ব্রেকিং নিউজ
Go-to-sleep-with-the-fear-of-death-death-knocks-on-the-door-but-why
Collapse: মৃত্যু যেন দরজায় কড়া নাড়ে, কিন্তু কেন?

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-07-04 16:55:38


‘আমরা যখন ঘুমাতে যাই, তখন এই ভয়ে থাকি যে ঘুম থেকে উঠতে পারব কিনা। যদি আর জেগে না উঠি?’ এমন আশঙ্কার কথা জানান কিউবার রাজধানী হাভানার বাসিন্দা এলিসা বেসিয়ান। হাভানায় ধসে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে যে প্রায় ৭০০ ভবন রয়েছে, তারই একটিতে থাকেন তিনি। ঝুঁকিতে থাকা এইসব ভবনে প্রায়ই ধসের ঘটনা ঘটে।

এলিসা বেসিয়ানের বয়স ৫১ বছর। তিনি তাঁর ১২ বছরের মেয়ে লেসিয়ানিসকে নিয়ে হাভানার একটি পুরনো ভবনে থাকেন। ‘এডিফিসিও কিউবা’ নামের ওই ভবন ১৯৪০ সালে নির্মিত। কমিউনিস্টশাসিত কিউবার বেশিরভাগ বাড়ির মতো এলিসাদের ছয়তলা ভবনটিও রাষ্ট্রমালিকানাধীন। মোট ১১৪ কক্ষের ওই ভবনে বিনা ভাড়ায় ৯২টি পরিবার বসবাস করে।

ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একসময় ভবনটি বিলাসবহুল হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু এখন মেঝের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে গিয়েছে। ছাদ, দেওয়াল ও চলাচলের পথের দেওয়ালে ফাটল ধরে ভিতরের ধাতব কাঠামো দেখা যাচ্ছে। চারপাশ ভাঙা আর গর্ত হয়ে গিয়েছে।

এলিসা বেসিয়ান আরও জানান, শিশুরা এখানে খেলতে পর্যন্ত পারে না। কারণ, যে কোনও সময় পলেস্তারা, নয়তো কংক্রিট খসে পড়ে। ইতিমধ্যে এক সন্তানকে হারিয়েছেন। আরেক কন্যাকে হারাতে চান না। এ কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করার অভাবে প্রায়ই হাভানার এসব ভবন পুরো, নয়তো আংশিক ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে জুন থেকে নভেম্বরে বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভবন ধসের ঘটনা বেশি ঘটে। ২০২০ সালে একটি ভবনের বারান্দা ধসে পড়ে তিন তরুণী প্রাণ হারান।

কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ বছর জুনের প্রথমে বৃষ্টিপাতে হাভানার ১৪৬টি ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। পুরো ধসে গেছে আরও দুটি। এতে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। এরপর কে ভবনধসের শিকার হবে, সেটা কেউ জানে না।

সরকারের দেওয়া হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ কিউবায় দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ আবাসিক ভবনের মধ্যে ৩৭ শতাংশ ভবনই ধসে পড়ার মতো ঝুঁকিতে ছিল।

১৯৯৭ সালে এডিফিসিও কিউবায় স্থানান্তরিত হন ৫৭ বছর বয়সী ক্যারি সুয়ারেজ। এর আগে তিনি যে ভবনে ছিলেন, সেটি ধসে পড়ার ঝুঁকির তালিকায় ছিল। একদিন ভবনটি ধসে পড়ে। ক্যারি তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভবনধসের সময় ক্যারির মা ঘরে ছিলেন। ভবনধসে ক্যারির মা সেদিন প্রাণ হারান। এরপর আবাস বদল করেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি যে ভবনে রয়েছেন, সেটিও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্যারি বলেন, এভাবে বেঁচে থাকা এবং মৃত্যুশঙ্কা নিয়ে থাকাটা খুব কঠিন।






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন