জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ভারত-বাংলাদেশ উভয়দেশের প্রধানমন্ত্রী!

জাতিসংঘের ৭৬ তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। 

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে মুজিবকন্যা তথা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত বছরের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন।

এদিকে বাংলাদেশ এবং ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০  বছর এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে। 

১৯৭১ -এর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সমর্থনে ভারত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে ২৪ টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল। তারা বাংলাদেশ গঠনের  সমর্থনে আওয়াজ তুলেছিল। পাশাপাশি পাকিস্তানি সৈন্যদের নিষ্ঠুর বর্বরতা এবং গণহত্যা সংগঠিত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। ভারত শরণার্থী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। তার জন্য অনেকেই ভারতের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। 

আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের তৎকালীন বিদেশ মন্ত্রী সর্দার স্বর্ণ সিং-এর নেতৃতে ভারতীয় প্রতিনিধিদল তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে কি ধরনের নিষ্ঠুরতা সংগঠিত হয়েছিল সেটি সারা বিশ্বকে অবহিত করান। 

পাকিস্তানের জেল হেফাজতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে মুক্তি দেবার কথাও পাকিস্তানকে বলেছিলেন সর্দার স্বর্ণ সিং। তিনি বলেছিলেন, " ওই এলাকায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রশকে যেতে দেওয়া হয় নি এবং বিশ্বের সেই অংশে কি হচ্ছে তা গোপন করার জন্য সবধরনের প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। চারদিক জুড়ে হত্যা , ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ এবং লুঠতরাজ।"  

তাছাড়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের জন্য সমর্থন জোগানোর উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানী সফর করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থে যুক্তরাজ্য, পূর্ব ও পশ্চিম জর্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং পোলান্ড সহানুভূতি ও সমর্থন জানানোর ফলে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়। আমেরিকার সাথে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সম্পর্ক ছিন্ন করতেও ভারত সাফল্য লাভ করে এবং ১৯৭১ সালের শেষের দিকে জাতিসংঘের সুরক্ষা পরিষদে পাকিস্তান পন্থী নির্দেশনা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল।    

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় চিন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল এবং নয় মাস ব্যাপী স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা বর্বরোচিত গণহত্যা এবং অত্যাচারের নীরব দর্শক হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও চিন জাতিসংঘে নবগঠিত দেশকে প্রবেশের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদানও করেছিল।

Tags:
Narendra Modi
Sheikh Hasina
United Nations