নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের ভোলবদল শীঘ্রই, হবে আধুনিক ঝাঁ চকচকে

এক নতুন ভারতের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক স্মার্ট সিটি প্রকল্প আগেই ঘোষণা করেছে। সেই প্রকল্পে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন শহর ভোল বদলাতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লির পরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার নয়াদিল্লি রেল স্টেশনের ভোলবদলের পরিকল্পনা নিল রেলমন্ত্রক। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল নিজের টুইটার হ্যান্ডলে প্রস্তাবিত নতুন দিল্লি রেল স্টেশনের কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেই সঙ্গে ভারতের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশনটির নকশা ও আধুনিকতার বিবরণও কিছুটা জানিয়েছেন। রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে নতুন দিল্লি রেল স্টেশনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধাঁচে তৈরি করা হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও আধুনিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে স্টেশনটির ভোল বদল ঘটবে। জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন পুনর্নির্মাণের বিষয়ে রেল ল্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি (আরএলডিএ) বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ভার্চুয়াল বৈঠক করবে দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে।  প্রকল্পের ধারণা এবং প্রস্তাবিত পরিকাঠামো নিয়ে হবে আলোচনা। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং সাউথ এশিয়ার বেশ কয়েকটি পরিকাঠামো নির্মানকারী সংস্থা উৎসাহ দেখিয়েছে নতুন দিল্লি রেল স্টেশনের পুনর্নির্মান প্রকল্পে।


নয়াদিল্লি রেলস্টেশন রাজধানী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। যা কনট প্লেসের কাছাকাছি অর্থাৎ যা কিনা দিল্লির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রও বটে। নতুন দিল্লির রেল স্টেশনটি পিপিপি মডেলে পুনর্নিমাণন করার পরিকল্পনা নিয়েছে রেলমন্ত্রক। যা কিনা ডিজাইন-বিল্ড ফিনান্স অপারেট ট্রান্সফার (DBFOT) ভিত্তিতে করতে চাইছে রেল ল্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি। আরএলডিএ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, নয়াদিল্লি রেল স্টেশনের ভোল বদল আগামী চারবছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এই স্টেশনে একাধিক দিক থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। মূলত বাণিজ্যিক দিক থেকে এই স্টেশনের ভোল বদল একটা অনন্য নজির গড়বে বলেই আশা করছে রেলমন্ত্রক। পুরো প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জানা যাচ্ছে, প্রকল্পে অংশ গ্রহনের জন্য আবেদনপত্র (Request of Qualification) জমা দেওয়ার শেষদিন আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। গোটা প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান ঠিক করছে আরএলডিএ। প্রায় ১২০ হেক্টর এলাকা জুড়ে হবে মূল প্রকল্প। যারমধ্যে ৮৮ হেক্টরে প্রথম পর্যায়ের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।