৩০ মে, ২০২৪

Durgapur: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকায় তৈরি শৌচালয় বর্তমানে নীল সাদা রং-এর স্টোর রুম?
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2022-10-10 10:41:29   Share:   

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকায় তৈরি কমিউনিটি শৌচালয় (toilet) আজ স্রেফ নীল সাদা রং হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক আধ বছর নয়, টানা ৪ বছর ধরে উপযুক্ত পরিকাঠামো না তৈরি হওয়াতে আজও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি শৌচালয়। দুর্গাপুর (Durgapur) নগর নিগমের দায়সারা মনোভাবে সরব বিরোধীরাও। কোথায় গেলো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা? প্রশ্ন বিরোধীদের।

প্রসঙ্গত, আগে যেখানে ছিল শৌচালয়, বর্তমানে তা হয়েছে স্টোর রুম (Store room)। কিন্তু কাদের স্টোর রুম? এক শ্রেণীর স্থানীয় ব্যবসায়ীর। ঘটনাস্থল দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর এজোনের শিবাজী রোডের আমবাগান ১০ নম্বর ওয়ার্ড। কেন্দ্রের স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ করে এক একটি কমিউনিটি শৌচালয় তৈরি হয়েছিল। গোটা দুর্গাপুরে নয় নয় করে এইরকম প্রায় ২০ থেকে ২৫ টির মতো শৌচালয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বেশিরভাগ শৌচালয় আজ শুধু নীল সাদা রং হয়েই পড়ে রয়েছে। যেমন ইস্পাত নগরীর শিবাজী রোডের এই দুই কমিউনিটি শৌচালয়। পুলিসের নাকা চেকিংয়ের কাছে যেটি রয়েছে, সেটি ২০১৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল। উদ্ভোদক হিসেবে এখনও দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার রাজীব ঘোষের নাম জ্বলজ্বল করছে।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগে তৈরি হলেও এই শৌচালয়তে জলের পাইপ লাইন তৈরি হয়ে গেলেও আজও জোড়েনি জলের সংযোগ। একই অবস্থা এই এলাকার আরও একটি শৌচালয়েরও। স্বাভাবিকভাবেই শৌচালয় ঘর টানা ৪ বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকাতে পুলিসের নাকা চেকিংয়ের সামনে থাকা একটি শৌচালয় ঘর দখল করে বসে রয়েছে স্থানীয় এক ফুটপাত ব্যবসায়ী। সেই শৌচালয় ঘর এখন ঐ ব্যবসায়ীদের স্টোর রুম হয়ে বসে রয়েছে।  তাঁদের টেবিল, চেয়ার, ব্যবসার সামগ্রী সবটাই এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পর টাকায় তৈরি কমিউনিটি শৌচালয়তে থাকে। এখানেই শেষ নয়, সরকারি এই শৌচালয় ঘরের চাবি একটি ব্যবসায়ীর কাছে আরও একটি স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে থাকে বলে স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের একাংশর অভিযোগ।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কেন সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি শৌচালয়ের চাবি থাকবে দখলদার ব্যবসায়ী আর তৃণমূল পার্টি অফিসে? শুধু দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর এজোনের শিবাজী এলাকা নয় বিরোধীদের অভিযোগ, শহরের সবকটি কমিউনিটি শৌচালয়ের অবস্থা ঠিক এইরকম। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিজিত দত্তের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের একাংশ কাটমানি খেয়ে এই কাজ করেছে। আর এর কুফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে বিরোধীদের কটাক্ষ করে দুর্গাপুর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার রাজীব ঘোষ এই ঘটনার যাবতীয় দায় সাধারণের ওপর চাপালেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষ এই শৌচালয়গুলি নোংরা করছিল, তাই একটা সিস্টেমে আনার জন্য চাবি মারা আছে শৌচালয়গুলিতে। খুব তাড়াতাড়ি শৌচালয়গুলির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেন রাজীব বাবু। 


Follow us on :