ব্রেকিং নিউজ
know-about-the-main-rituals-Jamai-Shashthi
Jamai Shashthi: 'জামাইষষ্ঠী' কি আসলে জামাইদের জন্য অনুষ্ঠান?

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-06-04 19:17:46


অমৃত হালদার: মখমলি পাঞ্জাবি চাপিয়ে শ্বশুরবাড়ি আলো করা জামাইয়ের সংখ্যা খানিকটা কমেছে ঠিকই, তবে পাঞ্জাবি ছেড়ে শার্ট-প্যান্ট কিংবা আরামদায়ক গেঞ্জি পরা জামাইয়ের সংখ্যাটা বেড়েছে কয়েকগুণ। জামাইষষ্ঠীর সেই নিয়ম-নিষ্ঠা এখন অনেকটা কমে এলেও খাওয়াদাওয়াতে কিন্তু কোনও কসুর নয় এখনও। আম-কাঁঠাল, ইলিশের পেটি কিংবা কচি পাঠাঁর মাংস সহযোগে ভুরিভোজ৷ এই ছবিটা যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনই হাতফিলের রেস্তোরাঁতে ভুরিভোজও রয়েছে। এখনকার জামাষষ্ঠীতে দুইয়েরই সহাবস্থান। আবার এই দিনটিতেই হয় ষষ্ঠী পুজোও। জামাইয়ের সঙ্গে ষষ্ঠীর মিল কোথায়, এ নিয়ে ভাবতে বসা নব্য সমাজের কাছে রইলো সম্পূর্ণ সুলুক সন্ধান। 

ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় সংস্কার ছিল কন্যা যতদিন না পুত্রবতী হয়, ততদিন কন্যার পিতা বা মাতা কন্যাগৃহে পদার্পণ করবেন না৷ এই ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিল —সন্তানধারণে সমস্যা বা সন্তান মৃত্যুর (শিশুমৃত্যু) ফলে কন্যার পিতামাতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত কন্যার বাড়ি যাওয়ার জন্য৷ সেক্ষেত্রে বিবাহিত কন্যার মুখদর্শন কীভাবে ঘটে? তাই সমাজের বিধানদাতা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন জামাই ষষ্ঠী হিসাবে৷ যেখানে মেয়ে-জামাইকে নিমন্ত্রণ করে সমাদর করা হবে ও কন্যার মুখ দর্শন করা যাবে৷


আর সেইসঙ্গে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে খুশি করে যাতে কন্যা শীঘ্র পুত্রমুখ দর্শন করতে পারে৷ বর্তমানে অবশ্য এই সংস্কার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে — কন্যার পিতামাতা অথবা যে ব্যক্তি কন্যা সম্প্রদান করবেন, তিনি এক বৎসর কন্যার বাড়ি যাবেন না বা গেলেও কন্যার বাড়ির অন্নগ্রহণ করবেন না৷


যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এই সংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় না৷ সংস্কার যাই হোক না কেন, মেয়ে-জামাইকে ডেকে এনে সমাদর করা ও সেইসঙ্গে কন্যা যাতে সন্তানবতী হয়, সেই লক্ষ্যে ‘মা ষষ্ঠীকে’ জুড়ে দিয়ে উৎসবের নামকরণ হল ‘জামাইষষ্ঠী’৷


ষষ্ঠী-পালন সাধারণত করে থাকেন মেয়েরা৷ তাঁদের কাছে এর তাৎপর্য অন্যরকম৷ কথিত আছে, এক পরিবারে দুটি বউ ছিল৷ ছোট বউ ছিল খুব লোভী৷ বাড়ির মাছ বা অন্যান্য ভালো খাবার রান্না হলেই সে লুকিয়ে লুকিয়ে খেয়ে নিত আর শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করত ‘সব কালো বিড়ালে খেয়ে নিয়েছে ’৷ বিড়াল মা ষষ্ঠীর বাহন৷ তাই বিড়াল, মা ষষ্ঠীর কাছে অভিযোগ জানাল৷ মা ষষ্ঠী রেগে গেলেন৷ যার জেরে ছোট বউ-এর একটি করে সন্তান হয় আর মা ষষ্ঠী তার প্রাণ হরণ করেন৷ এইভাবে ছোট বউয়ের সাত পুত্র ও এক কন্যাকে মা ষষ্ঠী ফিরিয়ে নেন৷ ফলে স্বামী, শাশুড়ি ও অন্যান্যরা মিলে তাকে ‘অলক্ষণা’ বলে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ অথচ বড় বউ পুত্রকন্যাদের নিয়ে সুখে ঘর করতে থাকে৷


ছোট বউ মনের দুঃখে বনে চলে যান ও একাকী কাঁদতে থাকেন৷ শেষে মা ষষ্ঠী বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তার কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে চান৷ সে তার দুঃখের কথা বলে৷ তখন মা ষষ্ঠী তার পূর্বের অন্যায়-আচরণের কথা বললে সে মাফ চায়৷ ষষ্ঠী তাকে ক্ষমা করেন। এরপর বলেন, ভক্তিভরে ষষ্ঠীর পুজো করলে সাতপুত্র ও এক কন্যার জীবন ফিরে পাবে৷ তখন ছোট বউ সংসারে ফিরে এসে ঘটা করে মা ষষ্ঠীর পুজো করে ও ক্রমে ক্রমে তার পুত্রকন্যাদের ফিরে পায়৷ এর থেকেই দিকে দিকে ষষ্ঠী পুজোর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে৷ এটাই জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠী ব্রতকথার মূল গল্প৷


এদিকে যে সময় জামাইষষ্ঠী পালন করা হয় অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে, প্রকৃতিতে আম-জাম-কাঁঠাল ইত্যাদি নানা ফলের সমারোহ৷ তাই খুব ঘটা করে এদিন শাশুড়িরা ষষ্ঠীর পুজো করেন৷ তারপর নেমন্তন্ন করে নিয়ে আসা জামাইকে আসনে বসিয়ে প্রথমে কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন ও দীর্ঘজীবন কামনায় মা ষষ্ঠীর স্মারক তেল-হলুদে চোবানো সুতো হাতের কবজিতে বেঁধে দেন৷ এরপর আশীর্বাদী বস্ত্রাদি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন৷ আর সামনে বিবিধ মিষ্টান্নসহ নানা ফল খেতে দেন৷ অবশ্য জামাই বাবাজিও শ্বশুরবাড়ি ঢোকার সময় যেমন দই-মিষ্টি আনতে ভোলে না, তেমনি আশীর্বাদের পর প্রণামী হিসেবে শাশুড়িকে বস্ত্রাদি দিয়ে থাকে৷ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য—শুধুই জামাই নয়, মেয়েও কিন্তু বস্ত্রাদি উপহার হিসাবে পেয়ে থাকে৷







All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন