ব্রেকিং নিউজ
  কান্দিতে ট্রাক্টরের ধাক্কায় আহত দুই মোটরবাইক আরোহী, চাঞ্চল্য     নরেন্দ্রপুরে মাঝরাতে বোমাবাজির ঘটনা, উদ্ধার ৩টি তাজা বোমা     দুবরাজপুরে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার ১, তদন্তে পুলিস  
Know-the-life-history-of-1st-woman-doctor-Kadambini-Basu-Ganguly
Medical: চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান, প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়কে জানুন

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-10-29 17:41:30


সৌমেন সুর: আমি চিকিৎসা বিজ্ঞান পর্বে মোট চারজন খ্যাতিমান যশস্বী চিকিৎসককে বেছে আপনাদের কাছে তুলে ধরছি। এক একটি পর্বে এক একজন চিকিৎসকের প্রসঙ্গ থাকবে। আজ ডাক্তার কাদম্বিনী বসু গঙ্গোপাধ্যায়ের কাহিনী। এশিয়ার প্রথম সরকার স্বীকৃত বালিকা বিদ্যালয় বেথুন স্কুল। এই বেথুন স্কুল থেকে কাদম্বিনী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১৮৭৮ সালে। ১৮৮০ সালে তিনি এফ.এ পাশ করেছিলেন। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, দুর্গামোহন দাস, শিবনাথ শাস্ত্রী প্রমুখদের আন্দোলনের ফলেও ১৮৭৮ সালে ২৭ এপ্রিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট, নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি লাভের দাবি মেনে নিয়েছিল। এরপরেই ১৮৮২ সালে কাদম্বিনী বসু এবং চন্দ্রমুখী বসু প্রথম মহিলা স্নাতক হয়েছিলেন।

এরপরে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির আগেই দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে কাদম্বিনী বিয়ে করেন। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের মেডিক্যাল কলেজে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর থেকে ডাক্তারি পড়া শুরু করা পর্যন্ত প্রতি পর্যায়ের খবর সরকারি মুখপত্র এডুকেশন গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল। স্নাতক হওয়ার পর কাদম্বিনী গেলেন এম.এ পড়তে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নিজের শিক্ষক দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কাদম্বিনী। সেকালের প্রেক্ষিতে নারীদের ডাক্তারি পড়া কার্যত অসম্ভব ছিল। কিন্তু উনিশ সতকের দ্বিতীয়ার্ধে স্ত্রী শিক্ষাব্রতী, অবলাবান্ধব পত্রিকার সম্পাদক দ্বারকানাথ এবং কাদম্বিনীর অক্লান্ত প্রয়াসে নারীদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করার দরজা খুলে যায়।

আর এই দুর্গম পথের প্রথম মশালবাহিকা হলেন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ১৮৮৪ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পরীক্ষার সময় কলেজের অধ্যাপক ডাক্তার রাজেন্দ্র চন্দ্র চন্দ্র প্র্যাক্টিকাল পরীক্ষায় এক নম্বর কম দিয়ে কাদম্বিনীকে ফেল করিয়ে দেন। অবশেষে প্রিন্সিপাল সাহেবের সার্টিফিকেট পেয়ে কাদম্বিনী অ্যালোপ্যাথি ডাক্তার হয়েছিলেন।

১৮৯০ সালে লেডি ডাফরিন হাসপাতালে চিকিৎসক রূপে তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া কিছু সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৮৯০ সালে রাজমাতার চিকিৎসার জন্য নেপালে যান। সেখানে এই মহৎপ্রাণ মানবীর হাত ধরে আধুনিক জন চিকিৎসার সূত্রপাত ঘটে। ইতিহাসের পাতায় কাদম্বিনী গাঙ্গুলির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সেই সময়ের কথা আজও আমরা ভুলতে পারি না। কাদম্বিনী প্রথম মহিলা চিকিৎসক। (চলবে) 






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন