ব্রেকিং নিউজ
   শিলিগুড়িতে বাড়িওয়ালা দম্পতির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, মৃত্যু হয় স্ত্রীর, গুরুতর আহত স্বামী     কুলতলীতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার তিন দুষ্কৃতী, উদ্ধার বন্দুক ও এক রাউন্ড কার্তুজ      জীবনতলা থানা এলাকায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর, চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়     মায়াপুরে আগামীকাল পালিত হবে গীতা জয়ন্তী উৎসব      প্রয়াত নাট্য জগতের বর্ষীয়ান মায়া ঘোষ     আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস  
They-promote-the-government-project-in-songs-neglected
Durgapur singer গানে গানে সরকারি প্রকল্পের প্রচার করে নিজেরাই অবহেলিত

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-02-20 17:44:45


রাজ্যে বেশ কিছু শিল্পী সরকারের হয়ে প্রচার করেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, বিধবাভাতা, বার্ধক্যভাতা সহ আরও নানান প্রকল্পের প্রচার করে বেড়ান। গলার মায়াবী সুরে তাঁরা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান। উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে গানের মাধ্যমে বোঝানো, কেন তারা এই সরকারি প্রকল্পগুলিতে আবেদন করবেন। এর সুফল কোথায়, কীভাবে মিলবে এই সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা ইত্যাদি।

বিনিময়ে প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে মাত্র এক হাজার টাকা করে পান এঁরা। এখানে বলা হচ্ছে শম্পা আর মৌসুমীদের মতো শিল্পীদের কথা। দুর্গাপুরের বাসিন্দা এই দুই মহিলা শম্পা বিশ্বাস আর মৌসুমী ভট্টাচার্য। তাঁদের একটি দল রয়েছে গানের। কোনওক্রমে সরকারি খাতায় নাম তুলেছেন গানের মায়াবী সুরের জোরে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও প্রাপ্য মাত্র হাজার টাকা। তবে প্রদীপের তলাতেই যে অন্ধকার!

শম্পার বাবা মাছ বিক্রি করে এক সময় দিন গুজরান করতেন। লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অগত্যা এখন ঘরে বসে রয়েছেন তিনি। রয়েছে বৃদ্ধ ঠাকুমা। বাবার বয়সও নয় নয় করে ৬০ এর ওপরেই। রয়েছে দাদা-বৌদি, তাঁদের দুই সন্তান। শম্পার দাদা ভ্যান চালায়। আর শম্পা নিজে গান গেয়ে বেড়ায়। একই অবস্থা মৌসুমীদেবীর বাড়িতেও। স্বামীর বয়স বেড়েছে। এখন পুরোহিত পেশাতে এসে কিছু আয় করেন বটে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। কষ্টে কোনওরকমে ধারদেনা করে দুই মেয়েকে বড় করেছেন। পড়াশোনাও করাচ্ছেন। তাঁরা টিউশন করে এসে এখন সংসারের হাল ধরেছে। কিন্তু শম্পার দুয়ারে আজও পৌঁছয়নি বয়স্ক বাবা-ঠাকুমার বার্ধক্যভাতা প্রকল্প। পৌঁছয়নি বাকি অনেক সরকারি প্রকল্পের কাগজও। মেলেনি কন্যাশ্রী বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের স্পর্শ।

অথচ রাজ্য সরকারের লক্ষীর ভাণ্ডার, তপসিলি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা সহ আরও অনেক সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা বোঝাতেই তাঁরা নিয়ম করে পৌঁছে যাচ্ছেন দুয়ারে সরকারের কর্মসূচিতে। সকলকে বোঝাচ্ছেন, কীভাবে মিলবে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা। কিন্তু আজ তাঁদের অবস্থা কে দেখছে? তাঁরা রয়ে গেছেন যন্ত্রণার অন্তরালেই। যেখানে করুণ এক আর্তনাদ তাঁদের গলায় ঝরে পড়ছে সুরের মূর্ছনায়। 

তবে তৃণমূল নেতা তথা দুর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান সুনীল চট্টোপাধ্যায় জানান, আবেদন করলেই মিলবে সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা। সেটা খোঁজ নিয়ে দেখছি, কোথায় রয়েছে সমস্যা।

তবুও রয়ে গেছে প্রশ্ন, কবে সুদিন আসবে তাঁদের? সেই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজে বেড়াচ্ছে শম্পা-মৌসুমীদের মত বহু শিল্পীই।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন