেন্দ্রের। যদিও বাঙালির বড় উৎসব দুর্গাপুজোতে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তা সেভাবে কেউ মানেনি। তবে এখনও উৎসব কাটেনি। সেক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মানুষ কতটা মানে, সেটাই এখন দেখার।  

এদিকে কেন্দ্র নাইট কার্ফুর কথাও জানিয়েছে। ইতিমধ্যে নাইট কার্ফুর কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদীও। দেশজুড়ে জোরকদমে চলছে টিকাকরণ। ভারতে ১০০ কোটির টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকাকরণের আওতায় আনতে উদ্যোগী কেন্দ্র।

পাশাপাশি কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করার উদ্যোগও শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে যেখানে সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে কন্টেইনমেন্ট জোনের কথা বলা হয়েছে। তবে সামনেই দীপাবলি। পুজোর মতো এখানেও নিয়মাবলী মানুষ কতটা মানে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  

এদিকে কেরল, মহারাষ্ট্রে এখনও যেন আতঙ্ক কাটেনি। এই আতঙ্কের মাঝেই দেওয়ালি উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে দুশ্চিন্তা একটা থেকেই যাচ্ছে। 


বর্ষা বিদায়ের পরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

সোমবার থেকেই রাজ্যে শীতের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাত এবং সকালের দিকে হালকা শীত শীত ভাব অনুভূত হচ্ছে। এদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে কুয়াশা পড়াও।  আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত রাতে ও সকালের দিকে হালকা শীতের আমেজ বজায় থাকবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে শীতের আমেজ বেশি অনুভূত হবে। 

তবে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। কলকাতায় আংশিক মেঘলা আকাশ। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি হলেও তা খুব জোরালো হবে না। দু-এক পশলা ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে খুবই হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। 

রবিবার আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছিল, বঙ্গে বর্ষা বিদায় নিয়েছে। রাজ্যে এরপর প্রবেশ করবে শীত। তবে এখন উলোট-পুরাণ শুরু হয়েছে। ফের কতদিন এরকম চলে, সেটাই দেখার। কারণ এখনই ছাড়ছে না বৃষ্টি। মূলত ঘূর্ণাবর্তের জেরেই বৃষ্টি চলবে। এবছর তবে কি বৃষ্টিতেই কাটাতে হবে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।   

তবে রাতের তাপমাত্রা কমবে। সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ। বৃষ্টি হয়েছে ১.৮ মিলিমিটার। যদিও এবছর টানা বৃষ্টিতে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছিল মানুষ। চারদিকে একেবারে জলযন্ত্রণা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুজোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা আর হয়নি। এটাই যা রক্ষে।  

তবে বর্ষা বিদায়পর্ব শুরু হতেই  উত্তর পশ্চিম ভারতে আসতে শুরু করেছে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের কিছু অংশে তুষারপাতের সম্ভাবনা। বৃষ্টি হবে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ-সহ উত্তর পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে।


রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হাজার ছুঁইছুঁই


রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রোজই একটু একটু করে বাড়ছে। এদিকে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ৭টি ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে। আরও কিছু এলাকায় কনটেইনমেন্ট জোন করার চিন্তাভাবনা চলছে।  

রবিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮৯, অর্থাৎ হাজার ছুঁইছুঁই। মৃতের সংখ্যা ১০। 

কলকাতায় একদিনে আক্রান্ত ২৭৩, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনাতেও ২ জন করে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নদিয়া ও দার্জিলিংয়ে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

বাংলায় রবিবার পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৫৫ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৫ জন। তবে রাজ্যে মোট সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫১৮ জন। একদিনে সুস্থ হয়েছে ৮২৮ জন। 

ফের বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই মূহুর্তে মোট সক্রিয় আক্রান্ত ৭ হাজার ৮৮২ জন। একদিনে বেড়েছে ১৫১ জন। পুজোর আগে এই সংখ্যা কমে ৭ হাজারের ঘরে ছিল। 

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মোট করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪২ হাজার ৬২২ টি। যার মধ্যে পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছেন ৯৮৯ জন। রাজ্যের পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার বেড়ে ২.৩২ শতাংশ। শনিবার যা ছিল ২.২৬ শতাংশ। 

পুজোর পর করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ফের কিছু এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করে হয়েছে। সূত্রের খবর, হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ৭টি ওয়ার্ডকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকে চলছে প্রচার। শুধু বসতি এলাকা নয়, বাজার এলাকায় চলছে প্রচার।  

এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে পুরসভা-স্বাস্থ্য দফতরের দ্বিমত দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, কলকাতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতর যে তথ্য দিচ্ছে, পুরসভার হিসেবে তা অনেক কম। 


CN FLASH গুরুত্বপূর্ণ খবর

# উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী

# করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত 

# কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা

# মহাযজ্ঞের আয়োজন

# শব্দবাজি উদ্ধার

# রাস্তা অবরোধ

# জমি নিয়ে বিবাদ 

Tamil Nadu: হঠাৎ ভিড় বাসে মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী যাচ্ছিলেন টিকা কেন্দ্রে। হঠাৎ কনভয় ছেড়ে উঠে পড়লেন ভিড় বাসে। তাঁকে দেখে হতবাক বাসযাত্রীরা।  স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কিনা বাসে!

তামিলনাড়ুতে চলছে টিকাকরণ। সেই উপলক্ষ্যেই শনিবার সকালে একটি টিকাকরণ কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্তালিন। মাঝপথে হঠাৎই থেমে যায় তাঁর কনভয়। 

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী গাড়ির দরজা খুলে রাস্তায় নেমে পড়লেন। তারপর রাস্তা পেরিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে উঠে পড়লেন তাতে।

চেন্নাইয়ের এম ১৯বি কন্নগিনগর-টিনগর রুটের বাসে উঠে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তখন ওই বাসটি তামিলনাড়ুর মহিলাদের বিনামূল্যে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। ক্ষমতায় আসার পর স্তালিনের ডিএমকে সরকারই ওই রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই পরিষেবা চালু করে। 

এদিকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে বাসে দেখে আপ্লুত বাসযাত্রীরা। কয়েকজন যাত্রী তাঁর সঙ্গে সেলফিও তোলেন। বাসে উঠে নিজেই মহিলা যাত্রীদের কাছে খোঁজ নিলেন সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা নিয়ে। জানতে চাইলেন, মহিলারা বিনামূল্যে বাস পরিষেবা নিয়ে কী ভাবছেন, কী করণীয়, কী অসুবিধা রয়েছে তাঁদের ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন নানা বিষয়েই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

তারপর বাস থেকে নেমেও পড়েন তিনি। তখন তাঁর পরনে ছিল ধবধবে সাদা শার্ট-প্যান্ট, মুখে মাস্ক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভিডিও-সহ একটি ট্যুইট করেন। পাশাপাশি তাঁর দফতরের তরফেও ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো ট্যুইট করা হয়। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কনভয় থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। এবার তেমনই জনসংযোগ করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্তালিন।


রক্তদানে উৎসাহিত করতে মাইলের পর মাইল হাঁটা

মাইলের পর মাইল। তিনি হেঁটেই চলেছেন। মনে অদম্য জোর। আর লক্ষ্যে স্থির। রক্তের অভাবে মানুষকে যে কী অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়, সেই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাও তাঁর কম হয়নি। বিশেষত করোনাকালে রক্তদান নিয়ে অনেকের মধ্যেই একটা ভয়ভীতি কাজ করে। তিনি নিজের এক আত্মীয়ের জন্য রক্ত জোগাড় করতে গিয়েও পদে পদে ধাক্কা খেয়েছেন। তখন থেকেই মনটা আকুলি বিকুলি করে উঠেছে। কীভাবে এই সংকটের মোকাবিলা করা যায়, তার জন্য ঘুম ছুটেছে রাতের। কিন্তু থেমে যায়নি তাঁর চিন্তা, থেমে যায়নি তাঁর জেদ। ২৪ বছরের ওই যুবক সকলকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে গত এপ্রিলেই বেরিয়ে পড়েন নানা দেশে। পায়ে হেঁটেই ঘুরেছেন দূর-দূরান্তে। 

সবাই জানেন, রক্তদান মহৎ কাজ।  তবে আজকাল অনেকের মধ্যেই এ ব্যাপারে অনীহা জন্ম দেয় নতুন সংকটের। তা কাটাতেই এই অভিনব উদ্যোগ ওই যুবকের। 

