ব্রেকিং নিউজ
The-death-of-a-young-man-killed-by-the-police-Police-investigating
Golfgreen: পুলিসের মারে মৃত্যু যুবকের? ৩ পুলিস কর্মীকে ক্লোজ করা হয়েছে

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-08-06 12:58:25


গল্ফগ্রিন থানার আজাদগড়ে পুলিসের(Ajadgarh) মারে যুবকের মৃত্যুর(death) অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, গত রবিবার ওই যুবককে তুলে নিয়ে যায় গল্ফগ্রিন(Golfgreen) থানার পুলিস(police)। মৃত দীপঙ্করের বাড়ি গল্ফ গ্রিন থানার আজাদগড়ে। শুক্রবার কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনারের (এসএসডি) কাছে পুলিসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের পরিবার।

ঠিক কী হয়েছিল?

আজাদগড়ের বাসিন্দা দিলীপ সাহা ও আরতি সাহার ছোট ছেলে দীপঙ্কর। আরতিদেবী জানান, বলেন, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ দু’জন উর্দিধারী গল্ফ গ্রিন থানার পুলিস পরিচয়ে দীপঙ্করকে থানায় নিয়ে যান। কিন্তু ওকে আটক বা গ্রেফতারির(arrest) কোনও নথি ওঁরা দেখাননি। আরতি দেবীর দাবি, রাতে ফিরে দীপঙ্কর জানায়, পুলিস তাকে বিনা কারণে প্রচণ্ড মারধর করেছে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে কাউকে জানালে মাদকের কেস দিয়ে সারা জীবন জেলে(jail) পচাবে বলে হুমকি দিয়েছে।

দীপঙ্করের মা বারবার পুলিস আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করেন কেন তাদের ছেলেকে আচমকাই থানায় আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তরে পুলিস দীপঙ্করের মাকে জানায় ঠিক সময় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঠিক তেমনি ঠিক সময় আবার ছেড়েও দেওয়া হবে আপনার ছেলেকে। দীপঙ্করের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী রবিবার রাতে দীপঙ্কর জখম অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে। পরের দিন ভোরবেলা থেকেই জ্বর চলে আসে তার।

সে মাকে জানায় পুলিস তাকে অকথ্যভাবে মারধর(beaten) করেছে থানায় নিয়ে গিয়ে। পরিবারের তরফে দেওয়া হয় ব্যথার ওষুধ। ওষুধ খেয়েও ব্যথা না কমায় নিয়ে যাওয়া হয় শিশুমঙ্গল হাসপাতালে।

প্রাথমিক ট্রিটমেন্টের পর বাড়িতে নিয়ে এলেও বুধবার ফের অবস্থার অবনতি ঘটে দীপঙ্করের।

তারপরেই পরিবারের লোকেরা বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ভর্তি রাখা হয় দীপঙ্করকে। অবশেষে মৃত্যু হয় দীপঙ্করের। 

পরিবারের তরফে দাদা রাজীবের অভিযোগ তার ভাই এসে জানিয়েছিল যে পুলিস তাকে হুমকি দিয়েছে। এইভাবে মারধরের কথা যেন কোনওভাবেই সে কাউকে না জানায়। যদি সে জানায় তাহলে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে এবং এর থেকেও বেশি মারধর করা হবে।

পুলিসের মারে মৃত্যু যুবকের
পুলিসের মারে মৃত্যু যুবকের
 
00:00
/
00:49
LIVE

পুলিস সূত্রে জানা গেছে, দীপঙ্করেরা তিন ভাই, এক বোন। দীপঙ্করের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়েছিল। আগে পুদুচেরিতে কাপড়ের দোকানে কাজ করত সে। পাঁচ বছর আগে ফিরে এখানে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পারিবারিক স্টেশনারি দোকানে বসত দীপঙ্কর।

লালবাজার সূত্রে খবর, এক জন ডেপুটি কমিশনার অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। ওই যুবককে মারধরের প্রমাণ মিললে দোষী পুলিসকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিন সন্ধ্যায় তিন চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়া একটি দল এসএসকেএমে দীপঙ্করের দেহের ময়না-তদন্ত করে। যার ভিডিয়ওগ্রাফিও করা হয়েছে। পরে দেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হয়। যদিও লালবাজার সূত্রে দাবি, ওই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবার দুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও পুলিসের দাবি, দীপঙ্কর-সহ পাঁচ জনকে রবিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১০টা ২৬ মিনিটে থানায় ঢোকানো হয় তাঁদের। ১০টা ৫৬ মিনিটে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিসের দাবি, দীপঙ্কর হেঁটে বেরোনোর সময়ে কোনও রকম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, ওই যুবকের নিতম্বে ও দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। আঘাতগুলি দু’-তিন দিনের পুরনো। দীপঙ্করের হার্ট ও লিভার বড় ছিল। ভিসেরা এবং হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

তবে দীপঙ্করের মাদকাসক্তির অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। এক আত্মীয়ের প্রশ্ন, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া যায় সে মাদকাসক্ত ছিল, তা হলেও কি পুলিস এ ভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে পেটাতে পারে? পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তে অস্বচ্ছতা রয়েছে।

মৃত্যুর আসল কারণ লুকানো হচ্ছে পরিবারের কাছ থেকে। লালবাজার ও ডি সি এস এসডির কাছে অভিযোগ করার পরেও পরিবারের লোকেরা আশ্বস্ত হচ্ছেন না। তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে দীপঙ্করের পরিবার। সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে পরিবার। পাশাপাশি ৩ পুলিস কর্মীকে ক্লোজ করা হয়েছে।







All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন