durga puja 2021: বাঁকুড়া ময়নাপুরের চণ্ডীচরণ রাজবাড়ির পুজো

২৩১ বছরে পা দিল বাঁকুড়া ময়নাপুরের চণ্ডীচরণ রাজবাড়ির পুজো। দালান কোঠা, প্রাসাদ এই সবের মধ্যে ছিল স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন। জমিদারমশাই সপরিবারে থাকতেন প্রাসাদে। আর দুর্গাপুজো হত খড়িমাটির দালানে। নিজে থাকেন পাকা দালানে আর দেবীপূজা সমাধা হয় মাটির দালানে। মনের মধ্যে খুতখুত করছিল। তাই দুর্গাপুজোর জন্য পাকা ঠাকুরদালান তৈরি করা হয়। এখন জমিদারি না থাকলেও পুজোর ঐতিহ্য কিন্তু চিরন্তন। সেই জমিদারির জেল্লাও এখন হারিয়ে যাওয়ার মুখে। 

তবে ভাঙাচোরা জমিদার মহল্লায় লেগেছে শরতের সোনালি রোদের ঝলকানি। ঝাড়বাতির আলোর ছটায় বসত যাত্রাপালা। রামায়ণ গান আর পুতুলনাচে গমগম করত ঠাকুরদালান। এখন সময়ের থাবায় ধস নেমেছে জমিদারিতে। কিছুটা টাল খেয়েছে আড়ম্বরেও। জমিদারির সেই রং নেই। তবুও মুখোপাধ্যায়দের ঠাকুরদালানে পুজোর রং লাগে নিয়ম মেনে। আর রাঙা দালানের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন উমা।

জমিদার বাড়ির পুজো বলে কথা। তাই গল্পতো থাকবেই। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিষ্ণুপুরের শেষ মল্ল রাজা চৈতন্য সিংয়ের দেওয়ান ছিলেন ময়নাপুরের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর আমলেই জমিদারি সত্ত্ব লাভ করে মুখোপাধ্যায় পরিবার। ১৭৯১ খ্রীঃ পুত্র লাভের আশায় এই পুজো শুরু করেন চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। সেই থেকে নিয়ম মেনে একই ভাবে এই পুজো হয়ে আসছে। সেই সময় গোটা গ্রামের মানুষের জন্য ভোগের ব্যাবস্থা করা হত। এখন সেই আড়ম্বর না থাকলেও সমস্ত রীতিমেনেই হয় পুজো।

আগে ১৫ দিন ধরে পুজো হত। কিন্তু এখন ৫ দিনই হয় পুজো। আগে সপ্তমী ও নবমীতে ছাগ বলি দিয়ে পুজো হত। এখন পুজো হয় ছাঁচিকুমড়ো ও আঁখ বলি দিয়েই। জমিদারি প্রথা না থাকলেও পুজোর জৌলুস কিন্তু একই আছে।এই পুজো উপলক্ষ্যে মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা সকলে একত্রিত হয়। মহা আনন্দে কাটে পুজোর দিনগুলো।


Tags:
durga puja
west bengal