Durga Puja: মমতার আদলে কলকাতায় দেবীমূর্তি

এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিকল চেহারা নিয়ে পুজোর আঙিনায় মাতৃময়ী দুর্গা রূপে। টার্গেট ২০২৪। আর সেই কথা মাথায় রেখেই এই মূর্তি তৈরীর ভাবনা। তবে কি পুজোর মন্ডপ তাহলে প্রচারের হাতিয়ার এবার। উপ নির্বাচন আসন্ন।  তারমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  উপনির্বাচনের প্রার্থী হতে চলেছেন। এর মধ্যেই দুর্গা বন্দনা উদ্যোক্তাদের। দিদিকে দেখতে চান দিল্লিতে।

এই প্রথমবার এই উদ্যোগ নিল বাগুইহাটির নজরুল পার্ক উন্নয়ন সমিতি। এবছর তাদের প্রথম থিমের পুজো। তবে পুজোর থিমে একেবারেই  রাজনীতি দেখতে নারাজ উদ্যোক্তারা। পুজোর উদ্যোক্তারা  অবশ্য জানিয়েছেন, সরকার আমাদের জন্য একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দুয়ারে হাজির করেছেন । তৃতীয়বার সরকার গঠন করে দিদি প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। দিদির অনুপ্রেরণায় তাই  সাধারন নাগরিক হিসাবে মাতৃরূপী মমতাকেই তুলে ধরা হচ্ছে  থিমে। তার মমতাময়ী মা রূপটাই তুলে ধরা হচ্ছে মূর্তিতে। স্বাস্থ্যসাথী থেকে খাদ্য সাথী , কন্যাশ্রী  থেকে লক্ষীর ভান্ডার একাধিক প্রকল্প রাখা হচ্ছে থিমের আঙিনায়।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর   একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন যা গুনে তুলে ধরা সম্ভব না । কারণ বাজেট কম।  জায়গা সীমাবদ্ধ। এ বছর প্রথম থিমের পুজো। মুখ্যমন্ত্রীর আসল উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে আসল দুর্গা প্রতিমা। কোনোরকম  হিংসাত্মক রূপ দেওয়া হবে না প্রতিমায়। কোনরকম ভাবেই বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করতে চান না উদ্যোক্তারা।

পুজো সকলের আনন্দের। শাস্ত্র ও স্বাস্থ্য মেনে করা হবে পুজো। কলকাতার কুমোর পাড়ার এখন নামী শিল্পীর হাতেই তৈরি হচ্ছে এই ফাইবারের প্রতিমা। ভিআইপি বাগুইহাটি সংলগ্ন একটি ছোট্ট পুজোর ক্লাবের এই দুর্গা প্রতিমা দেখতে ভিড় জমাবে অনুগামীরা থেকে উৎসুক জনতা। নিশ্চিত উদ্যোক্তারা।

কীভাবে করোনাবিধি ও বিরোধীপক্ষের সমালোচনার বন্যা  সামলাবেন  তাই নিয়েই  চিন্তিত উদ্যোক্তারা। এদিকে তৃতীয়বারের জন্য  বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আমজনতা গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কে। প্রতিবেশীরাও খুশি  এই পুজোকে ঘিরে। তবে জানা যাচ্ছে এই মূর্তি পূজিত নয়. কিন্তু মণ্ডপ সজ্জা হিসেবে এই মূর্তি রাখা হবে ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে। 


Durga Puja: কলকাতায় এ বার ৩০০ কোটির পুজো, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পড়েছে হোর্ডিং

কলকাতাঃ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো একেবারে দোঁড়গোড়ায়। হাতে আর মাত্র ৩৮ দিন বাকি পুজোর। তবে করোনা অতিমারীতে এবারে শহরতলিতে পুজোর বাজেট কমেছে অনেকটাই। সেক্ষেত্রে ক্লাবের পুজোগুলো অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে।কয়েকবছর আগে কলকাতায় ছেয়ে গিয়েছিল 'এত বড় সত্যি' হোর্ডিংয়ে । দেশপ্রিয় পার্কের সেই 'সত্যি' অর্থাৎ বিশালাকৃতির দুর্গা ঠাকুর দেখতে চতুর্থী থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন শহর থেকে শহরতলির সাধারণ মানুষ। এবারে সেই শহরেই  দেখা যাবে  ৩০০ কোটির  দুর্গাপুজো! দেখা যাবে  বড়িশা সার্বজনীন পুজো প্রাঙ্গনে ।

৩০০ কোটির মণ্ডপ যেনো একটু একটু করে গড়ে উঠছে বড়িশার পুজো প্রাঙ্গনে। এরমধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হোর্ডিং পড়তে শুরু করেছে। হোর্ডিংয়ে লেখা 'এ বার ৩০০ কোটির পুজো!!!'। কিন্তু কে বা কারা এই বিশাল বাজেটের পুজো করছেন, তার কোনও উল্লেখ সেখানে নেই। করোনা অতিমারীর সময়ে যেখানে মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে। পুজো হলেও, সব ক্লাব বাজেট কমিয়ে দিয়েছে, সেখানে এত কোটি টাকার পুজো কীভাবে করা সম্ভব? তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা। কিন্তু ৩০০ কোটির পুজো হচ্ছেই বড়িশাতে।

এই অতিমারীতে কিভাবে সম্ভব এতো বড় বাজেটের পুজো করার। বড়িশা ক্লাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, "আমাদের থিম ৩০০ কোটির পুজো, কিন্তু ২০২১ সালের পুজোর বাজেট একেবারেই ৩০০ কোটি টাকা নয়। বরং অন্যান্য বারের তুলনায় বাজেট এ বারে কম।" কিন্তু বাজেট কম হোক বা বেশি থিম নিয়ে যে গল্প বড়িশার এ বারের থিম মেকার কৃশানু পাল শোনালেন, তাও বেশ রোমহর্ষক।

এবারে বড়িশা সর্বজনীনের থিম একেবারেই ইতিহাসে ঠাসা এক গল্প। এবারে বড়িশা সর্বজনীনের মণ্ডপে উঠে আসবে সেই ১৬০৬ সালের পুজোর ইতিহাস। আর তখনকার ৯ লক্ষ টাকার বর্তমান বাজারমূল্য ৩০০ কোটি। তাই এবার বড়িশা সর্বজনীনের পুজো ৩০০ কোটির পুজো বলাই যায়। 


Durga Puja: এবার দুর্গাপুজো কবে? দেখে নিন সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট

কলকাতাঃ পুজো মানেই তো অনেক পরিকল্পনা, অনেক গোছগাছ, প্ল্যানিং। ঠাকুর দেখা, প্যান্ডেল হপিং, খাওয়াদাওয়া,এর পাশাপাশি সময় মতো পুজো দেওয়া, অঞ্জলি, ভোগ খাওয়া। এবার দুর্গাদেবীর ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় আগমন আর দোলা অর্থাৎ পালকিতে গমন। 

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে পুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট-

মহালয়া– অমাবস্যা তিথি আরম্ভ– বাংলা– ১৮ আশ্বিন, মঙ্গলবার। ইংরেজি– ৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার। সময়– সন্ধ্যা ৭টা ০৬ মিনিট। অমাবস্যা তিথি শেষ– বাংলা– ১৯ আশ্বিন, বুধবার। ইংরেজি– ৬ অক্টোবর, বুধবার। সময়– বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিট।

পঞ্চমী– পঞ্চমী তিথি আরম্ভ– বাংলা– ২২ আশ্বিন, শনিবার। ইংরেজি– ৯ অক্টোবর, শনিবার। সময়– ভোর ৪টে ৫৭ মিনিট। পঞ্চমী তিথি শেষ– বাংলার– ২৩ আশ্বিন, রবিবার। ইংরেজি– ১০ অক্টোবর, রবিবার। সময়– রাত সওয়া ২টো। শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর পঞ্চমী বিহিত পূজা।

ষষ্ঠী– ষষ্ঠী তিথি আরম্ভ– বাংলা– ২৩ আশ্বিন, রবিবার। ইংরেজি– ১০ অক্টোবর, রবিবার। সময়– রাত ২টো ১৬ মিনিট। ষষ্ঠী তিথি শেষ– বাংলা– ২৪ আশ্বিন, সোমবার। ইংরেজি– ১১ অক্টোবর, সোমবার। 

সপ্তমী -তিথি আরম্ভ– বাংলা– ২৪ আশ্বিন, সোমবার। ইংরেজি– ১১ অক্টোবর, সোমবার। সময়– রাত ১১টা ৫২ মিনিট। সপ্তমী তিথি শেষ– বাংলা– ২৫ আশ্বিন, মঙ্গলবার। ইংরেজি– ১২ অক্টোবর। 

অষ্টমী - অষ্টমী তিথি আরম্ভ – বাংলার – ২৫ আশ্বিন, মঙ্গলবার। ইং – ১২ অক্টোবর, মঙ্গলবার। সময় –রাত্রি ৯ টা ৪৯ মিনিট। অষ্টমী তিথি শেষ – বাংলার – ২৬ আশ্বিন, বুধবার। ইং – ১৩ অক্টোবর।

সন্ধি পূজা - রাত্রি ৭ টা ৪৪ গতে সন্ধিপুজা আরম্ভ। রাত্রি ০৮ টা ০৮ গতে বলিদান। রাত্রি ৮ টা ৩২ মধ্যে সন্ধিপুজা সমাপন। 

নবমী – নবমী তিথি আরম্ভ – বাংলার – ২৬ আশ্বিন, বুধবার। ইং – ১৩ অক্টোবর, বুধবার। সময় – রাত্রি ০৮ টা ০৯ মিনিট। নবমী তিথি শেষ –- বাংলার – ২৭ আশ্বিন, বৃহস্পতিবার। ইং – ১৪ অক্টোবর।

দশমী – দশমী তিথি আরম্ভ – বাংলার – ২৭ আশ্বিন, বৃহস্পতিবার। ইং – ১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। সময় – রাত্রি ৬ টা ৫৪ মিনিট। দশমী তিথি শেষ – বাংলার – ২৮ আশ্বিন, শুক্রবার। ইং – ১৫ অক্টোবর।  


Durga Puja: বাজলো তোমার আলোর বেনু, দুর্গা আসছে!

প্রায় এসেই গেল পুজো। ভাদ্রমাস শেষ হতে চলল। বাতাসে আশ্বিনের মেঘ-রোদ্দুরের গন্ধ। কাশ ফুটল বলে নদীতীরে। ঠিক এই আবহই প্রতি বছর মনে একটা আবেশ তৈরি করে দেয় আর বাঙালির মনটা পুজো-পুজো করে ওঠে।পুরাকালে মহিষাসুর নামে এক অসুর ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে সমগ্র স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল অধিকার করল। মুনি-ঋষিরাও রেহাই পেলেন না তার অত্যাচার থেকে। দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলেন। জানা গেল, ব্রহ্মার বরে বলীয়ান মহিষাসুরকে ত্রিলোকের কোনও পুরুষই পরাভূত করতে পারবেন না। তাই সে অপরাজেয়।

দেবতাদের মুখে মহিষাসুরের অত্যাচারের কাহিনি শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর ক্রোধান্বিত হলেন। তাঁদের মুখমণ্ডল ভীষণাকার ধারণ করল। তাঁদের ক্রোধাগ্নি এবং দেবতাদের তেজ সম্মিলিত হয়ে এসময়ে তৈরি হয়ে উঠলেন এক নারী। ত্রিভুবনের দুর্গতি নাশের জন্য তাঁর আবির্ভাব। এজন্য তাঁর নাম-- দুর্গা।পুজো নিয়ে প্রতিটা বাঙালি মেতে থাকতে চায়. বছরে একবার

এই উৎসবের জন্যই তো বাঙালির অপেক্ষা। সুখ- দুঃখ যা থাকুক কিন্তু পুজোতে সকলেই মেতে ওঠে. মহালয়ের সকালে যখন বীরেন্দ্কৃষ্ণ ভদ্রের পাঠ  যেনো ছুঁয়ে যায়. এদিকে বাজলো তোমার আলোর বেনু এই গানগুলো একটা আলাদাই অনুভূতি এনে দেয়. শরতের সকাল,শিউলি ফুল  যেনো মন্মুকগ্ধকর। তবে আজকাল সেই আনন্দ মনে না আসলেও পুরাতন কথা ভেবেই এগিয়ে চলছে প্রতিটা বাঙালি।

Durgapuja: এবারও সব পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার করে দেবে রাজ্য সরকার

কলকাতাঃ গত  বছরের মতো এ বছরও প্রতিটি পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আজ নেতাজি ইন্ডোরে  দুর্গা পূজার গাইডলাইন নিয়ে বৈঠকে এমনটাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তাছাড়া বিদ্যুতের বিলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হল এদিন। মকুব করা হয়েছে পুজোর লাইসেন্স ফি-ও।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,আগের বছরের মতো কোভিড বিধি মেনে পুজো করতে হবে। সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে, নিশ্চিন্তে পুজো করুন। রাজ্যে ৩৬ হাজার ক্লাব, কলকাতায় আড়াই হাজার ক্লাবে পুজো। যত বেশি মাস্ক ব্যবহার করতে পারব, তত বেশি সচেতনতা। মণ্ডপের মধ্যে মাস্ক বিলির ব্যবস্থা করতে হবে। ক্লাব চত্বর স্যানিটাইজ করতে হবে।

তিনি আরও জানালেন, পুজোর রাতে ছাড় থাকবে কিনা, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ১৫ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জন করা যাবে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতি বুঝে আগামী ১৮ অক্টোবর কার্নিভাল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বছরও করোনা কাঁটায় পুজো কার্নিভ্যাল বাতিল হয়েছিল। 

করোনা বিধি মেনেই প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন সকলে। যদিও পুজোতে নাইট কার্ফু জারি থাকবে কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য।