সর্বজনীন দুর্গা নিয়ে প্রশ্ন

0

বাংলার দুর্গা পূজো আদি অকৃত্রিম বললেও প্রশ্ন থেকেই যায় সত্যিই কি এটি আম বাঙালির চিরকালীন উৎসব ছিল? এ বিষয়ে নানান মত থাকলেও, একটি বিষয় সত্যি এটি শুরু হওয়ার বহু বছর বাদে সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। আশ্বিনে দূর্গা পূজার প্রচলনই ছিল না। বসন্তকালে বাসন্তী পুজো বা অন্নপূর্ণা পুজোই প্রচলিত ছিল এককালে। তাও বড়লোকদের বাড়িতে হত পুজো, সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। দুর্গাপুজো আসে অনেক পরে।
সিরাজদৌল্লাকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর লর্ড ক্লাইভ ক্ষমতা দখল করলে বাংলার বাবু ও ব্যবসায়ী সমাজ তাঁকে সংবর্ধনা দিতে এই আশ্বিনে আয়োজন করেন দুর্গাপুজোর। সেটা ছিল ১৭৫৭, এবং এই পুজোতে প্রবেশ অধিকার ছিল শুধুমাত্র বিশিষ্ট আমন্ত্রিতদের। সাধারণ মানুষ প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাদের চাবুক পেটা করা হত। ১৮০০ সালের কোনও এক সময়ে গুপ্তিপাড়ার ১২ জন বন্ধু মিলে একটি দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। ১২ জনের পুজো, তাই এটির নাম হয় বারোয়ারি বা বারো-ইয়ারি পুজো। কিন্তু সেটাও সর্বজনীন হয়নি। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড়ে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন এবং সারা গ্রামকে নিমন্ত্রণ করে ভোগ খাওয়ান। সব শেষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র ১৯২৪ এ সিমলা ব্যায়াম সমিতিতে প্রথম সংগঠন করেন সর্বজনীন দুর্গা পুজোর। আমজনতা তথা সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ তাতে চাঁদা দেন এবং অংশ গ্রহন করেন। যদিও আরও মত আছে তবে এই ঘটনাকে অস্বীকার করে না কেউই। এরপরই বাংলায় ধীরে ধীরে সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সূচনা হয়।