দমদম দাওয়াই

স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই দমদম বিধানসভা কেন্দ্রটি ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়। মূলত রিফিউজি এলাকা, ফলে এলাকাটিকে কাবু করতে অসুবিধা হয়নি বামপন্থীদের। ওপার বাংলা থেকে যারা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন, তারাই অভাব অনটনের কারণে বামপন্থার দিকে ঝুকেছিলেন। ঠিক যেমনটা হয়েছিল সমগ্র উত্তরবাংলায়। বাম আন্দোলনের তাবড় তাবড় নেতারা দমদম থেকেই উঠে এসেছিলেন। তাঁদের অন্যতম সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী। কোনও একসময় বামেদের মুখে বুলি ছিল, "দমদম দাওয়াই”, অনেকটা আজকের "খেলা হবে" স্লোগানের মতোই| এলাকায় নিজেদের দাপট রাখতে একমসয়ের সিপিএম নেতা-কর্মীরা ভোটের আগে আওয়াজ তুলতেন দমদমের দাওয়াইয়ের।  


স্বাধীনতা উত্তর যুগে দমদম এলাকায় লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মানুষকে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান রায়। এলাকার পর এলাকাতে কলোনি সংস্কৃতি এসে পরে দমদমে। নামমাত্র মূল্যে ওপার বাংলার মানুষকে জমিও দেওয়া হয়। তখন এই এলাকায় আসলে দেখা যেত কোনও ক্রমে একটি কাঠামোর উপর টিনের চাল দেওয়া সার সার বাড়ি। দমদম এলাকাটিও বেশ বড়। দক্ষিণের পাতিপুকুর থেকে উত্তরের বিরাটি অবধি। যদিও প্রাথমিক ভাবে জনসংখ্যা নেহাত কম নয়। ১৯৭১ এর বাংলাদেশ হওয়ার সময় জনসংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। এখন ওই দমদম ভেঙে তিনটি বিধানসভা হয়েছে | দমদম, বিধাননগর ও উত্তর দমদম। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব দমদম বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে।