০১ মার্চ, ২০২৪

Bengal: তিন রাজ্যের শপথ হতে দেরি কেন?
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2023-12-08 12:21:52   Share:   

প্রসূন গুপ্তঃ বিপুল জয় পেয়েছিলো বিজেপি মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় এবং রাজস্থান। ছত্রিশগড়ের জয় তো অবিশ্বাস্য। বিজেপির অনেকেই এই রাজ্যে জয় আসবে ভাবতেই পারেনি। এবারের ভোটে একটি বিষয় পরিষ্কার গো-বলয়ে বিহার এবং ঝাড়খন্ড বাদে বাকি রাজ্যগুলি বিজেপির দখলে চলে এসেছে। একই সাথে হাতে রয়েছে গুজরাত। কাজেই লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি শক্তি পরীক্ষা করে নিয়েছে বলেই মনে করে অভিজ্ঞ মহল। কিন্তু একই সাথে এটাও বলা যায় গত লোকসভা নির্বাচনেও তো বিজেপি তথা এনডিএ ২০০র বেশি আসন পেয়েছিলো এই রাজ্যগুলি থেকে কাজেই এই নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ থাকা উচিত কি?

কারণ আছে, দেখা গিয়েছিলো বিগত লোকসভা নির্বাচনে এই গো-বলয়ে কংগ্রেস ভালো ফল করতে পারেনি কেবল মাত্র ভোট কাটাকাটির ফলেই। এবারেও রাজস্থান এবং ছত্রিশগড়ে কংগ্রেসের ভোট কেটেছে বিভিন্ন ছোট স্থানীয় দলগুলি ও সিপিএম। যদিও একটি 'ইন্ডিয়া' বলে জোট তৈরী হয়েছে এবং সেখানে স্থির হয়েছিল একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। দেখা গিয়েছে এই জোটে যে দল রয়েছে তার বাইরেও অনেক দল রয়েছে যারা ভোট কেটে সুবিধা করতে পারে বিজেপির। একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষী ভান্ডারের' মতো দাওয়াই দিয়ে বিজেপি বাজিমাত করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশে। তবে আর বিলম্ব কেন তিন রাজ্যের মন্ত্রিসভা গড়তে?

সমস্যা আছে তা বিজেপির অন্দর থেকেই খবর রয়েছে। প্রথমত, এই তিন রাজ্যের প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে রমন সিং, শিবরাজ সিং চৌহান এবং বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়া লালকৃষ্ণ আদবানির কাছের নেতা হিসাবে খ্যাত। শোনা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পছন্দের তালিকায় এঁরা কেউই ছিলেন না বা আজকেও নেই। ভোটের আগে তাই এক ডজনের বেশি সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বিধানসভা ভোটে দাঁড় করিয়েছিলো কেন্দ্রীয় বিজেপি। ভোটের পরে ঠিকই আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে না। রমন বা শিবরাজের এবারের ভোটে যথেষ্ট অবদান থাকলেও তাঁরা বুঝে গিয়েছেন আর তাঁদের ভাগ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আসন জুটবে না। পক্ষান্তরে কেন্দ্র তাঁদের নিয়ে একটি ভাবনায় আছে যে লোকসভা এঁরা আবার উল্টো সংগীত গাইবে না তো।

বসুন্ধরা তো পরিষ্কার মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার। তাঁর সঙ্গে ২০/২২ জন বিধায়ক আছে কাজেই প্রকারান্তরে তিনি জানিয়েছেন তাঁর বিষয়টি না ভাবলে অন্য ভাবনা ভাববেন তিনি। বাস্তবে ২০/২২ বিধায়ক বেরিয়ে গেলে সরকার তৈরিই হবে না। এদিকে মোদি বা অমিত শাহ ঠিক করেই রেখেছেন আর বসুন্ধরা নয়। এ কারণেই বসুন্ধরাকে দিল্লিতে ডেকে বোঝানো হচ্ছে যে তাঁর পরিবর্তে তাঁর পুত্র দুষ্মন্তকে কেন্দ্রের মন্ত্রী করা হবে ইত্যাদি।

বাস্তবে এই তিন নেতার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে নিজ নিজ রাজ্যে কাজেই এঁরা খুশি না হলে আসন্ন লোকসভায় কিন্তু চিন্তা বাড়বে। বিজেপি তাঁর সেরা খেলা বোধহয় সেমিফাইনালেই খেলে ফেলেছে কাজেই নতুন ভাবনার জায়গায় তিন প্রাক্তনী।


Follow us on :