ব্রেকিং নিউজ
a-monkey-visits-doctors-chamber-to-treat-it-illness-in-bankura
Monkey: চোখ যন্ত্রণা নিয়ে চেম্বারে, ডাক্তারবাবুকে দিয়ে নিজের চিকিৎসা করাল এক হনুমান

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-05-07 18:23:21


শরীর খুবই অসুস্থ, শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছে। তাই চিকিৎসা করাতে সোজা চলে এল ডাক্তার (Doctor) বাবুর চেম্বারে। তবে এই রোগী যেমন তেমন রোগী নয়। রোগীর পরিচয় ও কীর্তি দেখে চক্ষু চড়কগাছ চেম্বারে আসা বাকি পেসেন্টদের। রোগী একটি হনুমান (Monkey)। এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার(Bankura) সিমলাপালের দুবরাজপুর(Dubrajpur) গ্রামে গ্রামীণ চিকিৎসক অনিমেষ পালের চেম্বারে।

চেম্বারে এসে কোনও রকম উৎপাত না করে ইশারা করে দেখিয়ে দিল চোখের সমস্যা। শরীরের আর কোথায় অসুবিধা সেটাও দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই ডাক্তারবাবু পশু চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে ওষুধ দেন। ওষুধ নিয়ে টানা প্রায় দু'ঘণ্টা বেডে শুয়ে থাকল হনুমানটি। 

দুপুর বারোটা নাগাদ ডাক্তার পালের চেম্বারে গিয়ে দেখা গেল মাঝবয়সী একটি হনুমান রোগীদের বসার আসনে শুয়ে আছে। তখন ডাক্তারবাবু অন্যান্য রোগীদের দিব্য চিকিৎসা করছেন। আবার কোনও কোনও রোগী গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। কেউবা এনেছেন কলা, কেউবা আপেল। কিন্তু কোন কিছুই খাচ্ছেনা হনুমানটি। বারবার চোখ এবং মাথায় হাত দিয়ে কিছু একটা বোঝাতে চাইছে।

এ বিষয়ে গ্রামীণ চিকিৎসক অনিমেষ পাল জানান, হনুমানটিকে চেম্বারে দিকে আসতে দেখে ভয়ে প্রথমে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর হনুমানটি চেম্বারের পাশেই একটি জলের ট্যাপ খুলে জল খায়। তারপর ট্যাপটি যথারীতি বন্ধ করে দেয়। যা দেখে উপস্থিত অন্তত কুড়ি জন মানুষ হতবাক। জল খেয়ে এসে হনুমানটি বারবার দরজায় ধাক্কা মারতে থাকে। দরজা না খোলায় রাগে সাইকেল গুলোকে উল্টিয়ে দেয়। এরপর দরজা খুলতেই হনুমানটি রোগীদের ভিড় ঠেলে সরাসরি টেবিলের উপর তাঁর মুখোমুখি বসে। 

এরপর ওষুধের খাপ নিয়ে তাঁকে ইশারা করে দেখায় ওষুধ দেওয়ার জন্য। শুধু তাই নয় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে এমন কিছু। খবর পেয়ে অনেকেই বিভিন্ন রকমের ফল খেতে দেয় হনুমানটিকে। কিন্তু কোনও ফল না খেয়ে ইলেকট্রিক ফ্যানের নিচে বাতাসে চুপচাপ শুয়ে থাকে। একবার ইশারা করে ফ্যানের স্পিড বাড়াতে বলে। পরে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসক চোখে আই ড্রপ দেন। ব্যথানাশক ওষুধ হনুমানটি নিজেই খেয়ে নেয়। 

পরে খবর পেয়ে বনদফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। দুপুর ২টা নাগাদ দুবরাজপুরের বিট অফিসার ডাক্তার বাবুর চেম্বারে এলে হনুমানটি মোটরসাইকেলে চেপে বিট বাবুর সঙ্গে ফরেস্ট অফিসে চলে যায়। বিকেলে ফের ডাক্তারবাবুর চেম্বারে চলে আসে। যন্ত্রণা বাড়তে থাকায় বিকেল পাঁচটা নাগাদ চেম্বারে একইভাবে শুয়ে থাকে।

তবে এই বিষয়ে সারেঙ্গা রেঞ্জ অফিসার সুরজিৎ কুমার মজুমদার জানান, হয়তো এই প্রখর রোদে এই হনুমানটি অসুস্থ বোধ করেছিল।  বা জল খাবার জন্য দুবরাজপুর এলাকায় ঐ চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে পড়েছিল। বর্তমানে হনুমাটিকে দুবরাজপুর বিট এলাকার থেকে সারেঙ্গা রেঞ্জে আনার পর চিকিৎসা করিয়ে বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে হনুমানটিকে। এবং পরে তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এককথায় বলা যায়, বাঁদরের বাঁদরামি নয়, বাঁদরের অসুস্থতায় নাজেহাল ডাক্তারবাবু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং বনদফতরের কর্মীরা।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন