
গরু পাচার-কাণ্ডে (Cow Smuggling Case) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলের হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে গ্রেফতার করে ইডি। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পরই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। জানা গিয়েছে, মঙ্গবার মণীশ কোঠারিকে অনুব্রতর মুখোমুখি বসিয়ে চলেছে জিজ্ঞাসাবাদ। জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তাই গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে কেষ্ট কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে ১৬ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের হদিশ পায় ইডি আধিকারিকরা। একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকার নামে এত কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট কীভাবে? এই ফিক্সড ডিপোজিটের উৎস কি? প্রশ্ন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার।
ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলেন অনুব্রতর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারি। ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচারের কালো টাকাতেই সুকন্যার নামে ফিক্স ডিপোজিট করা হয়েছে। ১৬ কোটি টাকার ফিক্সট ডিপোজিট সুকন্যার, জেরায় জানান মণীশ।
আগামি সপ্তাহেই দিল্লিতে তলব করা হতে পারে সুকন্যা মণ্ডল (Sukanya Mondal) এবং মণীশ কোঠারিকে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে এই দু'জনের কাছে ফোন গিয়েছে। আগামি সপ্তাহেই তাঁদের হাজির হতে হবে দিল্লির ইডি দফতরে। এই মর্মে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। যদিও হাজিরার তারিখ ও সময় একদিন আগে জানিয়ে দেবে ইডি বলে জানা গিয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে ইডির (ED) নির্দেশ, 'আগে যেসব নথি জমা দিয়েছেন, সেই নথি নিয়ে হাজির হতে হবে দিল্লি।'
জানা গিয়েছে, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ১২ জনকে তৃণমূল নেতার মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে তালিকা তৈরি করেছে ইডি। সেই তালিকায় রাজ্য রাজনীতির কেষ্ট মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডল-সহ মণীশ কোঠারি, তৃণমূল নেতা রাজীব ভট্টাচার্য, ব্যাবসায়ী মলয় পিট, সুকন্যার গাড়ির চালক তুফান মিদ্দা রয়েছেন। এছাড়াও তালিকাভুক্ত অনুব্রতর বাড়ির পরিচারক বিজয় রজক, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কৃপাময় ঘোষ এবং তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন।
সম্ভবত আগামী সপ্তাহের শুরুতে এদের তলব করা হবে। প্রত্যেকের সঙ্গে অনুব্রতকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে ইডি। এমনটাই কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সায়গল হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ইডি। যেখানে অনুব্রত মণ্ডলের গরু পাচারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। শনিবার জেরায় সেই সূত্র ধরে অনুব্রতকে জেরা করছে ইডি বলে খবর।
তিন দফায় অনুব্রত-কন্যাকে (Sukanya Mondal) জিজ্ঞাসাবাদের (interrogation) পরেও সঠিক তথ্য মিলছে না, খবর ইডি (ED) সূত্রে। নামধাম সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য দিলেও ব্যবসা ও কোম্পানি সংক্রান্ত তথ্য দেননি সুকন্যা মণ্ডল। খবর তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে। সংস্থার সংযোজন বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছেন, তিনি জানেন না। তাঁর বাবা বলতে পারবেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সুকন্যার দাবি, হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারি বলতে পারবেন। সব তথ্যই যেহেতু অনুব্রতর (anubrata mondal) কাছে রয়েছে বলে উঠে আসছে। তাই কেষ্টকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি। দু-একদিনের মধ্যে সেই প্রক্রিয়াও শুরু করবে তারা।
তিন দিনে ঠিক কী জানা গেল?
পরপর তিন দিন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতির মেয়েকে দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তবে সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা এর পরও সন্তুষ্ট নয়। যা জানা যাচ্ছে, সুকন্যাকে যখন নানা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা হচ্ছে, তখন তার সবকটিরই উত্তর দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু যখনই ব্যবসা বা সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তখনই সুকন্যা দাবি করছেন তিনি কিছু জানেন না। কখনও বলছেন, 'বাবা বলতে পারবেন। কখনও আবার বলছেন মণীশ দা জানেন।'
কখনও আবার জানছেন, সব তথ্য রয়েছে হিসাবরক্ষকের কাছে। এদিকে মণীশ কোঠারির বক্তব্য, 'তাঁর কাছে যখন যা নথি পাঠানো হত তিনি তাঁর ভিত্তিতেই অডিট করে দিতেন।' সবের পর এবার অনুব্রতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি।' যেহেতু জেরায় সুকন্যা বারবার অনুব্রত কথা বলেছেন, তাই এবার অনুব্রতকে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, আগামি সপ্তাহে অনুব্রতকে জেরা করার অনুমতি চেয়ে দিল্লির এক আদালতে আবেদন করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
বুধ, বৃহস্পতির পর শুক্রবারও দিল্লির ইডি (ED) দফতরে সুকন্যা মণ্ডলের (Sukanya Mondal) হাজিরা। গরু পাচার-কাণ্ডে এভাবেই পরপর তিন দিন অনুব্রত-কন্যা হাজিরা দেন ইডির দিল্লির দফতরে। প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার টানা আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সুকন্যাকে। বৃহস্পতিবারও সকালে ঢুকে সন্ধ্যায় ইডি দফতর থেকে বেড়িয়েছেন সুকন্যা। এরপর শুক্রবার আবার সকাল ১১টা নাগাদ ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, খাতায়-কলমে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সুকন্যাকে। দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুব্রতর (Anubrata Mondal) মেয়ের সম্পত্তিবৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি। তাই তাঁকে এভাবেই একসপ্তাহে ঘন ঘন তলব।
তবে শুধু অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা নয়, পরপর দু’দিন ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অনুব্রতের হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকেও। শুক্রবারও তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। ইডির দাবি, ২০১৪-র আগে সুকন্যার বছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ লক্ষ টাকার মতো। গত দু’বছরে তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, বোলপুরের একটি চালকলের মালিকানা হিসেবে সুকন্যার নাম রয়েছে। দু’টি সংস্থারও ডিরেক্টর তিনি। ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজ়িট রয়েছে। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, গরু পাচার মামলায় অনুব্রত-যোগের তদন্তে নেমেই সুকন্যার এই বিপুল সম্পত্তির হদিস মিলেছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, অনুব্রতের গরু পাচার থেকে আয়ের অর্থে তাঁর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের মতো সুকন্যারও সম্পত্তি ফুলেফেঁপে উঠেছে।
এদিকে, অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। তাঁকে তিহার জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গরু পাচার-কাণ্ডের (Cow Smuggling) তদন্তে দ্বিতীয় দিনেও সুকন্যা মণ্ডলকে (Sukanya Mondal) তলব ইডির। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে এপিজে আবদুল কালাম রোডে তদন্তকারী সংস্থার (ED) দফতরে হাজিরা দেন সুকন্যা। এদিন সুকন্যা ছাড়াও অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ রাজীব ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় সংস্থার দিল্লি দফতরে হাজিরা দেন। বুধবারও দীর্ঘক্ষণ ইডির জেরার মুখে পড়েছিলেন অনুব্রত-কন্যা।
ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচার-কাণ্ডে ধৃত অনুব্রত। ওই একই মামলায় নাম জড়িয়েছে সুকন্যারও। সেই কারণেই তাঁকে আবার তলব করেছে ইডি। ইডির হেফাজতে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন অনুব্রতের দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। সুকন্যাকে অনুব্রতর দেহরক্ষীর মুখোমুখি বসিয়ে সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সম্ভাবনা রয়েছে। গরু পাচার-কাণ্ডের তদন্তে নেমে সুকন্যা মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। একজন স্কুলশিক্ষিকা হয়ে কী করে এত সম্পত্তির মালকিন হলেন সুকন্যা? সেই বিষয়ে জেরা করতেই অনুব্রত কন্যাকে দফায় দফায় তলব। এমনটাই কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, একসময় সুকন্যার বার্ষিক আয় ছিল ৩ লক্ষ টাকা, সম্প্রতি সেই সম্পত্তি পরিমাণ বেড়ে হয়েছে কোটি টাকার বেশি। কোন জাদু বলে এই বিপুল সম্পত্তিবৃদ্ধি, জানতে চাইছে ইডি।
এদিকে, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ কেরিম খান এদিন নিজাম প্যালেসে সিবিআই তলবে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। গরু পাচার-কাণ্ডের তদন্তে নেমে সায়গল হোসেন, আবদুল লতিফ এবং কেরিম খানের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে সিবিআই। সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই কেরিম খানকে ফের তলব। এদিন নিজাম প্যালেসে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের কেরিম খান বলেছেন, আমাকে কেন ডেকেছে ওরা না বললে কী করে বলব? আমি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সেটা সিবিআই প্রমাণ করুন। যা সহযোগিতা সিবিআই চাইবে, সেই সহযোগিতাই আমি করব।
গরু পাচার-কাণ্ডে (Cow Smuggling Case) সিবিআইয়ের র্যাডারে এবার অনুব্রত মণ্ডলের ভাগ্নে রাজা ঘোষ। তাঁর মায়ের নামে রয়েছে শিবশম্ভু রাইস মিল। পাশাপাশি তাঁর বাবার নামেও একাধিক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই (CBI)। সেসব তথ্য জানার জন্য সিবিআই অস্থায়ী ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে তৃণমূল নেতার (Anubrata Mondal) ভাগ্নেকে এমনটাই সূত্রের খবর। বুধবার আবার সিবিআই হানা দেয় বোলপুর রেজিস্ট্রি অফিসে। অনুব্রতর ভাগ্নে ও দিদি জামাইবাবুর সম্পত্তির উৎস খুঁজতেই নেতাজি মার্কেটের রেজিস্ট্রি অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
পাশাপাশি সোমবারের মধ্যে সুকন্যা মণ্ডলকে তলব করেছে সিবিআই। তাঁর নামে থাকা দুটি সংস্থার আয়-ব্যায় সংক্রান্ত হিসেব এবং রাইস মিল সংক্রান্ত একাধিক তথ্য খতিয়ে দেখে এই তলব বলে সিবিআই সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, বিশ্বজুড়ে মহামারী পরিস্থিতিতে অনুব্রত-কন্যার আয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ২০১৮-২০১৯ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫১ লক্ষ ৪১ হাজার ৩২১ টাকা। ভারতে প্রথম করোনা ধরা পড়েছিল ২০২০-র ৩০ জানুয়ারি। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রথম লকডাউন হয়েছে মার্চের শেষের দিকে। সেই সময় বহু মানুষ কাজ হারান। স্বজন হারান লক্ষাধিক মানুষ। সেই সময়কালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে সুকন্যার বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯০ টাকা।
গোরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে দাখিল চার্জশিটে এই তথ্য তুলে ধরেছে সিবিআই। প্রাথমিক স্কুলের একজন শিক্ষিকার উল্কাগতিতে এই আয় বৃদ্ধির উৎস কী, জানতে চায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। চার্জশিটে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে অনুব্রতর একমাত্র কন্যার বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। সাত বছরে তা বেড়ে হয় দেড় কোটি। বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ গুণ! অথচ ওই একই সময়ে (২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২০-২০২১) খোদ অনুব্রতর আয় ৫ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রী ছবি দেবীর আয় ৪ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪ লক্ষ টাকা।
অনুব্রতর পরিবারের সদস্যদের এই আয়বৃদ্ধির খতিয়ান চার্জশিটে তুলে ধরেছে সিবিআই। বিপুল আয় বৃদ্ধির রহস্য কী? চার্জশিটে সিবিআইয়ের দাবি, অনুব্রতর পারিবারিক সম্পত্তি ভোলে ব্যোম রাইস মিলের মুনাফা বৃদ্ধি আয় বাড়িয়েছে বহুগুণ। ২০১৫-২০১৬ অর্থবর্ষে ওই মিলের মুনাফা ছিল মাত্র এক লক্ষ টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষে সেই লাভের পরিমাণ লাফিয়ে হয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ওই রাইস মিলের ডিরেক্টর পদে রয়েছেন সুকন্যা। এছাড়াও দু’টি ‘অলাভজনক’ কোম্পানি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। মণ্ডল পরিবারের ছোঁয়ায় সেগুলিও মাত্র ক’বছরে ফুলে ফেপে ওঠে। আয়কর বিভাগে অনুব্রতর দাখিল করা তথ্য থেকে আয়বৃদ্ধির এই উল্কাগতির সন্ধান মিলেছে বলে দাবি সিবিআইয়ের একটি সূত্রের।
ফের অনুব্রত (Anubrata Mondal) কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকে নোটিশ ধরালো সিবিআই (CBI)। সিআরপিসির ৯১ ধারা অনুযায়ী এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে সুকন্যাকে। তাঁর ব্যবসা সংক্রান্ত নথি ও তথ্য সিবিআইয়ের হাতে জমা দেওয়ার জন্যই এই নোটিশ। এর আগে একই ধারায় সুকন্যাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল সিবিআই তরফে। কিন্তু সেই নোটিশ পাওয়ার পরেও সুকন্যা মণ্ডল কোন তথ্য সিবিআইকে না দেওয়ায় ফের নোটিশ দেওয়া হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে। গরু পাচার (Cow Smuggling) হত নগদ টাকায়। পাচার হওয়া সেই নগদ টাকা কোথায়?
এবার তার সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এতদিন অনুব্রত বা তাঁর মেয়ের থেকে ঘনিষ্ঠদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে নথি জোগাড় করেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, তা গরু পাচারে পাওয়া অর্থে যথেষ্ট নয়।
সিবিআই মনে করছে নগদ পাচার টাকা অন্য কোথাও সরানো হয়েছে। সেই কারণে এবার অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইতিমধ্যেই দুই এনজিও সঙ্গে অনুব্রত যোগাযোগ পেয়েছে সিবিআই। সেই এনজিওগুলিতে নগদে টাকা বিনিয়োগ করেছে অনুব্রত। তদন্তে জানতে পেরেছে সিবিআই। এভাবে আর কোথায় নগদ টাকা সরানো হয়েছে, সেই খোঁজ শুরু করেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
শুক্রবার প্রায় একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুকন্যা মণ্ডলকে (Sukanya Mondal) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই (CBI)। সূত্রের খবর, সেই সময় অনুব্রত (Anubrata Mondal) কন্যার মুখে মনীশ কোঠারির নাম উঠে এসেছে। অনুব্রত মণ্ডল পরিবারের হিসেব পরীক্ষক বা চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মনীশ কোঠারি। তিনিই নাকি সব জানেন বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জানান সুকন্যা। জানা গিয়েছে, বাকি সব প্রশ্নের উত্তরে বাবা অনুব্রত মণ্ডলকে অনুসরণ করেন সুকন্যা। বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরেই সুকন্যা জানি না, বলতে পারবো না সুলভ জবাব দিয়েছেন। এদিকে, শুক্রবার হেফাজতে পাওয়ার পর শনিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছে সিবিআই। এমনটাই সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়েছে জেরা। শুরুতে আলাদা আলাদা ভাবে পার্থ ও কল্যাণময়কে জেরা করা হবে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এর আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেওয়া বয়ানের সঙ্গে শনিবার নেওয়া বয়ান খতিয়ে দেখবেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার মিডলম্যানদের জেরা করে উঠে আসা তথ্যের উপরেও এই দু'জনকে জেরা করতে পারে সিবিআই। এমনটাই সূত্রের খবর।
অপরদিকে, কয়লা এবং গরু পাচার নিয়ে কি আরও কোমর বাঁধছে ইডি। সিজিও কমপ্লেক্সে চলা তাঁদের কৌশল নির্মাণ বৈঠক ঘিরে সেই প্রশ্ন উঠছে। কয়লা পাচার এবং গরু পাচার-কাণ্ডের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নিয়ে এই বৈঠক বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি নোটবন্দির সময় বৃহৎ পরিমাণ নগদ একাধিক ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে। সেই সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ এই বৈঠকে অঙ্গ বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকের পর ইডি জোন-২-এ তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর।
গরু পাচার-কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) গ্রেফতার হওয়ার পর খবরে এসেছেন তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল (Anubrata Daughter)। ইতিমধ্যে জনমানসে চর্চায় সুকন্যা (Sukanya Mondal)। এই পাচার-কাণ্ডের তদন্তের মাটি সিবিআই যত খুঁড়ছে, ততই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির মেয়ের নামে একাধিক সংস্থার হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI)। এমনকি, সরকারের খাতায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডল। যদিও তিনি নাকি স্কুলে যান না, বরং স্কুলের রেজিস্টার খাতা সুকন্যার বাড়িতে আসে। এই ধরনের একাধিক অভিযোগ উঠছে। এমনকি, তিনি নাকি টেট ফেল করেও স্কুলশিক্ষিকার কাজ পেয়েছেন। সম্প্রতি এই অভিযোগ করে হাইকোর্টে মামলা ঠুকেছেন এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে সুকন্যা মণ্ডলকে টেট নথি-সহ ডেকে পাঠিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই নির্দেশ প্রত্যাহারও করেছেন মাননীয় বিচারপতি
এই আবহে ভাইরাল হয়েছে অনুব্রত-কন্যার এক নাচের ভিডিও। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল। তবে ভিডিওয় দেখা গিয়েছে ঘরোয়া পরিবেশে তুঁতে-সোনালি শাড়িতে একদম বাঙালি সাজে সেই ভিডিও বানিয়েছেন সুকন্যা। র্যাপার বাদশার এককালীন জনপ্রিয় রিমেক গান 'বড়লোকের বেটি লো...' গানে একতি রিল বানান সুকন্যা। যে গানে নাচতে দেখা গিয়েছে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে। 'বড়লোকের বেটি লো...' সেই গানের সঙ্গে নেচে বানানো সুকন্যার রিল ঘিরে এখন চর্চা তুঙ্গে।
ইতিমধ্যে সিবিআই অনুব্রত-সহ তাঁর আত্মীয়দের প্রায় ১৭ কোটি টাকার এফডির খোঁজ পেয়েছে। বোলপুরের নিচুপট্টির পৈতৃক ভিটে ছাড়াও অনুব্রতর নতুন একটা বাড়ি গৃহ প্রবেশের অপেক্ষায়। এখন তাই ভাইরাল রিল দেখে নিন্দুকেরা বলছেন, সত্যিই 'বড়লোকের বেটি' সুকন্যা মণ্ডল! এটা একটা ভাইরাল হওয়া ভিডিও, সত্যতা যাচাই করেনি ক্যালকাটা নিউজ
বেলা ১২.১৫ থেকে ১২.৩০, বোলপুরের নিচুপট্টিতে অনুব্রত মণ্ডলের(Anubrata Mondal) বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ৪ সদস্যের সিবিআই আধিকারিকের(CBI officials) প্রতিনিধিদল। বুধবার অনুব্রত কন্যাকে সম্পত্তি(property) সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতির বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। কিন্তু সূত্রের খবর, এদিন বাবার পর মেয়েও তদন্তে অসহযোগিতা(non co-operation) করেছেন। সিবিআইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ফিরিয়ে দিলেন অনুব্রতকন্যা সুকন্যা। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তিনি জানিয়েছেন যে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তিনি বলেছেন, "বাবা হেফাজতে, মাকে সদ্য হারিয়েছি। এই অবস্থায় কোনও কথা বলব না।" এই কথা শোনার পরই বেরিয়ে যান সিবিআই আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, বাবার পাপের শাস্তি ভোগ করছে মেয়ে। দুর্নীতি ঢাকতে মেয়ের নামে একাধিক সম্পত্তি লিখিয়েছে বাবা। সুকন্যাকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এভাবেই কটাক্ষ করেন।
তবে,সুকন্যাকে সিবিআই নোটিস দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মণীশ কোঠারিকে যখন সিবিআই আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, ঘটনাচক্রে ঠিক সেই সময়ে বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছন অনুব্রতর আইনজীবী সঞ্জীব দাঁ।