১৩ এপ্রিল, ২০২৪

Didir Doot: 'চাপে কি দিদির দূত', তবে নতুন ঘটনা নয়! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2023-01-14 13:32:58   Share:   

প্রসূন গুপ্ত: দলের অন্দরে তো বটেই একইসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে তৃণমূল সুপ্রিমো কি 'দিদির দূত' পরিকল্পনা নিয়ে বেশ ঝুঁকি নিলেন? তৃতীয় বিশ্বের কোনও রাজ্য বা দেশে ঘরে ঘরে গিয়ে যদি প্রশ্ন করা যায় যে, কেমন আছেন, তার উত্তর যে মধুর হবে না বলাই বাহুল্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও এগিয়ে বলা যায়, নতুন তৃণমূলের প্রধান সংগঠক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দিদির দূতেরা ঘরে ঘরে গিয়ে কেমন আছেন বা কি সমস্যা এই প্রশ্ন করছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই প্রকল্পে অজস্র প্রশাসনিক ত্রুটি উঠে আসতে বাধ্য। যে দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলছে, কর্মহীন মানুষ, বাজারে চাকরি নেই সেখানে দলের প্রচার নিয়ে গেলে বা ভালো কাজের খতিয়ান নিয়ে গেলেও উত্তর নেতিবাচক তো হবেই। এমনটাই বলছেন সমালোচকরা।

এই দিদির দূত হিসাবে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে নেতা-মন্ত্রীদের।  শতাব্দী রায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা মহুয়া মৈত্র কিংবা শনিবারে বারবেলার আগেই রথীন ঘোষকে। ক্ষেত্র বিশেষে নিজেদের ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না নেতারা কাজেই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ড.বিধান রায় ওপার বাংলা থেকে আগত ভিটেহারাদের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন, যা স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসে থাকা উচিত। কিন্তু এই ডাঃ রায়কে নিয়মিত অভিযোগ শুনতে হয়েছিল, 'আমরা ভালো নেই।' আসলে হাতে কাজ, পকেটে পয়সা না থাকলে মানুষ সুখে না হোক শান্তিতে থাকবে কী করে?

নিয়মিত জনসংখ্যা বাড়ছে, পক্ষান্তরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিও বাড়ছে তাল মিলিয়ে। সুতরাং দূত হিসেবে গেলে কন্যাশ্রী থেকে লক্ষী ভাণ্ডার ইত্যাদি দিয়ে পেট ভরানো যায় না, তাই জানাচ্ছেন জনতা। এদিক থেকে বাম জমানাতেও ভয়ঙ্কর সমস্যা থাকা সত্বেও কেউই মুখ খোলেনি। প্রথমত মানুষে দুয়ারেও যাওয়ার এই পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ছিল না বামেরা। তাঁদের আমলে সব পশ্চিমবঙ্গের এলাকায় নজরদারি থাকতো এলাকায় এলসিএম বা এলসিএসদের।

জ্যোতিবাবু বা বুদ্ধদেববাবুর ভাবনায় ছিল না, এই বিষয় ফলে অভিযোগের সুযোগই ছিল না। আজ সেই সুযোগ খোদ তৃণমূল হাইকমান্ড দিয়েছে, ফলে অভিযোগের ঢেউ উঠে আসছে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, 'এভাবে সমাধান হওয়া কঠিন অন্তত তৃতীয় বিশ্বে। এ ধরণের কাজ আমেরিকা বা প্রথম বিশ্বের দেশে করতে হয় না। কারণ সেসব দেশে নাগরিকদের অধিকারের মধ্যে পড়ে সমস্যা সরকারকে জানানো।' এ রাজ্যে এই কাজ নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ঝুঁকি সামলিয়ে সার্থক হওয়া কঠিন।

কারণ কথিত আছে অভাব ঘুলঘুলি দিয়ে ঢুকলেও, দরজা দিয়ে বেরোতে চায় না।


Follow us on :