মালদায় বিস্ফোরণ নিয়ে তোপ রাজ্যপালের, ঘটনাস্থলে ফিরহাদ

0

মালদার কালিয়াচক থানার সুজাপুরে এক প্লাস্টিক কারখানায় তীব্র বিস্ফোরণে মারা গিয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এবার এই ঘটনা নিয়েও মুখ খুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এক টুইটে তিনি ফের রাজ্য প্রশাসনের প্রতি তোপ দাগেন। টুইটে তিনি লেখেন, ‘এবার তো বোমা তৈরির কারখানাগুলি বন্ধ করুন’। সেইসঙ্গে তিনি এই বিস্ফোরণের ঘটনার নিরেপেক্ষ তদন্তের দাবিও করেছেন।

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সুজাপুরে ৩৪ নং জাতীয় সড়কের ধারের একটি প্লাস্টিক কারখানায় আচমকাই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়। গোটা এলাকা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের, একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালের পথে। ঘটনাস্থলে গিয়ে মালদা জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া দাবি করেন, প্লাস্টিক কারখানার মেশিন ফেটেই বিস্ফোরণ হয়েছে। যদিও ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও যান। তাঁরাও নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তবুও এত তীব্র বিস্ফোরণ কেন সেটা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যায়। রাজ্যপালও কার্যত সেই প্রশ্ন তুলে দিলেন।

 

অপরদিকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ামাত্রই মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে পুরো ঘটনার জানেন। এরপরই তিনি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

 

ফিরহাদ হাকিমও সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টারে মালদার সুজাপুরে চলে যান। তিনি ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিও মেশিনে বিস্ফোরণের কথাতেই শিলমোহর দিয়েছেন। এরপরই রাজ্য সরকারের তরফে বিস্ফোরণে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতরাও পাবেন ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ। অপরদিকে সুজাপুরের বিস্ফোরণ নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা শুরু হয়েছে।

 

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণ হচ্ছে, বোমা তৈরির কারখানা চলছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে জঙ্গিদের গ্রেফতার করছে এনআইএ। এই ঘটনার পিছনে আসল সত্যি জানতে তাই এনআইএ তদন্তই দরকার। পাল্টা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমও। তিনি সুজাপুরে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন তোলেন, সব ঘটনার জন্যই কি এনআইএ ডাকতে হবে?