By-Election: জোটে নেই, ভোটে বাম~কংগ্রেস

কলকাতাঃ জোটে নেই বাম, তবে বামেরা সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে কংগ্রেসে। তাহলে কি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কংগ্রেস দূরত্ব বাড়াচ্ছে ? তাই কি বামেদের দিকে হাত বাড়িয়ে রাখল কংগ্রেস ? এ প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অন্দরমহলে।

আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের ৪ কেন্দ্রের উপনির্বাচন। কিন্তু শুধুমাত্র শান্তিপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আর বাকি ৩ কেন্দ্রে প্রার্থী না দিয়ে বামেদের সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পেগাসাস ইস্যু নিয়ে লোকসভা এবং রাজ্যসভার বাদল অধিবেশনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস কে একজোটে লড়তে দেখা গিয়েছিল। কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এই সখ্যতা আগামী দিনে বিরোধী জোটের একটা বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু বাদল অধিবেশনের পর কিছুটা হলেও সুর কাটে এই দুই রাজনৈতিক দলের বন্ধুত্বের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী দিনে বিরোধীজোটের রাশ থাকবে তৃণমূলের হাতেই। কংগ্রেস ছেড়ে সুস্মিতা দেবের তৃণমূলে যোগদানের ফলে আরো দূরত্ব তৈরি হয়।উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে কৃষক মৃত্যুর ঘটনায় কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা আলাদা প্রতিনিধিদল গিয়েছে। তাতে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনা বিরোধী ঐক্যে  বড়সড় ফাটল পরিস্কার।

২০২৪ এর নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্য কি অবস্থান করবে সেটা অবশ্য সময় বলবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিরিখে বিরোধী ঐক্য রাজনীতির ময়দান সে কথা বলা যেতেই পারে। ২০২১ এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, ভোট শেষ জোট শেষ। অর্থাৎ রাজ্যে বাম আর কংগ্রেসের জোটের রসায়নের সমাপ্তিতে সীলমোহর দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও জোটের বার্তা দিয়ে রাখলো কংগ্রেস। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শান্তিপুর উপনির্বাচনে প্রথম প্রার্থী ঘোষণা করে তৃণমূল।কংগ্রেসের ওপর ভরসা না রেখে আগেই ৪ কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় বামেরা। বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী শুধুমাত্র শান্তিপুর কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, বাকি তিন উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে না কংগ্রেস। তবে বামেদের সহযোগিতা করবে কংগ্রেস। আর এই প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের মতে বামেরা না চাইলেও জোটের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলো কংগ্রেস।

২০১৬ সাল থেকে বাম কংগ্রেসের জোট হয়েছে এ রাজ্যে, তারপর থেকে শান্তিপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। শুধুমাত্র শান্তিপুর কেন্দ্রেই চতুর্মুখী লড়াই হবে, বাকি ৩ কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা।

Tags:
By-Election
cpm
congress



এই সংক্রান্ত আরও খবর পড়ুন :