ব্রেকিং নিউজ
lata-was-rejected-at-the-beginning-of-her-career
lata early life : কেরিয়ারের শুরুতেই প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছিলেন লতা

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-02-06 14:21:29


সুরের জগতে ইন্দ্রপতন। রবিবার সকালে মুম্বইয়ের (Mumbai) হাসপাতেলে প্রয়াত (Death) হয়েছেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীতজগত থেকে শুরু করে সাহিত্যিক এবং রাজনৈতিক মহলেও।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মারাঠি ঘরে জন্ম হয় এই স্বনামধন্য গায়িকার। তাঁর বাবা ছিলেন থিয়েটার জগতের প্রথিতযশা এক শিল্পী দীননাথ মঙ্গেশকর। তিনি ছিলেন স্বয়ং শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন মহাগুরু। তাঁর ঘরেই সংগীতের পাঠ দিতেন ছাত্র-ছাত্রীদের। সেসময় লতার প্রতিভা চোখে পড়েছিল তাঁর। তারপর থেকে যখনই তিনি রেওয়াজ করতে বসতেন, সঙ্গে লতাকে নিয়ে বসতেন। সেটাই ছিল লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গীত শিক্ষার প্রথম পাঠ।

যদিও খুব ছোট বয়সে লতাজি তাঁর বাবাকে হারিয়েছিলেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের বড়। যার ফলে বাবা না-থাকাতে সংসারের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ওপর। যে সংগীত এতদিন ছিল তাঁর সাধনা, তাকেই উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেন। শুরু হয় নতুন লড়াই। লড়াই-এ নেমে ইতিহাস রচনা করলেন তিনি।

তিনি এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় ছবিতে গান করেছেন। তাঁর গাওয়া মোট গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এছাড়া ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষা ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার অন্যতম রেকর্ড তাঁর।

লতা ১৯৪২ সালে কিটি হাসাল নামে একটি মারাঠি চলচ্চিত্রের জন্য তাঁর কেরিয়ারের প্রথম গান "নাচু ইয়া গাদে, খেলু সারি মণি হাউস ভারি" রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গানটি চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত কাট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এমনকি প্রথমদিকে তাঁর গলাকে সরু বলে অনেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এই 'গোল্ডেন ভয়েসে' বিশ্ব কাঁপিয়েছেন তিনি।

তবে ১৯৫০-এর দশকটি সম্পূর্ণরূপে মঙ্গেশকরের ছিল। যিনি একাই শঙ্কর জয়কিষাণ, নওশাদ আলি, এস ডি বর্মন, হেমন্ত কুমার এবং মদন মোহনের মতো মহান ব্যক্তিদের সাথে কাজ করেছিলেন। যদিও অনেক ইন্টারভিউতে বলতে শোনা গিয়েছিল লতাজিকে,  মদন মোহন তাঁর অন্যতম প্রিয় মিউজিক ডিরেক্টর।

যদিও সেসময় উপার্জন খুব বেশি হয়নি তাঁর। তবে এটি লতা মঙ্গেশকরের জন্য 'গোল্ডেন' বছর ছিল। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি। সে সময়ের প্রখ্যাত অভিনেতারা তাঁদের ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠস্বর চাইতেন। আবার অনেকে এই চুক্তিতেই সিনেমায় সই করতেন, যদি লতা মঙ্গেশ্বকর গান গান, তবেই তাঁরা ওই সিনেমা করবেন।

৬০-এর দশকে, মধুবালা "মুঘল-ই-আজম" ছবিতে মঙ্গেশকরের কণ্ঠস্বরের মুখ হয়ে উঠেছিলেন, যার মধ্যে 'জব প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া' গানটি অনেক প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম প্রকাশের ভাষা হয়ে উঠেছিল। এমনকি আধুনিক প্রজন্মের প্রেমিক- প্রেমিকাদের গলায়ও শুনতে পাওয়া যায় এই গান।

লতা মঙ্গেশকর একবার বলিউড হাঙ্গামার সাথে কথা বলার সময় বলেছিলেন, তিনি নিজের গান শোনেন না।  কারণ তিনি তাঁর গানে শত দোষ খুঁজে পান। ৬০-এর দশকে লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের সঙ্গে মঙ্গেশকর দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ৭০০ টিরও বেশি গান গেয়েছিলেন। যাঁর মধ্যে বেশিরভাগই বিশাল হিট হয়েছিল।

লতা মঙ্গেশকর ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল একটি সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সংসদের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন। গিনেস বুক অফ রেকর্ডস ১৯৭৪ সালের সংস্করণে লতা মঙ্গেশকরকে সর্বাধিক গানের রেকর্ডকৃত শিল্পী হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছিল। তবে এই দাবির বিরোধিতা করেছিলেন মহম্মদ রফি। পরবর্তীকালে ১৯৯১ সালে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই এন্ট্রিটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেই স্থানে গিনেসে লতার বোনকে সবচেয়ে বেশি রেকর্ডকৃত শিল্পী হিসাবে রাখা হয়। বর্তমানে, পুলাপাকা সুশীলা এই সম্মানটি ধরে রেখেছেন।

তিনি তাঁর কেরিয়ারে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর মধ্যে ২০০১ সালে 'ভারতরত্ন', ১৯৯৯ সালে 'পদ্মবিভূষণ', ১৯৮৯ সালে 'দাদা সাহেব ফালকে', ১৯৬৯ সালে 'পদ্মভূষণ' আরও কত কী।

লতা মঙ্গেশকর জীবনের শেষ গান 'সৌগান্ধ মুঝে ইস মিট্টি কি' রেকর্ড করেছিলেন, যা ময়ূরেশ পাই দ্বারা রচিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল। এটি ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ মুক্তি পায়।

বলাই যায়, একটা যুগের অবসান হল। তাঁর সুর অমর হয়েই থেকে যাবে। পঞ্চভূতে বিলীন হবে তাঁর নশ্বর দেহ। তিনি বলে গেলেন......

"লাগ যা গলে কে ফির ইয়ে হাসি রাত..... হো না হো......শায়াদ ফির ইস জনম মে... মুলাকাত হো না হো......"।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন