শান্তি চান বাবলুর মা

0
663

শুক্রবার পুলওয়ামার ঘটনার বর্ষপূর্তি। গতবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জঙ্গি হামলায় ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ান শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সেই ঘটনায় শহিদ হয়েছিলেন উলুবেড়িয়ার বাউড়িয়ার বাসিন্দা বাবলু সাঁতরা।
বাবলুর স্মরণে ইতিমধ্যে এলাকায় তার মূর্তি বসানো হয়েছে এক মন্দির কমিটি ও বাবলুর পরিবারের উদ্যোগে। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে উলুবেড়িয়া পুরসভার সহায়তায় ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচালনায় এক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এক সংস্থার উদ্যোগে মেচেদা থেকে বাবলুর বাড়ি পর্যন্ত বাইক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বাবলুর স্মৃতিচিহ্ন তাঁর পরিবারের কাছে আজও অমলিন। বাবলুর মা বনমালা দেবী বললেন, প্রতিবার বাড়িতে এসে কোনও না কোনোও কাজ করতেন বাবলু সাঁতরা। নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন বাড়ির উঠোনের ঢালাই। বাড়ির ছোটখাটো সব কাজেই রয়েছে বাবলুর হাতের ছোঁয়া। যেদিকে তাকিয়ে সেদিকেই যেন বাবলুকে আজও দেখতে পাই। বাড়িতে এসে কাটারি, শাবল, কোদাল নিয়ে খুঁটিনাটি কাজ করত। ও চলে গেলে সেসব গুছিয়ে রাখতাম। প্রয়োজনে সেগুলোতে হাত দিলেও বাবলুর কথা মনে পড়ে যায়।
১৪ ফেব্রুয়ারি বাবলুর শহিদ বার্ষিকী হলেও তিথি অনুযায়ী তার মৃত্যু বার্ষিকী গত ৩রা ফেব্রুয়ারি হয়েছে। সেই উপলক্ষে ওইদিনই বাড়ির লোকেরা তার বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন জানান বনমালা দেবী। তবে তিনি সবসময় শান্তি চান বলেই দাবি করলেন। বাবলুর ভাই কল্যাণ সাঁতরার স্পষ্ট উষ্মা, জানি না সরকার কী তদন্ত করছে। তাঁর একটাই প্রশ্ন, শহিদদের ঘাতকরা শাস্তি পাবে তো?
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার অবন্তিপুরায় জঙ্গি হামলায় যে ৪২ জন জওয়ান শহিদ হন বাবলু তাদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন সিআরপিএফের ৩৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান। ২০০০ সালে বাবলু সিআরপিএফে যোগ দেন। তখন তিনি উলুবেড়িয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরপরই অনেক মন্ত্রীসান্ত্রীরাও এসেছিলেন বাবলুদের বাড়িতে।
বাবলুর স্ত্রী মিতা সাঁতরা মায়ের বাড়ি হুগলির উত্তরপাড়ায় থাকেন। মাঝেমধ্যেই শ্বশুরবাড়িতে আসেন। গত ৩ তারিখে বাবলুর বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়ায় এসেছিলেন। তিনি কাঁকুড়গাছিতে কাজ করেন। মেয়েকেও উত্তরপাড়ার এক স্কুলে ভর্তি করেছেন। পরিবারের লোকেরা জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিতাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যাবেন না বলে বাড়িতে জানিয়েছেন। তিনি বাড়িতেই থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

SHARE