২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

Shankar Adhya: দুর্নীতির শিরোমনি শঙ্কর আঢ্য! ইডির তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2024-01-06 18:30:13   Share:   

'হাত জোর করে অনুরোধ করছি, তদন্ত যেন সঠিক ভাবে হয়।' রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুর রহমান, মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার ইডির হাতে গত শুক্রবার গ্রেফতার হওয়ার পর একথা বললেন বনগাঁর দাপুটে তৃণমূল নেতা শঙ্কর আঢ্য। বনগাঁর এই দোর্দন্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে ইডি সূত্রে। 

জানা গিয়েছে, শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে শঙ্কর আঢ্যকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও শঙ্কর আঢ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, গ্রেফতার করাটাই যেন আল্টিমেটাম। উল্লেখ্য,  হাসপাতালে থাকাকালীন মেয়েকে চিঠি পাঠান রেশন দুর্নীতিতে ইডির হাতে গ্রেফতার মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু সেই চিঠি এসে পৌঁছোয় ইডির হাতে। চিঠি খোলার পরেই প্যান্ডোরার বক্সের মতো রেশন দুর্নীতিতে যুক্ত একাধিক নাম উঠে আসে ইডির হাতে। শাহজাহান ও ডাকু ওরফে শঙ্করের নাম ছিল চিঠিতে। বলা হয়েছিল এরা টাকা পৌঁছে দেবে প্রিয়দর্শিনীকে। 

শঙ্করের বাড়ি, শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি অভিযানে ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ইডির হাতে আসে সন্দেহজনক নথি। এরপরেই জানা যায়  শঙ্করের নামে রয়েছে একাধিক সংস্থা। শঙ্কর এবং তাঁর পরিবার একাধিক বিদেশি মুদ্রা বিনিময় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলেও খবর রয়েছে ইডি-র কাছে। পাশাপাশি রয়েছে অর্থলগ্নি সংস্থাও।  শঙ্করের স্ত্রী, ছেলে এবং একাধিক আত্মীয় এই সংস্থাগুলির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন বলে ইডি সূত্রে খবর। এখানেই শেষ নয়, বনগাঁয় একটি সোনার দোকান সহ শঙ্কর আঢ্যের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শপিং মল, কফি শপ সহ একাধিক সম্পত্তি।

এছাড়াও শনিবার শঙ্কর আঢ্যকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করার পর আদালতে ইডি-র দাবী, ভুয়ো কাগজপত্র তৈরী করে এই রেশন দুর্নীতি টাকা বিদেশী মুদ্রায় পরিবর্তন করে বিদেশে পাচার করা হতো শঙ্করের মাধ্যমে।  এছাড়াও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ৯-১০ হাজার কোটি টাকা বিদেশী মুদ্রায় পরিণত করেছে শঙ্কর। এরমধ্যে ২০০০ কোটি টাকা পাচার করে দেওয়া হয়েছে দুবাই এবং বাংলাদেশে। এছাড়াও ইডির তদন্তে  পাসপোর্ট ও একাধিক নথি খতিয়ে দেখার পর জানা গিয়েছে ৯০টি কোম্পানি খুলে টাকা পাচার করা হতো। সমস্ত কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রয় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ শংকর আঢ্য। কলকাতা সহ সীমান্ত এলাকাতেই এই সমস্ত কোম্পানি গড়ে তোলা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রে খবর। কালী দাস সাহা ও আঢ্য পরিবারের মধ্যেও ব্যবসায়িক যোগ রয়েছে। তাঁরা একে অপরকে চিনতেন বলে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি ED-র।

পাশাপাশি সমস্ত কল রেকর্ড ও নথি খতিয়ে দেখে ইডির দাবি জ্যোতিপ্রিয়র সঙ্গে  টাকা পাচারের ছক কষেছিল শঙ্কর আঢ্য ওরফে ডাকু। রেশন দুর্নীতির কালো টাকা বিভিন্ন হাত ঘুরে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিবর্তন করা হতো বলে ইডি সূত্রে খবর। রেশন দুর্নীতির টাকার অংক ইতিমধ্যেই ২০,০০০ কোটি টাকা পার করে গিয়েছে। 

রেশন দুর্নীতি কাণ্ডের আর্থিক তছরুপের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আধিকারিকদের। আর এই সমগ্র দুর্নীতির শিরোমনি হিসেবে উঠে আসছে বনগাঁর দাপুটে তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্যের নাম। ইডির তদন্তে রেশন দুর্নীতির মোড় এখন কোনদিকে ঘোরে আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বঙ্গের ওয়াকিবহাল মহল।


Follow us on :