ব্রেকিং নিউজ
Complete-different-story-Trinamool-panchayat-head-maid-servant
Jharna: উলট পুরাণ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, কাজ করেন পরিচারিকার!

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-06-18 17:11:49


এ যেন উলট পুরাণ! রাজ্যজুড়ে যখন শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের প্রাসাদোপম অট্টালিকা, বৈভব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, তখন কোথাও যেন এসব থেকে শত যোজন দূরে ঝর্ণা রায়। ইনি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ২ নং ব্লকের বিজুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।

এঁর দিনযাপন অবাক করার মতো। নিজে দুই বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। নিজের ঘর সামলে দলের দেওয়া পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব গুরুত্ব দিয়ে সামলাছেন ঝর্ণা রায়। একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন ঝর্ণা রায়ের। তাঁর একটাই কথা, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী। তিনি দলের নেত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত। দল মানুষের সেবা করার জন্য তাঁকে যোগ্য মনে করে এই পদ দিয়েছে। তাই তিনি দলের ও দলনেত্রীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে চান।

পদে আছেন বলে নিজের পেশা ছাড়তে নারাজ তিনি। তাঁর সোজা জবাব, পদ আজ আছে, কাল চলে যেতে পারে। কিন্তু কর্ম করেই খেতে হবে। তাই নিয়মিত পরিচারিকার কাজ করে দারিদ্রকে সঙ্গী করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

মাটির ভেঙে পড়া বাড়িতে কোনওরকমে পঞ্চায়েতের ত্রিপল লাগিয়ে জীবনযাপন। পরপর দু'বার তৃণমূলের টিকিটে বিজুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। ২০১৮ সালে বিজুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন ঝর্ণা রায়। তাই রাজ্যের মধ্যে তিনি একজন দৃষ্টান্ত। 

ঝর্ণা রায় জানিয়েছেন, তাঁর দুই মেয়ে। কোনওরকমে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। স্বামী নীলু রায় দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তাঁর দুটি কিডনিই খারাপ, রয়েছে হার্টের সমস্যাও। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে তাঁর মানসিক সমস্যাও। পঞ্চায়েত প্রধান হিসাবে তিনি সাম্মানিক পান মাসে ৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে স্বামীর চিকিত্সা খরচই ঠিকমত হয় না। স্বাভাবিকভাবেই দুবেলা দুমুঠো খাবারের সংস্থান করতে পরিচারিকার কাজ এখনও তিনি করে যাচ্ছেন । 

আশু প্রয়োজন একটা স্থায়ী চাকরী কিংবা কাজের। কিন্তু আজ পর্যন্ত নিজের এই অসুবিধা বা সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারেননি তিনি। পরিচারিকার কাজ করেন বলে তাকে মাঝেমাঝেই কটুক্তিরও শিকার হতে হয় বলে দাবি ঝর্ণা রায়ের। তবে তাতে তিনি কিছু মনে করেন না। তার সোজা উত্তর কোনও কাজই ছোট নয়।

মেমারী ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মামণি মূর্মূ তাঁর এই অবস্থা দেখে  নানাভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মামণি মূর্মূ জানিয়েছেন, যখন তৃণমূল দল থেকে তাঁকে সংরক্ষিত আসনে দাঁড় করানো হয়েছিল তখন তাঁর সততাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। সেই সততার মূল্য নিজের জীবন দিয়ে দিচ্ছেন ঝর্ণাদেবী। প্রতিদিনই হাজারো মানুষ তাঁর কাছে আসেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। তিনি মেটানোর চেষ্টাও করেন। প্রধান হিসাবে তিনি ২৪ ঘণ্টাই তাঁর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন নিরলসভাবে। ঝর্ণাদেবী মাধ্যমিক পাশ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক দেবার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। ইচ্ছা স্নাতক হওয়ারও। 

ঝর্ণা রায়ের সততা নিয়ে বিজেপি কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পোদ্দার জানান,কিছু মানুষ তো সত্যিই আছে যারা সৎ। বিজেপি করি বলেই বিরোধিতা করব এটা ঠিক নয়। 

যদিও পূর্ববর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানান, ঝর্ণা রায়ের মতো বহু মানুষ আমাদের দলে আছে,যারা সকলের কাছে আদর্শ।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন