ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের এক কোটি মানুষঃ মমতা

বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ওডিশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ইয়াস। ফলে ইয়াস কার্যত কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের। তবুও বুধবার সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত তলছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রে প্রবল জলচ্ছ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ঝড়ের প্রভাব কম থাকলেও ভরাকোটালের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকটা বেড়েছে। নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ। ১৫ লাখ লোককে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত খোলা হয়েছে ১৪ হাজার ত্রাণ শিবির। ঘূর্ণিঝড় এবং প্লাবনের জেরে রাজ্যে কমপক্ষে ১৪৩টি নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।



এদিন নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, আজ (বুধবার) রাত ৮টা ৪৫ পর্যন্ত জোয়ার হবে। যার ফলে জল আরও বাড়বে। গঙ্গা ও সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কালও জল বাড়বে। তাই বান আসতে পারে আজও। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ভরা কোটালে ঘূর্ণিঝড় বলেই এত ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। কালও জল বাড়বে প্রায় ৫ ফিট পর্যন্ত। তাই কেউ ত্রাণ শিবির ছেড়ে বের হবেন না। কালকের দিনটা যাক, তারপর ফেরার কথা ভাববেন। আগে জল নামা দরকার। সাইক্লোনের জল এত তাড়াতাড়ি নামা সম্ভব নয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা, সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় যারা থাকেন, তাঁরাও সতর্ক থাকুন। বাড়ি থেকে বের হবেন না। রাজ্য সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।