বক্সার জেলে তৈরি দড়িতেই কেন ফাঁসি হয় আসামীদের? রইল তথ্য

0
2956

মহাত্মা গান্ধির হত্যাকারী নাথুরাম গডসে থেকে শুরু করে আফজল গুরু অথবা মুম্বই হামলায় জড়িত আজমল কাসব হোক বা মুম্বই বিস্ফোরণে জড়িত ইয়াকুব মেনন। সকলেরই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তিহার জেলে। আর সেই ফাঁসির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ দড়ি এসেছিল বিহারের বক্সার জেল থেকে। শুধু তাই নয়, ভারতে কার্যকর হওয়া সমস্ত ফাঁসির দড়িই সরবরাহ হয়েছে বক্সার জেল থেকে। এর পিছনে আসল রহস্য কী? কেনই বা এই জেল থেকেই ফাঁসির দড়ি পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের অন্তিম সময়ের জন্য? এর উত্তর পেতে গেলে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে হবে। বক্সার জেলের আধিপত্য শুরু হয়েছিল সেই ব্রিটিশ আমলে, ১৮৮৪ সালে। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার ফাঁসির দন্ড কার্যকর করার জন্য ফাঁসির দড়ি তৈরির জন্য খোদ ব্রিটেন থেকে একটি বিশেষ যন্ত্র এনেছিল। যা রাখা হয়েছিল এই বক্সার জেলে। ফাঁসির দড়ির জন্য সুতো আনা হতো সুদূর ম্যানিলা থেকে। সেই থেকেই এই জেলের একক আধিপত্য ফাঁসির দড়ি তৈরির ক্ষেত্রে। এখন অবশ্য এই সুতো আসে পাঞ্জাব থেকে, যার পোশাকি নাম জে-৩৪ (J-34)। বক্সার জেলে এই বিশেষ দড়ি তৈরির জন্য রয়েছেন ৫ জন। যারা অন্যান্য আসামীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এই ফাঁসির দড়ির বিশেষত্ব হল, ফাঁসি হয়ে গেলেও গলায় ফাঁসের কোনও চিহ্ন বা দাগ থাকেনা। অপেক্ষাকৃত নরম ও শক্তপক্তো ফাঁসের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে বোনা এই দড়ির গুনেই এটা সম্ভব। যা একমাত্র বক্সারের জেলেই তৈরি হয় বলেই এখানকার ফাঁসির দড়ির সুমান গোটা ভারত জুড়ে। এই বিশেষ দড়ি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে তিহার জেলে। সেখানেই আগামী ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হবে নির্ভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত চার আসামীর।