ব্রেকিং নিউজ
Death-in-the-story-of-Rabindranath-last-part
Rabindranath: রবীন্দ্রনাথের গল্পে মৃত্যু (শেষ পর্ব)

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-12-27 18:32:12


সৌমেন সুর: রবীন্দ্র সাহিত্যে মৃত্যু কোথাও ভয়ঙ্কর রূপে প্রকাশ পায়নি। মৃত্যু, খুন বা আত্মহনন যাই হোক না কেন, কোথাও তার বীভৎস্য বর্ণনা নেই বললেই চলে। 'পণরক্ষা' গল্পে বংশীবদনের মৃত্যু তার ভাই রসিককে ক্ষমাহীন, প্রায়শ্চিত্তের উপায়হীন একটা জগতে নির্বাসিত করে দিয়ে গেছে। বংশীর মৃত্যুর খবর রসিক জানতো না। লেখক তা জানিয়েছেন একটিমাত্র বাক্যে। দীর্ঘকাল বাদে বাড়ি ফিরে দাদাকে বারবার ডাকলেও- 'যে দাদা তাহার পায়ের শব্দটি পাইলে আপনি ছুটিয়ে আসিতো, কোথাও তাহার কোন সাড়া পাওয়া গেল না। '

'জীবিত ও মৃত' গল্পের শেষ বাক্যটি প্রবাদ বাক্যের মতো হয়ে উঠেছে। কাদম্বিনী জীবনের সব লাঞ্ছনা, অপমানের সমাপ্তি ঘটেছে আত্মহত্যায়- পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে। শারদ-শংকর উপরের ঘর হইতে শুনিতে পাইলেন ঝপাস করিয়া একটা শব্দ হইলো। কাদম্বিনী অনাড়ম্বর মৃত্যু বর্ণনার শেষে লেখকের সংযোজন- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।'

শুধু রবীন্দ্র সাহিত্যে নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি ছোট গল্প-'ছুটি'। তরতাজা প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা একটা বালকের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, ফটিকের প্রলাপ মৃত্যুশয্যায় এবং ডাক্তারের চেষ্টা ব্যর্থ করে তার চলে যাওয়ার মধ্যে কোথাও শোকের বাড়াবাড়ি, দুঃখের চড়া রং নেই। শেষ মুহূর্তে শোকাচ্ছন্ন মায়ের ব্যাকুল আহ্বান শেষবারের মতো সাড়া দিয়ে শেষ কথা বলে ফটিক- 'মা এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।'

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে অসংখ্যবার মৃত্যুর দশা এসেছে। কোথাও তার শোক উচ্ছ্বাসের বাড়াবাড়িতে বিহ্বল নয়। বরং শান্ত সৌম্য সংযত। বিশ্বপথিক এক জীবনে তার চলার শেষ করতে পারে না। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বারেবারে নতুন করে তাকে চলার পথ চিনে নিতে হয়। (সমাপ্ত)






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন