ব্রেকিং নিউজ
he-was-the-king-of-free-kicks-according-to-surjit-memoirs-on-cn-digital
Surajit Sengupta: ডেড বলে ফ্রি কিকের রাজা ছিলেন, সুরজিতের স্মৃতিচারণা সিএন ডিজিটালে

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-02-17 17:28:06


পঞ্জাবের কাছে ১ গোল খেয়ে তিন গোল করিয়ে সুরজিৎ বাংলা ফুটবলের সেরা নক্ষত্র হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ফুটবল মাঠের জীবনের সেরা লড়াইয়ে জিতেও জীবনের লড়াইতে আজ তাঁকে হারতেই হল। চলে গেলেন ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা উইংগার সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ফুটবলারদের চিরকাল একটা জগৎ থাকে, তা অবশ্যই ওই ফুটবলই। কিন্তু সুরজিৎ ছিলেন ব্যতিক্রম। পূর্ববঙ্গ থেকে আগত সেনগুপ্ত পরিবার বাসা বেঁধেছিল হুগলিতে। সুরজিতের জন্মও সেখানে। একেবারে ঘটি পাড়াতে বেড়ে ওঠা সুরজিৎ ইস্টবেঙ্গলের প্রবল সমর্থক ছিলেন। অচ্যুত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিষ্য ছিলেন সুরজিৎ। তাঁর পায়ে প্রচণ্ড স্কিল দেখে তাঁকে উইংগে খেলতে বলেছিলেন অচ্যুৎবাবু। দুই পায়ে সমান শট ছিল। লেফট কিংবা রাইট দুই প্রান্তে সমানভাবে খেলতে পারতেন। যে কোনও প্রান্ত থেকে ডেড বলে ফ্রি কিকের রাজা ছিলেন তিনি। ৭০ দশকে উত্থান। প্রথমে খেলতেন খিদিরপুর ক্লাবে, পরে মোহনবাগান তাঁকে নিয়ে যায়। মোহনবাগানে খুব একটা ভালো খেলতে না পারলেও, মন্দ খেলেননি। ১৯৭৪ এ ইস্টবেঙ্গল থেকে ডাক এল, তারপর তো ইতিহাস।

শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন তাঁর বদ্যি পরিবারে। সুরজিতের বাবা বলতেন, পেশা যাই থাকুক না কেন, তাঁর মধ্যে শিক্ষা থাকতেই হবে। ফলে সুরজিতের নেশা ছিল বই পড়া, গান শোনা, বিশেষ করে ক্লাসিক্যাল গানের ভক্ত ছিলেন। রাজনীতিও বুঝতেন খুবই। ফুটবল ছেড়ে সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েছিলেন। যদিও ব্যাঙ্কের অফিসার ছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু একই সাথে লেখালেখিও করতেন। বাম মনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীদের দলে তাঁরও নাম উচ্চারিত হত। সত্যজিৎ রায়ের ছবির ভক্ত ছিলেন বলে শোনা যায়। প্রচণ্ড সিগারেট খেতেন। তার থেকেই একটা খুসখুসে কাশি ছিল। পরে জানা যায়, হার্ট ব্লক হয়ে রয়েছে। হার্টের অপারেশন করা হয়। তারপর থেকেই অনেক সতর্ক হয় যান। খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে বরাবরই সাবধানী ছিলেন। যতটুকু দরকার, ততটুকুই জীবনে নিয়েছেন। 

ইস্টবেঙ্গলে তাঁর খেলা দেখতে পাগল ছিল মানুষ। ১৯৭৪ এ প্রিয় দলে আসেন এবং একের পর এক রেকর্ড করে কিংবদন্তি হয় যান। ইস্টবেঙ্গলে আসার পর বাড়ির লোক হয়ে যান লাল-হলুদের। সুরজিতের উপরই দায়িত্ব থাকত দল গঠন করার। ১৯৭৮ এ দিল্লির মাঠে মোহনবাগানকে ৩ গোলে হারানোটাই তাঁর জীবনের সেরা ডার্বি। কারণ তিনিই ছিলেন সে বছরের অধিনায়ক। পরে ১৯৮০ তে ইস্টবেঙ্গলের তৎকালীন কর্তা নিশীথ ঘোষের উপর রাগ করে ১৩ জনকে নিয়ে দল ছাড়েন, যান মহমেডানে। পরের বছর মোহনবাগানে, কিন্তু ততদিনে শিল্পী খেলোয়াড়ের খেলা শেষ হয় গিয়েছে।

আজ শেষ হল মাত্র ৭১ বছরের জীবনও, ওই কালান্তর করোনাতে।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন