ব্রেকিং নিউজ
After-writing-with-his-feet-he-passed-secondary-and-higher-secondary-and-is-now-in-college
Stuggle: পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে এখন কলেজে

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-03-21 20:02:51


একেই বোধহয় বলে জীবন সংগ্রাম। দুটি হাতই অক্ষম। লেখার কোনও ক্ষমতাই নেই। কিন্তু হার মানার পাত্র তিনি নন। পা দিয়ে লিখেই কলেজে পৌঁছে গিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সুতি ২ এলাকার বাসিন্দা মোক্তার শেখ!

দুই হাতই অক্ষম হওয়ায় স্কুলে যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া, জামাকাপড় পরা থেকে শুরু করে নিজের শৌচকর্মতেও অন্যের উপর ভরসা! আর এরই মধ্যে পায়ে লিখেই জীবন সংগ্রামে একের পর এক বাধা অতিক্রম করেছেন তিনি। প্রথমে মাধ্যমিক, তারপর উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাজুয়েশনের দরজায় মুর্শিদাবাদের সুতি দু-নম্বর ব্লকের বাসিন্দা মোক্তার শেখ।

জানা গিয়েছে, বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের সুতি দুই নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা ফানসুর সেখের ঘরে জন্ম মোক্তার শেখের। মা শেফালি বিবি বিড়ি শ্রমিক। ঘরে পাঁচ সন্তানের মধ্যে সকলের ছোট মোক্তার। ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি তাঁর তীব্র জেদ থাকলেও প্রতিবন্ধিকতা একসময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বিপদের চরম মুহূর্তে মোক্তারের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ান মা শেফালি বিবি। বেলা দশটা বাজলেই প্রতিদিন নিজের বিশেষভাবে ছেলেকে কোলেপিঠে করে নিয়ে গিয়ে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসতেন তিনি।

হাত অসাড় হওয়ার কারণে ছোট থেকেই পা দিয়েই লিখে চলেছেন মোক্তার। মুখে উচ্চারণ ও পায়ে লিখেই স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের পরে বর্তমানে পৌঁছে গিয়েছেন কলেজে।

এখন অরঙ্গাবাদ ডিএন কলেজের বাংলা অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোক্তার শেখ। প্রতিদিন বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আগামীর স্বপ্ন নিয়ে কলেজে যাচ্ছেন ২১ বছরের এই যুবক। পায়ে লিখেই পড়াশুনা চালিয়ে আগামিদিনে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছে রয়েছে মোক্তারের। যদিও ছেলের এই প্রতিবন্ধকতায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন অসহায় বাবা মা। ছেলেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন