সামনে আসছে ব্ল্যাকমেল তত্ত্ব, একবালপুর তরুণী খুনে ধৃত দম্পতি

0

একবালপুরের এক তরুণীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের ঘটনা চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। তদন্তে উঠে এল এক দম্পতির নাম। সাবা খাতুন নামে ওই তরুণী খুনের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে মহম্মদ সাজিদ হোসেন ওরফে রোহিত এবং তার স্ত্রী অঞ্জুম বেগমকে । পুলিশের দাবি, সাবাকে খুনের ঘটনায় এরা সরাসরি যুক্ত। জানা যাচ্ছে, বিবাহিত রোহিতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল তরুনী সাবা। এমনকি তাঁকে বিয়েও করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাজিদ হোসেন ওরফে রোহিত বিবাহিত হওয়ায় গোলমাল বাধে। আরও জানা যাচ্ছে, রোহিতকে বিয়ে করতে চেয়ে কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ছবি এবং ভিডিও নিয়ে রোহিতকে ব্ল্যাকমেল করছিল নয়না ওরফে সাবা।

অপরদিকে যুবতী সাবার সঙ্গে স্বামীর ‘পরকীয়া সম্পর্কের কথা জেনে ফেলেছিলেন সাজিদের স্ত্রী অঞ্জুম বেগম। সবমিলিয়ে পরকীয়া সম্পর্কের মর্মান্তিক পরিনতির শিকার হতে হল সাবাকে। খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সাবার মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে ইমরান এবং সাজিদের নাম পায়। সাজিদকে জেরা করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চাপের মুখে খুনের কথাও স্বীকার করে সে। এরপরই পুলিশ গ্রেফতার করে সাজিদকে। তাঁকে জেরা করে উঠে আসে অঞ্জুম বেগমের নামও। তিনিও সাবাকে খুনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ জানতে পেরেছে, সাবাকে খুনের পর বস্তাবন্দি করে রাস্তায় ফেলে আসতে সাহায্য করে অঞ্জুম। যদিও পুলিশ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। এই খুনের ঘটনায় শুধুমাত্র ব্ল্যাকমেল নাকি মাদক যোগও ছিল সেটাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সাবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় ছিল ক্ষতচিহ্ন। এমনকি শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় সিগারেট জাতীয় কিছুর ছ্যাকার দাগও রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, ড্রাগ অ্যাডিক্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই শারীরিক অত্যাচের শিকার হয়েছিল ২২ বছরের তরুণী সাবা খাতুন। এখন ধৃত দম্পতিকে জেরা করেই বাকি রহস্য জানার চেষ্টায় পুলিশ।