কন্যাকুমারী থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। এরপর একে একে কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ নানা জায়গায় ঘুরেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার কিলোমিটার ঘোরা সম্পূর্ণ হয়েছে তাঁর। অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, তামিলনাড়ু সরকার তাঁকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁর জন্য ই পাসেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছে।  একটাই উদ্দেশ্য, রক্তদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা।  জানা যায়, এই যুবক দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর মাথায় আসে, শুধু ঘরে বসে এভাবে মানুষকে রক্তদানে অনুপ্রাণিত করা সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে রক্তদানের ব্যাপারে উৎসাহিত করার পথে পা বাড়ান তিনি। মাঝে নিজেই হয়ে পড়েছিলেন করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু তাতে কী। করোনামুক্ত হতেই ফের পথে। 

ওই যুবক ঘুরে ঘুরে একাধিক জায়গায় মানুষের সাথে কথা বলছেন। মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে বারবার বোঝাচ্ছেন। তবে তাঁর এই অভিনব সফর যে প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এরপর ওই যুবক নিজেই একটি সংস্থা খোলেন। সেখানে বেশ কিছু মানুষ এসে রক্তদানও করেন। এই যুবকের অদম্য উৎসাহই কিন্তু মানুষকে টেনে আনছে রক্তদানের শিবিরে। মাইলের পর মাইল হেঁটে এভাবে অভিযান চালানো সত্যিই কল্পনার বাইরে, এমনটা ভেবে অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 

অর্ডার আই ফোনের, এল বাসন মাজার সাবান

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস।

উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন ই কমার্স সংস্থা নানা ধরনের স্কিম নিয়ে আসে। মূলত বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম দামে তারা বিভিন্ন পণ্য বাজারে নিয়ে আসে। এই সময় অর্ডারও পড়ে ভালোরকম। 

সখ করে অর্ডার দিয়েছিলেন আই ফোন টুয়েলভ-এর। দাম ৭০ হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু বাক্স খুলেই অবাক। এসেছে বাসন মাজার সাবানের বার এবং ৫ টাকার কয়েন। এমন ধাক্কা আসবে, স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।  দুঃখের এই কাহিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল।

এমনই ঘটনার সাক্ষী কেরলের এক বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ১২ অক্টোবর তিনি একটি নামী ই কমার্স সংস্থায় অর্ডার প্লেস করেন। এবং 'মহা মূল্যবান' ওই প্যাকেটটি পান ১৫ অক্টোবর।

অভিযোগ পেয়ে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম থানা। তাতে তো আরও চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিস যোগাযোগ করে অর্ডার দেওয়া ফোনটির তেলেঙ্গানার বিক্রেতার সঙ্গে। দেখা যায়, অর্ডার মতো যে ফোনটি পাওয়ার কথা, সেটি ব্যবহার করছেন ঝাড়খণ্ডের একজন ব্যক্তি এবং তাও সেপ্টেম্বর থেকে। অর্থাৎ তাঁর অর্ডার দেওয়ার আগে থেকেই। এমনকী ওই মডেলের ফোন তাঁর স্টকেও ছিল না। পরে অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।   

এরকম ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। কলকাতার বালিগঞ্জ এয়ার ফোর্স ক্যাম্পের এক উইং কমান্ডারও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন জানুয়ারি মাসে।  ৩৮ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি অর্ডার দিয়েছিলেন লেটেস্ট আই ফোনের, যার দাম ছিল ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু বাক্স খুলে তাঁরও অভিজ্ঞতা হয়েছিল একই। ভিতরে রয়েছে সেই একই জিনিস, সাবানের বার।

ওই ব্যক্তির অভিজ্ঞতা হল, বাক্স খোলার সময়ই তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। কেমন যেন হালকা হালকা। তারপর তো মিলে গেল তাঁর আশঙ্কা।

এইভাবে একের পর এক ঘটনায় যেভাবে মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ হচ্ছে, তাতে উদ্বেগের জায়গাটা থেকেই যাচ্ছে। পুলিস এইসব ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করুক এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক, এটাই এখন সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ, এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।