নাইলনের জালে পাখিশিকার

0
236

সন্ধ্যা নামার আগে মাঠের মধ্যে ঠাঙ্গানো হয় নাইলনের জাল। আর তাতে আটকে পড়ে নানা পাখি। সকালে সেই পাখি ধরে চড়া দামে বিক্রি হয়। শীতের মরসুমে পাখির মাংসে চলে চড়ুইভাতি। আমতা থানা এলাকায় কেঁদোর মাঠে চলছে এই পাখি ধরার ব্যবসা। আমতা ১ ব্লকের  কেঁদোর মাঠে মূলত কয়েকশো বিঘা ধান জমি আছে। এখানে শীতকালে আসে দেশবিদেশের  নানা ধরনের পাখি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে কিছু মানুষ এসে মাঠের মধ্যে নাইলনের জাল টাঙিয়ে দিয়ে সারারাত মাঠের মধ্যে বসে থাকে। রাতে ওই জালে নানান ধরনের পাখি আটকে পড়ে।
সকালে উঠে সেই পাখি ধরে চড়া দামে বিক্রি করে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাষি বলে,ন বহুবার নিষেধ করেছি পাখি না ধরার জন্য কিন্তু শোনেনি।  উল্টে ভয় দেখায়। আমতা কেঁদোর মাঠ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। এখানে চাষিরা ছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত নেই বললেই চলে। এর ফলে পাখিচোরদের পাখি ধরতে অনেকটাই সুবিধা হয়।
খবর পেয়ে ভোররাত থেকে মাঠের মধ্যে ওঁত পেতে ছিলাম। সকালের আলো ফুটতেই দেখা গেল জালের মধ্যে বেশ কিছু পাখি আটকে পড়ে ছটফট করছে । কয়েকজন পাখিগুলো জাল থেকে বের করে ডানা দুটিকে ভেঙে ব্যাগের মধ্যে রেখে দিচ্ছে । দূর থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করলাম। কয়েকটি ছবি তোলার পর পাখি চোরদের চোখে পড়ে গেলাম। দিতে লাগলো হুঙ্কার।
পরিচয় চেপে রেখে,  সখে পাখির ছবি তুলছি বলে রেহাই পেলাম। কথা বলে জানতে পারলাম, এই পাখি তারা ১৫০ টাকা থেকে ২০০টাকা প্রতি বিক্রি করে। একশ্রেণির মানুষ শীতের মরসুমে পাখির মাংস দিয়ে চড়ুইভাতি করতে পছন্দ করে। তারাই কিনে নিয়ে যায়। পাখির নাম জিজ্ঞাসা করতে তারা বলতে পারলেন না। বললেন, পাখির নাম জানিনা। তবে এই পাখিগুলো এখানে সারা বছর দেখা যায়নি। কথা বলতে বলতে দুটি পাখির ছবিও তুলে নিলাম। বললেন, আপনারা কি পাখি কিনবেন? না বলতেই রেগে গেলেন।
বেরিয়ে এসে স্থানীয় আমতা থানার ওসির সঙ্গে কথা বললাম। তিনি অবশ্য বললেন, বিষয়টি জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখব কারা পাখি ধরছে। জেলা  বনদফতরের আধিকারিক বিদিশা বসাক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি । খুব শীঘ্রই আমরা বন দফতরের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় একটি সচেতন শিবির করা হবে। এবং ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হবে।

SHARE