Afghanistan: আফগানিস্তানের বোমা বিস্ফোরণের পিছনে কি আফিম ব্যবসা!

কাবুলঃ আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের খান আবাদ জেলার একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করলো ইসলামিক স্টেট। বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় প্রায় ৫০ জন, আহত বহু। 

ঘটনার দুই দিন পর্যন্ত কোন জঙ্গিগোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। অবশেষে আইএস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করলো। পাশাপাশি তারা জানান মোহাম্মদ উল উইঘুড়ি নামের এক ব্যক্তি তাদের নির্দেশেই এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেনই বিস্ফোরণ ? কেন এই আত্মঘাতী হামলা ?

কেন এই আত্মঘাতী হামলা?

দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্থানের ক্ষমতা দখল করে তালিবান। ক্ষমতা দখলের পর তারা সরকার গঠন করে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি না পেলেও, পাকিস্তান তালেবানের এই নবগঠিত সরকারকে মান্যতা দেয়। ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আখুনজাদা। সরকারে যোগদান করে হাক্কানী গোষ্ঠী ও। কিন্তু বরাবরই তালিবান বিরোধী বলে খ্যাত ইসলামিক এস্টেট খোরশান গোষ্ঠী। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হয় মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখন্দ, উপপ্রধানমন্ত্রী হর্ন মোল্লা আব্দুল বরাদার। 

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাঝেই গন্ডগোল বাদে নিজেদের মধ্যে সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই গন্ডগোলে গুলিবিদ্ধ হন মোল্লা আব্দুল বরাদর। তলায় তলায় ততদিনে সক্রিয় হয়েছে আইএস খোরসান গোষ্ঠী। পাকিস্তানের আইএস প্রধান এর তত্ত্বাবধানে নবগঠিত সরকার কাজ শুরু করে। পাকিস্তানের সহযোগিতায় একমাত্র বিরোধী পাজ্ঞশির উপত্যাকায় হামলা চালায় তালিবানরা। তখন থেকেই তালিবানদের নবগঠিত সরকারের ক্ষমতায়নের অন্দরমহলে ঢুকতে চায় আই এস। 

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাদক উৎপাদনকারী এবং পাচারকারী দেশ হল আফগানিস্থান। আফগানিস্তানের অধিকাংশ জমিতেই পপি অর্থাৎ আফিম চাষ হয় সর্বসমক্ষে। এই আফিম চাষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তালিবানরা। আফিম এবং আফিম জাত মাদক জাতীয় দ্রব্য বেআইনিভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে বৈদেশিক অর্থ আমদানি হয়, তার অধিকাংশ ব্যবহৃত হয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র, হাতিয়ার ক্রয় এবং জঙ্গিগোষ্ঠী পরিচালনার ক্ষেত্রে। নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের জন্য বিখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল। অর্থাৎ মায়ানমার, লাওস,থাইল্যান্ড। 

কিন্তু এই গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এর বাইরে ও বিশ্বের আফিম চাষে প্রথম স্থান ধরে রেখে দিয়েছে আফগানিস্তান। ফলে এই আফিম এর ক্ষেত এবং আফিম এর ব্যবসা নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইএস গোষ্ঠী। এই আফিম মাদক ব্যবসা যদি আইএস গোষ্ঠীর হাতে যায়, সে ক্ষেত্রে খুব সহজেই তারা পাকিস্তানের সহযোগিতায় ভারতসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করতে পারবে ।

এই ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ জঙ্গিগোষ্ঠীর কাজে ব্যবহার করতে পারবে।  ফলে তালিবানদের সঙ্গে আইএস গোষ্ঠীর বরাবরই সংঘাত আফিম এর ব্যবসাকে সামনে রেখে। সে লক্ষ্যেই একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তালিবানদের উপর আইএস গোষ্ঠী। অন্যদিকে সরকার এবং ব্যবসা দুটোই নিজেদের হাতে রাখতে মরিয়া তালিবানরা ও। ফলে এই সংঘাতের বাতাবরণ আগামী দিনেও আফগানিস্থানে বজিয়ে থাকবে বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।

চলতি বছরের অগস্ট মাসে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ঘোষণা করেছেন আফগানিস্তানে আফিং  চাষ নিষিদ্ধ করবে তালিবান। কিন্তু তালিবানদের ক্ষেত্রে এটা প্রমাণিত মুখে এক কাজে আর এক। ফলে তালিবান মুখপত্রের এই বার্তা কতটা বাস্তবায়িত হবে সেটা নিয়েও যথেষ্ট সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল।



Tags:
Afghanistan
bombing
afim