Breaking News
Senior Citizen: কেউ আতঙ্কে, কেউ আবার দিব্যি আছেন, শহর কলকাতায় কেমন আছেন একাকী বয়স্করা?      cctv: ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ায় মারধর! সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার বৃদ্ধার পরিচারিকা      Mamata: 'বাংলায় বিনিয়োগ করলে...' দুবাইয়ের মঞ্চ থেকে বিনিয়কারীদের পথ দেখালেন মমতা      Parineeti-Raghav:শনিবার সকাল ১০টা বাজতেই শুরু হল পরিণীতি-রাঘবের বিয়ের অনুষ্ঠান      Manish: শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন অনুব্রতর হিসেব রক্ষক মনীশ কোঠারি      Summon: পুর-নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও ৩৪ পুর-কর্মীকে তলব, চাপে মদনের পুরসভা কামারহাটি      Anubrata: পিছল ইডির করা মামলা, মেয়ের মত অনুব্রতরও পুজো কাটতে চলেছে তিহারে      Court: আদালতে কিছুটা স্বস্তি রাজ্যের, সমবায় দুর্নীতির তদন্ত সিবিআইয়ে আস্থা সার্কিট বেঞ্চের      Nipah virus: নিপা আতঙ্ক এবার বাংলাতেও, বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি কেরল ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক      Abhishek: ফের আদালতে ধাক্কা অভিষেকের, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস মামলায় মিলল না বাড়তি সময়     

Fingerprint

Special: বাংলায় প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবিষ্কার (শেষ পর্ব)

সৌমেন সুরঃ মারা যাওয়া পেনশন প্রাপকের বদলি লোক কিংবা গ্রামের অন্য কেউ প্রকিস দিয়ে পেনশন তুলছে। সুতরাং হার্শেল সাহেব তার হুগলি বিদ্যেটা কাজে লাগালেন। তিনি ঘোষণা করলেন, পেনশন প্রাপকের সাক্ষর ছাড়াও আঙুলের ছাপ দিতে হবে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবার পর ফল হাতেনাতে পাওয়া গেল। পেনশন প্রাপকদের সংখ্যা ক্রমশ কমতে আরম্ভ করলো। এই ঘটনায় হার্শেল সাহেব উৎসাহিত হয়ে দলিল রেজিস্টেশনের ক্ষেত্রেও আঙুলের ছাপ নিতে আরম্ভ করলেন, যাতে বিক্রেতা অস্বীকার করতে না পারে এবং ক্রেতাও বিক্রেতার সই জাল করে জমি আত্মসাৎ করতে না পারে। কিন্তু হার্শেলের দুর্ভাগ্য কয়েদিদের শনাক্তকরনের ক্ষেত্রে তিনি এই পদ্ধতি প্রয়োগ সরকারকে রাজি করাতে ব্যর্থ হলেন। তা না হলে সেইসময় ১৮৬০/৬২- তেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের আবিষ্কার স্বীকৃত হতে পারতো।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং পূর্ণাঙ্গ হাতের ছাপ নিয়ে নানান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও প্রকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের তদন্তের আনুষ্ঠানিক সূচনা কলকাতা থেকেই। বিখ্যাত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো অধিকর্তা বিদ্যুৎ নাগের একক প্রচেষ্টায় আজ প্রমণিত, কলকাতাই ফিঙ্গারপ্রিন্টের তদন্তের উৎস। এই প্রসঙ্গে তাঁর বর্ণনায় পাই, কর্মব্যস্ত একজন ইংরেজ আই সি অফিসার এডওয়ার্ড রিচার্ড হেনরি পুলিস ইনসপেক্টার জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি অপরাধী শনাক্তকরনে উঠেপড়ে লেগে যান।

