করোনা অব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যকে জোড়া চিঠি কেন্দ্রীয় দলের

0

মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপালের মধ্যে চিঠির যুদ্ধ চলার ফাঁকেই কেন্দ্র-রাজ্য চিঠির লড়াই চলছে সমান তালে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিনিধির জন্য অপেক্ষা করার পর এবার কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ দলের নেতা অপূর্ব চন্দ্র দুটি চিঠি পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে। দুটি চিঠিতেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের উদ্যোগ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। একটি চিঠিতে করোনায় মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য চিঠিতে করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নানা খামতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, দুদিনের টালবাহানার পর বৃহস্পতিবার রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও এমআর বাঙুর কোভিড হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ দল। দুটি জায়গা ঘুরে দেখার পর শুক্রবার ফের তাঁরা কলকাতা ও আশেপাশের জেলায় কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আগেই চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি না আসায় এদিন বিকেল পর্যন্ত বিএসএফ-এর অতিথিশালায় বসে থাকতে হয় তাঁদের। এরপরই দুপুরের পর দলের নেতা অপূর্ব চন্দ্র একাধিক প্রশ্ন তুলে দুটি চিঠি পাঠান রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। বিকেলের দিকে রাজ্যের এক প্রতিনিধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় দল হাওড়া জেলা পরিদর্শনে যান। তাঁরা প্রথমেই পৌঁছে যান ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার দেখতে।

দ্বিতীয় চিঠি-

প্রথম চিঠিতে এই কমিটি যে সমস্ত মৃত্যুর তদন্ত করেছেন, তাঁদের যাবতীয় তথ্যও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটির ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় দল। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যদফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যদি কোনও কোভিড রোগী পথ দুর্ঘটনায় মারা যান, তা হলে বলা যায় না ওই ব্যক্তির মৃত্যু কোভিডে সংক্রমণে হয়েছে’। এই যুক্তি কেন্দ্রীয় দলের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ হিসেবে অপূর্ব চন্দ্র লিখেছেন, ‘পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু আর রোগের কারণে হাসপাতালে মৃত্যুর মধ্যে কোনও তুলনা করা যায় না’। পাশাপাশি তাঁরা যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন-

  • কিসের ভিত্তিতে কাদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে?
  • কোনও মৃত্যু কোভিড ভাইরাস সংক্রমণে নাকি অন্য কোনও রোগের কারণে তা জানতে এত সময় লাগছে কেন?
  • অন্য কোনও কারণে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু হয়েছে সেটা কিসের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে?
  • আইসিএমআর ও মেডিকেল কাউন্সিলের গাইডলাইন মেনে এই কমিটি কাজ করছে কিনা?
  • এই বিশেষজ্ঞ কমিটি কোন পদ্ধতিতে কাজ করছে?

দ্বিতীয় চিঠিতে রাজ্যের দুই হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে নানান অভিযোগ জানানো হয়েছে। যেমন, বাঙুরে ৩৫৪ জন ভর্তি থাকলেও ভেন্টিলেটর মাত্র ১২টি। বাঙুরে সামাজিক দূরত্ব কোনওভাবেই বজায় রাখা হয়নি বলেই অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র সত্যতাও স্বীকার করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁরা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন দুটি দেহ বেশ কয়েক ঘন্টা অন্যান্য রোগীদের সঙ্গেই রাখা ছিল। তবে মৃত্যুর ৪ ঘন্টা পর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার নিয়মের কথাই বলা হয়েছে এই ঘটনায়। কিন্তু প্রতিনিধি দল প্রশ্ন তুলেছেন, দেহদুটি সংক্রমণের আশঙ্কায় কেন অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হল না? রাজারহাট কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের এখনও করোনা পরীক্ষা হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে ৪ জন, ১৭ তারিখ থেকে ২ জন ও ১৮ তারিখ থেকে ৩ জনের এখনও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থাই করা হয়নি। পাশাপাশি করোনা নেগেটিভ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁদের অন্যান্যদের সঙ্গে এক জায়গায় রাখা হয়েছে।

প্রথম চিঠি-