ব্রেকিং নিউজ
No-fare-Murshida-sat-in-the-HS-Exam-with-efforts-of-headmaster
HS Exam: টানাটানির সংসারে গাড়িভাড়াই নেই, প্রধান শিক্ষকের চেষ্টায় উচ্চমাধ্য়মিকে বসল মুর্শিদা

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-04-23 14:15:04


উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। শুক্রবার ছিল প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ের পরীক্ষা। মুর্শিদা শেখ ভেবেই নিয়েছিল, আর বোধহয় তার পরীক্ষা দেওয়া হল না। কিন্তু না। এগিয়ে এলেন কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি। আসলে চরম আর্থিক সংকটে জেরবার তার পরিবার। আগের সবকটি পরীক্ষা দিলেও এদিন আর কোনওভাবেই পরীক্ষায় বসা সম্ভব হচ্ছিল না দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্রী মুর্শিদা শেখের।

সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। পরীক্ষায় না বসে তাই দু’পয়সা আয়ের জন্য জরির কাজে বসিয়ে দেয় মা। মুর্শিদা পরীক্ষা দিতে আসবে না, খবর জানামাত্রই কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি বাড়িতে শিক্ষকদের পাঠিয়ে পরীক্ষায় বসালেন তাকে। সাত ভাইবোন, মা-বাবাকে নিয়ে ৯ জনের সংসার। ভাইবোনের মধ্যে মুর্শিদা বড়। পড়াশোনার মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে জরির কাজ করে সংসার চালায়। মুর্শিদার বাড়ি হোগলডাঙা গ্রামে।

বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটারের কিছুটা বেশি। এদিন মুর্শিদা পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পরিবারের কাছে যাতায়াতের গাড়িভাড়া চায়। তখনই তার মা তাকে আর পরীক্ষায় না বসে বাড়িতে জরির কাজে বসতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু মুর্শিদা নাছোড়বান্দা। সে বাকি পরীক্ষাগুলোও দিতে চায়। কারণ আগের সবকটি পরীক্ষাই সে ভালো দিয়েছে। বিষয়টি বন্ধুদের মারফত ওই ছাত্রী তড়িঘড়ি জানায় কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতিকে। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল থেকে ওই ছাত্রীর বাড়ি পৌঁছে যান স্কুলের প্রতিনিধি। মুর্শিদাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসে পরীক্ষায় বসায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। মুর্শিদা জানায়, উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করে সে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায়। কিন্তু তার আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে তা আর সম্ভব হবে কিনা।

প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি জানান, উচ্চমাধ্যমিকে বাকি পরীক্ষাগুলোও যাতে মুর্শিদা দিতে পারে, তার জন্য তাকে এদিন যাতায়াত খরচ বাবদ কিছু আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। ওর পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়েছে যাতে আর তাঁরা তাকে পরীক্ষায় বসতে বাধা না দেন।

মুর্শিদার অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাঁরাও চান তাঁদের মেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক। কিন্তু সংসারে অভাব মেটাতেই এদিন তাকে পরীক্ষায় না বসে জরির কাজে বসতে বলা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের এখন ভুল ভেঙেছে। তাঁদের মেয়ে বাকি সব পরীক্ষাই দেবে বলে জানিয়েছে ওই পরিবার। প্রধান শিক্ষক জানান, উচ্চমাধ্যমিকের পর মুর্শিদাকে তার উচ্চশিক্ষার জন্যও যথাসম্ভব সাহায্য করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।শিক্ষকদের এই সহযোগিতায়, আন্তরিকতায় সামনে এল, সত্য়িই মানুষ মানুষেরই জন্য।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন