লঝঝড়ে বাসে চেপেই কলকাতায় দলীয় বৈঠকে গেলেন বিজেপি সাংসদ

0
4941

 

আজকের বাংলায় একজন কাউন্সিলর বা পঞ্চায়েত প্রধানকেও দেখা যায় এসইউভি গাড়ি হাঁকিয়ে ইতিউতি ঘুরে বেড়াতে। সে তিনি যে দলেরই হোক না কেন। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। একজন সাংসদ সারারাত ট্রেন সফর সেরে কলকাতার ভিড় বাসেই উঠে বসলেন। এবং নি:শব্দে পৌঁছে গেলেন গন্তব্যে। পাশের জন জানতেই পারলেন না যে তিনি একজন সাংসদ। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ শুকান্ত মজুমদার, পেশায় অধ্যাপক। এবারই প্রথম জিতেছেন বিজেপির টিকিটে। কিন্তু বরাবরই তিনি সঙ্ঘ ঘনিষ্ট বলে পরিচিত। বৃহস্পতিবারই কলকাতায় ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচন। সেই উপলক্ষ্যেই তিনি কলকাতায় আসেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে বালুরঘাটেই রেখে এসেছেন, সঙ্গে শুধু ছিলেন তাঁর আপ্তসহায়ক। এদিন ভোরে তিনি শিয়ালদা স্টেশনে ট্রেন থেকে নামেন। এরপর অন্যান্য যাত্রীদের মতোই শিয়ালদা স্টেশন থেকে বেড়িয়ে তাঁরা এক বেসরকারি বাসে চেপে বসেন বিজেপি কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে। ভিড়ে ঠাসা ওই বাসেই কখনও দাঁড়িয়ে বা কখনও বসেই পৌঁছে যান চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউতে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে। সকাল ১১টা নাগাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ছিল বিজেপির বৈঠক। তাই খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিতেই চলে যান দলীয় কার্যালয়ে।

এই ঘটনা জানাজানি হয় তাঁর আপ্তসহায়ক এই বাসযাত্রার ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই। ফলে নেটিজেনরা প্রশংশায় ভরিয়ে দিলেন এই বিজেপি সাংসদকে। যদিও বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার অবশ্য বেশি লোকলস্কর নিয়ে চলাফেরা করতে পছন্দ করেন না। তিনি বালুরঘাটে থাকলেও সাধারণত স্কুটি, বাস বা ট্রেনেই যাতায়াত করেন। আর অন্যান্য বিজেপি সাংসদের মতো তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নেই, সাধারণত সাংসদের নিরপত্তায় রাজ্য সরকারের বরাদ্দ একজন কন্সটেবলই তাঁর সঙ্গী। অবশ্য দিল্লি বা কলকাতা গেলে তিনি তাঁকেও সঙ্গে নেন না। আর কোলকাতায় সাধারণ বাসে চড়া নিয়ে বিজেপি সাংসদের প্রতিক্রিয়া, আমার তো কোনও অসুবিধা হয়না।