লর্ড ক্যানিয়ের আমলের ডাবু প্রায় ধ্বংস

0

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নাম শুনলেই মনে পড়ে সুন্দরবন, বকখালি, কাকদ্বীপের কথা। ঠিক তেমনেই লুকিয়ে রয়েছে কিছু অজানা পর্যটন কেন্দ্র। এরমধ্যে অন্যতম হল ডাবু পর্যটন কেন্দ্র। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং-১ ব্লকের নিকারিঘাটা গ্রামপঞ্চায়েতের সাতমুখী বাজার সংলগ্ন মাতলা নদী তীরে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এই পর্যটনকেন্দ্র।

ইতিহাস বলছে ইংরেজ শাসক লর্ড ক্যানিংয়ের আমলে ১৮৬২-১৮৬৬ সালে এই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। মাতলা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে তৎকালীন উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মচারীরা হাওয়াবদলের জন্য এখানে আসতেন। একদিকে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল, পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মাতলা নদী। ফলে জঙ্গলের অভিজ্ঞতা এবং পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে পরবর্তী সময়েও এখানে ছুটে এসেছেন দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু অতীতের গৌরবময় ডাবু পর্যটন কেন্দ্র আজ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। পর্যটনকে কেন্দ্র করেই এই এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নতি হয়। কিন্তু আজ কার্যত বিস্মৃতির আড়ালে চলে গিয়েছে ডাবু পর্যটন কেন্দ্র।

 কীভাবে এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আজ বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেল? এর উত্তর পেতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে বাম আমলে। স্থানীয় বাম নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় সেখানে বৃক্ষনিধন যজ্ঞ শুরু হয়। এর ফলে সেখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে দেরী হয়নি। পাশাপাশি পরপর কয়েকটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও ডাবু পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারায় ডাবু। মুখ থুবড়ে পড়ে এখানকার পর্যটন শিল্প। বাম আমলের পর রাজ্যে আসে পরিবর্তন। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরও ডাবুর দিকে নজর পড়েনি প্রশাসনের। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার কথা জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে তৃণমূল সরকার। চলতি বছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ডাবু পর্যটন কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ডাবু পর্যটন কেন্দ্রকে পূর্ণ সংস্কার করে ‘ইকো- ট্যুরিজম’ পার্ক গড়ে তোলা হবে।

তারপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ও কাজ হয়নি, পানীয় জলের সমস্যা। বিদ্যুতের সমস্যা। ঠিক একইভাবে ক্যানিংএ ডাবু পর্যটক কেন্দ্রে বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে। ইটের পাঁচিল ভেঙে পড়ে রয়েছে, সন্ধ্যার পরে দুষ্কৃতীদের বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, পর্যটকদের ভিতরে পার্কে এলাকায় মানুষ তারা যথেষ্ট আতঙ্কে থাকে। আমফানে পর থেকে এখনো অন্ধকার পর্যটনকেন্দ্র। তাই স্থানীয়রা ডাবু পর্যটন কেন্দ্রকে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছেন