১৫ জুন, ২০২৪

WC2023: রোহিত-শ্রেয়সের জোড়া হাফসেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে হারিয়ে মহারাজকীয় জয় ভারতের
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2023-10-14 20:40:43   Share:   

৮-০! মহালয়ার দিন পাকিস্তান বধ। বিশ্বমঞ্চে রেকর্ড অব্যাহত। একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর স্বপ্ন অধরাই রইল পাকিস্তানের। শনিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম খড়কুটোর মতো বাবর আজমের দলকে উড়িয়ে দিল ভারত। ১৯.৩ ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় ভারতের। ৪২.৫ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ৩০.৩ ওভারেই জয়সূচক রানে পৌঁছে যায় ভারত। ১১৭ বল বাকি থাকতেই অনায়াসে জয় তুলে নেয় ভারত। একইসঙ্গে রানরেট বাড়িয়ে নিলেন রোহিতরা।‌ মহালয়ার দিন জয়ের হ্যাটট্রিক ভারতের। গ্যালারিতে বসে ঐতিহাসিক জয় দেখলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রেগন্যান্সি গুজবের মধ্যেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্কা শর্মা। দুর্দান্ত অধিনায়কত্বের পর ব্যাট হাতেও দুরন্ত রোহিত শর্মা। আগের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে সর্বাধিক ছয়ের রেকর্ড করেন হিটম্যান। এদিনও নির্বিকার মুখে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন। একদিনের ক্রিকেটে ৩০০ ছয়ের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন। আফগানিস্তান ম্যাচের পর এদিন ব্যাক টু ব্যাক শতরানের হাতছানি ছিল। ২০১৯ বিশ্বকাপে ম্যাঞ্চেস্টারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৪০ করেছিলেন রোহিত। শনি সন্ধেয়ও সেদিকেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু একশো হাতছাড়া হল। ৬৩ বলে ৮৬ রানে আউট হন রোহিত। বিধ্বংসী ইনিংসে রয়েছে ৬টি ছয়, ৬টি চার। বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে বিশেষজ্ঞরা বিরাট কোহলি, শুভমন গিলকে রেখেছিলেন।

ফর্মের ধারেকাছে না থাকা রোহিতকে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই ধরেনি। কিন্তু পরপর দুই ম্যাচে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে একনম্বরের দৌড়ে শীর্ষস্থানে ভারতের নেতা।

১৯২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল করেন রোহিত, শুভমন। ডেঙ্গি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয় গিলকে। পরপর ড্রাইভে তিনটে চার মেরে ইনিংসের সূচনা দারুণ করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। চারটে চার মেরে ১১ বলে ১৬ রান করে আউট হন শুভমন। ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। তবে উইকেটের অন্য প্রান্তে স্বমহিমায় ছিলেন রোহিত। চার, ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। রান পাননি বিরাট কোহলি। ১৮ বলে ১৬ রানে ফেরেন। তবে এদিন রান পান শ্রেয়স আইয়ার। অর্ধশতরান করেন। ৬২ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত শ্রেয়স। শেষ বলে চার মেরে দলকে জয়সূচক রানে পৌঁছে দেন। ১৯ রানে অপরাজিত কেএল রাহুল।

পাকিস্তানের অপরিকল্পিত ব্যাটিং? না স্নায়ুর চাপ? মাত্র ৩৬ রানে ৮ উইকেট হারানোর কারণ কী? আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক ক্রিকেটপ্রেমীর গর্জন। গেরুয়া শহরে নীল ঝড়। তাতেই কি পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে ধস নামল? একটা সময় ২ উইকেটে ১৫৫ রান ছিল সবুজ আর্মির। ক্রিজে ছিলেন বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ান। মনে হয়েছিল ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সেখান থেকে ১৯১ রানে অলআউট। ৩৬ রানে পড়ল ৮ উইকেট।

বাকিরা এলেন আর গেলেন। প্রথম চারজনকে বাদ দিলে, হাসান আলি ছাড়া কেউই দু'অক্ষরের রানে পৌঁছতে পারেনি। সৌজন্যে যশপ্রীত বুমরা এবং কুলদীপ যাদব। বড় রানের জন্য রিজওয়ানের দিকেই তাকিয়ে ছিল পাকিস্তান। ৪৯ রানে পাক উইকেটকিপার ব্যাটারকে বোল্ড করেন বুমরা। ৭টি চারের সাহায্যে ৬৯ বলে অর্ধশতরানের এক রান দূরে থামলেন। তবে প্রশংসা প্রাপ্য মহম্মদ সিরাজেরও। শুরুটা ভাল না হলেও প্রথমে আবদুল্লাহ শফিক এবং পরে বাবর আজমকে প্যাভিলিয়নে ফেরান। পাকিস্তানের নেতা আউট হওয়ার পরই ব্যাটিংয়ে ধস নামে। অর্থাৎ এই একটা উইকেটই বদলে দিল গোটা চিত্র। পাকিস্তান যে এখনও বাবর এবং রিজওয়ানের ওপর নির্ভরশীল, সেটা আরও একবার প্রমাণিত। পাক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান অধিনায়কের। ৭টি চারের সাহায্যে ৫৮ বলে ৫০ রান করেন আইসিসি ব়্যাঙ্কিংয়ে একনম্বর ব্যাটার। তবে বিশ্বমঞ্চে পাক ব্যাটারদের পারফরম্যান্স খুবই হতাশজনক। দিশাহীন ব্যাটিং। বাজে শট সিলেকশন। অন্যদিকে বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্ব রোহিতের। ডিআরএস নেওয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত। সবমিলিয়ে সেভেন স্টার পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের। যদিও শুরুটা আশানুরূপ হয়নি ভারতের। প্রথম উইকেটে ৪১ রান যোগ করেন আবদুল্লাহ শফিক (২০) এবং ইমাম উল হক (৩৬)। ৭৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ৮২ রান যোগ করেন বাবর, রিজওয়ান। ৩০ ওভার পর্যন্ত সঠিক দিশাতেই এগোচ্ছিল পাকিস্তান। দুই তারকা ব্যাটার আউট হতেই লাইনচ্যুত। শার্দূল ঠাকুর ছাড়া সবাই দুটো করে উইকেট নেয়।


Follow us on :