ব্রেকিং নিউজ
whenever-the-siren-sounded-I-would-lose-my-way-Dipanjali-still-had-the-terror-of-war-in-his-eyes
Ukrain India: 'সাইরেন বাজলেই দিশাহারা হয়ে পড়তাম', দীপাঞ্জলির চোখেমুখে এখনও যুদ্ধের আতঙ্ক

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-03-08 17:10:20


"বেঁচে ফিরেছি, এই অনেক। আটকে থাকা বাকি সবাই যেন সাবধানে বাড়ি ফিরতে পারে।" বাড়ি ফিরে জানাল দীপাঞ্জলি বেরা। সোমবার ভোরে হলদিয়ায় নিজের ঘরে ফিরেছেন ইউক্রেনের কিয়েভ মেডিক্যাল কলেজের ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্রী দীপাঞ্জলি। হলদিয়া পুরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের দুর্গাচকের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীপাঞ্জলির চোখেমুখে এখনও যুদ্ধের আতঙ্ক। মা মৌসুমী বেরা মেয়েকে কাছে পেয়ে তাঁকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক ছেলে আর এই এক মেয়েকে নিয়ে মানুষ গড়ার স্বপ্ন বাবা ভোলানাথ বেরার। ব্যবসায়ী ভোলানাথ বেরা ডাক্তারি পড়াতে ইউক্রেনে পাঠিয়েছিলেন। এটাই ছিল মেয়ের পাঠ্যক্রমের শেষ বছর। চলতি বছরের মে মাসে ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এই যুদ্ধ গোটা পরিবারকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে।

ছাত্রী বলেন, "২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠে বন্ধুদের কাছে জানতে পারি, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। অনেকদিন থেকে ঠান্ডা যুদ্ধের আভাস পেয়েছিলাম। কিন্তু এরকম হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত হবে, কখনও বিশ্বাস করিনি। বাঙ্কারে ১০ দিন প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাঁপুনি সহ্য করে থাকতে হয়েছে। পানীয় জল ও খাবার পাইনি। সাইরেন বাজলেই দিশাহারা হয়ে পড়তাম। বাড়ি আসা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকব কিনা, সেই চিন্তা আমাদের বন্ধুদের কুরে কুরে খেত।"

অন্যদিকে বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া থানার নয়াবস্তিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁকড়া সুতি গ্রামের বছর ২৪ এর আজাহার ইসলাম বাড়ি ফিরেছেন। ২০১৮ সালে ডাক্তারি পড়ার জন্য ইউক্রেনের কিভে গিয়েছিলেন। চতুর্থ বছরের মেডিক্যাল ছাত্র। রাশিয়া ও ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যে মেডিক্যাল পড়া আর হল না। অবশেষে নিজের জীবন, সঙ্গে ৪৮ জন সহপাঠীদের গ্রুপ ক্যাপ্টেন হয়ে প্রায় ১১ শো কিলোমিটার পাড়ি দেন। কখনও বাস, ট্রেন আবার কখনও পায়ে হেঁটে নিজেদের খরচায় হাঙ্গেরি সীমান্তে পৌঁছতে হয়েছিল তাঁদের। ভারতীয় পড়ুয়াদের বিভিন্ন সময়ে একদিকে উপযুক্ত নথিপত্র চাওয়া হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় তাঁদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে বসে থাকতে হত। আবার কখনও বাসে আবার কখনও পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হয়েছে। এই পথ ছিল ভয়ংকর, এমনটাই জানান তিনি। পরিবারের একমাত্র সন্তান আজহার। যেহেতু সৈনিক পরিবারের ছেলে তাই সামনে থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হয়ে সহপাঠীদের নিয়ে হাঙ্গেরি সীমান্তে পৌঁছে যান তিনি। আজহার সোমবার গভীর রাত্রে বাদুড়িয়ার বাড়িতে এসে পৌঁছন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সৈনিক পরিবার।

অবশেষে খারকিভ থেকে বাড়িতে ফিরল হাবড়ার জিৎ রায়। খারকিভ থেকে ২৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে প্রথমে পেশোচিন পৌঁছন তাঁরা। এরপর সেখান থেকে নিজেরা বাস ভাড়া করে প্রায় ২৮ ঘণ্টা বাস যাত্রা করে টানোপিলে পৌঁছন। সেখান থেকে ঘণ্টা চারেক পুনরায় বাসে রোমানিয়া বর্ডার। এরপর ভারতীয় দূতাবাসের তরফে পাঠানো বিমানে দিল্লি হয়ে গতকাল গভীর রাতের ফ্লাইটে কলকাতা পৌঁছন। কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে হাবড়ার বাড়িতে পৌঁছায় ভোর তিনটে নাগাদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় ঘরের ছেলে ঘরে ফেরাতে খুশি জিতের পরিবার।

তবে বাড়ি ফিরে এলেও চোখের সামনে দেখা ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত কিভ ও খারকিভ শহরের ধ্বংসলীলা যেন চোখের সামনে ভাসছে বাড়ি ফেরত্ সকলের। পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার আশায় দিন গুনছেন তাঁরা।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন