‘নিয়ন্ত্রকরা তাড়ায়নি বা আমিও দল ছাড়িনি’, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর

0

করোনা থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রতি ক্ষেত্রেই আমি মানুষের মধ্যে থেকেছি। চলে যাইনি। আমি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। রামনগরের সভায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর। এদিন সমবায় সপ্তাহ পালনের মঞ্চও ছিল কার্যত অরাজনৈতিক। এই মঞ্চেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান খোলসা করলেন না শুভেন্দু। উল্টে সংবাদমাধ্যমের একাংশকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটা দলের প্রাথমিক সদস্য। আমি একটা মন্ত্রিসভার সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী রেখেছেন। আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি আবার আমিও দল ছাড়িনি’।

এরপর আরও সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কথাবার্তা দলের ভিতরে থেকে, মন্ত্রিসভায় থেকে বলা যায় না। আমরা বিদ্যাসাগরের দেশের মানুষ। আমরা এত অনৈতিক কাজ করি না। শুভেন্দু স্থান, কাল, পাত্র ও ম্যানার জানে’। তবে এর আগের জনসভাগুলি থেকে শুভেন্দু অধিকারী যতটা সুর চড়িয়ে ছিলেন, এদিনের সভায় তিনি ততটা তীব্র আক্রমণে যাননি। তিনি বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মতান্তর, বিভেদ হয়, বিভেদ থেকে বিচ্ছেদও হয়। যতক্ষণ ওই দলে আছেন, বা মন্ত্রিসভায় আছেন… যতক্ষণ নিয়ন্ত্রকরা তাড়ায়নি বা আমি ছাড়িনি ততক্ষণ এসব মঞ্চে ওসব কথা বলা যায় না। একেবারে নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাজ করার লোক আমরা নই’।

তবে নিজের দলের নাম এবং দলনেত্রীর নামও তিনি একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি শুভেন্দু। দলের শীর্ষনেতৃত্বকেও আক্রমণ করেন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে। শুভেন্দু এদিন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি একদিন-দুদিনের লোক নই তো, বসন্তের কোকিলও নই। সবার সঙ্গে আত্মিক পরিচয় রয়েছে। আর শুধু ভোট চাই ভোট দাও, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও বলি না। লকডাউনে, কোভিডে, আমফানে সকলের মাঝে থাকি। নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি’।

ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এদিনও নিজের শক্তি প্রদর্শন করলেন শুভেন্দু। এদিনের সভায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল রামনগরে। অপরদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট না করেও তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের দিকে আবার অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। এবার অপেক্ষা শাসকদলের প্রতিক্রিয়ার জন্য।