বিজ্ঞানী গ্যালটনের প্রমাণিত সূ্ত্র ধরে হেনরি ফিঙ্গারপ্রিন্টকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিলেন শনাক্তকরনের ব্যাপারে। ফ্যান্সের দেহাঙ্গমিতির সংশোধিত রুপটি হেনরির চেষ্টায় বাংলা তথা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশংসা পায়। ১৮৯৬ সালে পুলিসের সার্কুলারে আঙুলের ছাপকে প্রধান করে। হেনরি অবশেষে স্বীকার করেন, 'অঙ্গলিছাপ' সূ্ত্রটি একশো শতাংশ নির্ভুল রুপে মত দেন দুজন বাঙালি সাব ইন্সপেক্টর। একজন আজিজুল হক, অন্যজন হেমচন্দ্র বসু। তবে সূ্ত্রটি আজও হেনরি পদ্ধতি নামে সারা বিশ্বে প্রচলিত। ১৮৯৭ সালে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যাপারে অনুমোদন পাওয়ার পর ভারতবর্ষে বাংলার মূখ্যকার্যালয় রাইটার্স বিল্ডিং-য়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। (সমাপ্ত) তথ্যঋণ/ বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধায়

                                      


6 months ago
Special:বাংলার প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট আবিষ্কার (দ্বিতীয় পর্ব)

সৌমেন সুর: ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রথম সূ্ত্রপাত ১৮৫৮ সালে একটু ভিন্ন আকারে দেখা গিয়েছিল। উইলিয়াম হার্শেল তখন হুগলির কালেকটর ডাকাবুকো আইসিএস। মাত্র ২০ টাকার চুক্তিপত্র করে ঘুটিং সরবরাহ করার জন্য রাজ্যধর কোনাইকে অর্ডার দিলেন। কিন্তু অনেক সময় সরবরাহকারীরা চুক্তিপত্র ও সই অস্বীকার করে বিপদে ফেলেন। তাই সতর্ক হার্শেল সাহেব ঠিক করলেন, রাজ্যধরকে একটা প্রস্তাব দেওয়া যাক যে, তাঁকে চুক্তিপত্রর উপর হাতের ছাপ দিতে হবে। অফিসে স্ট্যাম্প দেওয়ার জন্য ভুসো কালির ব্যবহার করা হতো। তাই হাতে কালি মাখিয়ে রাজ্যধরের হাতের ছাপটা চুক্তিপত্রের উপর নেওয়া হল। রাজ্যধরও মজা পেলো সাহেবের এই অদ্ভুত প্রস্তাবে। কিন্তু এই হাতের ছাপটা আজকের বিশ্ব শনাক্তকরনের চূড়ান্ত পন্থা হিসেবে আঙুলের ছাপ ব্যবহারের গোড়াপত্তন করলো। হার্শেল সাহেব আরও অনেকের হাত ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতেন। তবে সবাই এটাকে হার্শেল সাহেবের পাগলামি বলে ধরে নিয়েই হাতের ছাপ দিতেন।

বিষয়টি যে পাগলামি ছিল না, তার প্রমাণ হাতে হাতে পেয়ে গেলেন হার্শেল সাহেব। দু'বছর পর নদীয়া জেলার ডিস্ট্রিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি সবে বদলি হয়েছেন। দেখলেন, মাসের প্রথম দিকে সিপাহি বিদ্রোহ যারা সরকারকে সাহায্য করেছিল, সেসব পেনশন প্রাপকের সংখ্যা বেশ ভালই। যদিও তারা সকলেই বেশ বয়স্ক, তবুও সংখ্যাটা কিছুতেই কমছে না। কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন, মারা যাওয়া পেনশন প্রাপকের বদলি লোক প্রক্সি দিয়ে পেনশন তুলছে হাসিমুখে।

তথ্যঋণ: বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধায়

6 months ago
Special:বাংলায় প্রথম ফিংগারপ্রিন্ট আবিষ্কার (প্রথম পর্ব)

সৌমেন সুর: ১৮৯৭ সালের জানুয়ারী মাস, রাইটার্স বিল্ডিং তখন ইংরেজদের হেড অফিস। এখানেই প্রথম ফিংগারপ্রিন্টের কার্যালয় স্থাপিত হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এফবিআই-এর এডগার নূভারের কর্মশালাটি পৃথিবীর বৃহত্তম সংগ্রহশালা। এই সংস্থার বিপুল ফিংগারপ্রিন্ট সংগ্রহের জন্য আমেরিকায় আজও কোনও অবাঞ্ছিত ব্যক্তি সরকারি চাকরি, মর্যাদাপূর্ন পদ, গুরুত্বপূ্র্ন পদে ঢুকতে পারে না। এভাবেই ওরা নিজেদের দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ফিংগারপ্রিন্টকে বেছে নিয়েছে।

ফিংগারপ্রিন্ট নিয়ে নানা ঘটনা আজও অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বর্ধমানের নিরুদ্দেশ রাজকুমার প্রতাপচাঁদের পরিচয় দিয়ে এক সন্ন্যাসী ১৪ বছর পরে ফিরে আসে। এই ঘটনা নিয়ো হুগলি আদালতে মামলা হয়। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের বড়দা সঞ্জীবচন্দ্রের বর্ণনায় দেখি-- রাজার এক দুষ্ট আত্মীয় নিজের ছেলেকে বৃদ্ধ রাজার দত্তকরুপে গ্রহণ করেছে বলে নিজে বর্ধমান জমিদারির পুরোটাই কৌশলে হস্তগত করে। 

এর বহুদিন পর রাজকুমার সন্ন্যাসীরুপে ফিরে এলে বর্ধমানের জমিদার ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাহায্যে তাঁকে জেলে পাঠায়। শেষ জীবনটা সন্ন্যাসীকে খুব দুখ কষ্টের মধ্যে কাটাতে হয়। সেইসময় ফিংগারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও শনাক্তকরন পদ্ধতি চালু থাকলে রাজকুমারকে এভাবে কেউ বিতাড়িত করতে পারতে না। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই এখন নিজস্ব ব্যক্তিগত পরিচয়  নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ফিংগারপ্রিন্টের সাহায্য গ্রহণ করে। এটা অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার যে, আজ থেকে একশো বছর আগে মহাকরনের একটি অংশ যে গবেষনা ও কর্মদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, আজ তা বৃহৎ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। সারা পৃথিবীর অপরাধ বিজ্ঞানীরা এই বিজ্ঞানের উদ্ভাবনের জন্য ভারত তথা বাংলার কাছে ঋণ স্বীকার করেন।


তথ্যঋন: বিশ্বজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়

6 months ago


Fraud: দলিলের আঙুল-ছাপ নকল করে জালিয়াতি

গ্রাহক জানতেই পারতেন না, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। আর এই কাজে এক অভিনব পন্থার খোঁজ মিলল। ঘটনাটি ঘটেছে ব্যান্ডেলে। দলিলে থাকা আঙুলের ছাপ পর্যন্ত নকল করে এরা ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকের টাকা সরিয়ে ফেলত। উত্তর প্রদেশের এই গ্যাং ধরা পড়ল চুঁচুড়া থানার হাতে। ধৃতরা হল প্রদীপ সাহানি, সদানন্দ শ্রীবাস্তব (মনু), মনোজকুমার, শিবম গুপ্তা। এরা উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর ও কুশিনগর জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের রবিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠানো হয়।

ঘটনাটা এইরকম। বৃহস্পতিবার চারটি ছেলে ব্যান্ডেল চার্চের কাছে আসে ঘরভাড়া নেওয়ার জন্য। সেখানকারই এক মহিলা জায়গা কিনে ঘর তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তা ফাঁকাই পড়ে ছিল। এরা তাঁর বাড়িই ভাড়া নেয়। এলাকার ছেলেরা তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা দিচ্ছি, দেবো করে এড়িয়ে যায়। এতেই সবার সন্দেহ হয়। থানায় খবর আসে। তখনই পুলিস গিয়ে খোঁজখবর শুরু করে। জানা যায়, তারা অনলাইনের ব্যবসা করবে বলে ঘর ভাড়া নিয়েছিল।

কিন্তু এদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে নগদ চার লক্ষ টাকা, ১০টি মোবাইল, এটিএম কার্ড, সিম কার্ড, ব্যাঙ্কের পাশবই ইত্যাদি। সবচেয়ে যেটা অবাক করার বিষয় হল, উদ্ধার হয়েছে রাবারের তৈরি আঙুলের ছাপ নকল করার সরঞ্জাম এবং কিছু ভুয়ো দলিল। এমনকী কার আ্য়াকাউন্টে কত টাকা আছে, তারও একটা তালিকা উদ্ধার হয়েছে।

এলাকারই এক বাসিন্দা জানালেন, মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নিয়েই এই ধরনের চক্র কাজ করছে। তাই মানুষেরই আরও সচেতন হওয়া দরকার।

এলাকার বাসিন্দারাও এই ঘটনায় অবাক। তাঁরা জানিয়েছেন, এদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ এর মধ্যে। এদের চালচলন বরাবরই সন্দেহজনক ছিল। এরা চা খেয়ে ৫ টাকা চাইলে দশ টাকা দিয়েই চলে যেত। ফেরত নিত না। আর এটাই কাল হল। এসব দেখেই কয়েকজনের সন্দেহ হওয়ায় তারা পুলিসে খবর দেয়।

2 years ago
Duare ration : গঙ্গার পাড়ে আঙুল ছাপ, রেশন নিতে হবে দোকানে! অদ্ভুৎ কাণ্ড নবদ্বীপে

দুয়ারে রেশন প্রকল্পে বেনিয়মের অভিযোগ নবদ্বীপে। সিএন পোর্টাল থেকে প্রশ্ন করায়  পালালেন রেশন ডিলার। নদিয়ার নবদ্বীপে দুয়ারে রেশনে গঙ্গার ধারে রেশন ডিলার এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সংবাদ মাধ্যম দেখে যেন পালিয়ে বাঁচলেন। কিন্তু কেন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঙুল ছাপ দিলেও দোকান থেকেই নিতে হবে রেশন সামগ্রী।  এমনই অভিযোগ রেশন সামগ্রী নিতে আসা সাধারণ মানুষের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প দুয়ারে রেশন। সেখানে বলা হয়েছিল, সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাবে রেশন সামগ্রী। কিন্তু সেই রকম ছবি দেখা গেল না নবদ্বীপে।

নবদ্বীপের এক রেশন ডিলার টোটো এবং হাতের ছাপ দেওয়া মেশিন নিয়ে গঙ্গার ধারে আসেন। রেশন উপভোক্তাদের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন, যাদের মধ্যে অনেকেই ওই রেশন ডিলারের ক্রেতা নয়, তাদের দাঁড় করিয়ে চলে ফোটো সেশন। উদ্দেশ্য একটাই, প্রমাণ রাখা যে দুয়ারে রেশন প্রকল্প চলছে। তারপর যারা ওই দোকানের ক্রেতা, তাদের বলা হয়, রেশন সামগ্রী মিলবে রেশন দোকান থেকেই। এখানে এসে শুধু ছবি তুলে যেতে হবে। বহু দূর থেকে এসে রেশন সামগ্রী না পেয়ে ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা।

তবে সংবাদ মাধ্যমকে দেখে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন অভিযুক্ত রেশন ডিলার। কোনওক্রমে টোটো চেপে যেন পালিয়ে বাঁচলেন তিনি।

রেশন দুর্নীতিতে বহুবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। ফের রেশন নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের সমস্যার সৃষ্টি। কীভাবে হবে সমাধান, উপায় খুঁজছেন গ্রাহকরা

2 years ago