ব্রেকিং নিউজ
veteran-director-tarun-majumder-dies-to-health-ailment
Tarun Death: তাঁর ছবিতে সারল্য, সম্পর্ক সব একাকার হয়ে যেত, ফিরে দেখা তরুণ মজুমদারকে

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-07-04 13:36:39


বড়পর্দায় কীর্তি রেখে 'পলাতক' পরিচালক তরুণ মজুমদার। ১৪ জুন থেকে কিডনির সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫ বার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই পরিচালক। ৮ জানুয়ারি ১৯৩১, তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে জন্মেছিলেন কুহেলির পরিচালক। স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরেন্দ্রনাথ মজুমদার ছিলেন তাঁর বাবা। স্কটিশ চার্চ কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তনী এই পরিচালক। মামার হাত ধরেই রুপোলি জগতে প্রবেশ।

যাত্রিক গোষ্ঠীর পরিচালক হিসেবে উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন এবং তুলসী চক্রবর্তী অভিনীত প্রথম ছবি মুক্তি চাওয়া-পাওয়া ১৯৫৯ সালে। ১৯৬২-তে দিলীপ মুখোপাধ্যায় অভিনীত কাঁচের স্বর্গ ছবির জন্য ঝুলিতে প্রথম জাতীয় পুরস্কার। এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই পরিচালককে। । তাই ধুতি পরা, ট্রামে চড়া বাঙালি সেই সময় পথের পাঁচালি, উত্তম-সুচিত্রা যুগলবন্দী  ছাড়াও সিঙ্গল স্ক্রিনে ভিড় জমাতেন পলাতক, বালিকা বধূ, কুহেলি ছবি দেখতে।

সাহিত্য নির্ভর ছবি তৈরিতে বেশি অনুরক্ত ছিলেন তরুণ মজুমদার। তাঁর ছবি দিয়েই চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ তাপস পাল, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, মহুয়া রায় চৌধুরী, অয়ন বন্দোপাধ্যায়ের মতো প্রতিভাবানদের। চুমকি রায় থেকে দেবশ্রী রায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ তরুণ মজুমদারের হাত ধরেই। যদিও কুহলেই ছবির শিশুশিল্পী হিসেবে দেবশ্রী রায়কে সুযোগ দিয়েছিলেন পদ্মশ্রী তরুণবাবু।

এদিকে, গানের দৃশ্য তাঁর ছবিতে আলাদা মাত্রা পেত। নিজেই ক্যামেরা হাতে সেই দৃশ্যগুলো বন্দি করতেন তরুণ মজুমদার। রবীন্দ্র সংগীত তাঁর ছবিতে আরও বেশি জীবিত থাকতো। সে আলো ছবি হোক বা দাদার কীর্তি কিংবা কুহেলি, রবীন্দ্র সংগীত তরুণ মজুমদারের ছবিতে থাকবেই। আর সেই সংগীতের সুরে আরও বেশি মাতোয়ারা হবে বাঙালি দর্শক। এমনটাই ছিল তরুন মজুমদারের চিত্রনাট্য।

ছবির নায়িকা থেকে ব্যক্তি জীবনের নায়িকা হিসেবে তরুণ মজুমদারের জীবনে 'ভালোবাসা ভালোবাসা' হয়ে প্রবেশ করেন সন্ধ্যা রায়। তাঁর সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পরিচালক। দীর্ঘ ৬ দশকের সেলুলয়েড জীবনে বাঙালি দর্শককে হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন আবার ভয়ও পাইয়েছেন এই পরিচালক। টালিগঞ্জে উত্তম-সুচিত্রা যদি একটা জনার হয়, তাহলে সত্যজিত, ঋত্বিক, মৃণাল সেন একটা জনার। এবং এই দুই জনারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলা ছবিকে আরও বেশি ইন্ডাস্ট্রি বানিয়েছেন তরুণ মজুমদার, তপন সিনহা প্রমুখরা।

তাই তাঁর মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান শাসক-বিরোধী সবপক্ষই। মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা, 'চলচ্চিত্র জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।' শুভেন্দু অধিকারীর আবার ট্যুইট, 'একটা যুগের অবসান।'  সেই যুগাবসানের আগেই দেহদানের অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন এই প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক। তাই কোনও প্রকার শোক মিছিল ছাড়াই পরিচালকের দেহ পৌঁছবে আরও বড় সৃষ্টির লক্ষে। হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন শুধু বাজতেই পারে 'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন...'






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন