ব্রেকিং নিউজ
  (08:15 AM)-২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪,৭৭৪, সুস্থ ২,৫১,৭৭৭      (08:07 AM)-করোনায় মৃত ৩৫, সংক্রমণের হার কমে ১২.৫৮ শতাংশ      (08:06 AM)-গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত ৯,১৫৪     (07:59 AM)-২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা     (07:58 AM)-পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির সম্ভাবনা  
wmid-jamidarbari-dantan-travelling-spot
Historical Place দাঁতনে ভগ্ন নাট্যশালা সংরক্ষণে উদ্যোগী ব্লক প্রশাসন


Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2021-11-29 13:54:36


পঃ মেদিনীপুরের দাঁতনে প্রাচীন জমিদার পরিবারের ভগ্ন নাট্যশালাকে সংরক্ষণ করতে  উদ্যোগী ব্লক প্রশাসন। চলছে সৌন্দর্যায়নের কাজ।

দাঁতনের বিভিন্ন এলাকায় অযত্নে পড়ে আছে বিভিন্ন প্রস্তরমূর্তি, স্থাপত্য। সেগুলিকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ও সম্যক ধারণা দিতে উদ্যোগী প্রশাসন। ইতিমধ্যেই কাজও শুরু হয়ে গেছে। পর্যটক টানতে সাজিয়ে তোলা হবে ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব লেখা ফলক বসাবে প্রশাসন। মনোহরপুর রাজবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য ভেঙে যাওয়া নাট্যমন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

মনোহরপুর রাজবাড়ির ইতিহাস জুড়ে আছে অনেক কিংবদন্তী। ১৫৭৫ সালে মোগল-পাঠানের যুদ্ধের সময় আকবরের সেনাপতি টোডরমল পরিচালিত সেনাবাহিনীর অন্যতম সেনা ছিলেন লছমিকান্ত উত্তররাও। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও রাজস্থান নিবাসী লছমিকান্ত আর স্বদেশে ফেরেননি। পরবর্তীতে দাঁতনে জমিদারির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই রাজবংশের দ্বাদশ পুরুষ সুরেশচন্দ্র রায় বীরবর মনোহরপুরে রাজবাড়ির সামনে পিতা রামচন্দ্র রায় বীরবরের স্মৃতিতে ১৯২৬ সালে তিনতলা বিশিষ্ট 'রাজা রামচন্দ্র নাট্যমন্দির' গড়ে তোলেন। রামচন্দ্র দয়ালু রাজার পাশাপাশি সঙ্গীতজ্ঞ, সাহিত্যিক ও যাত্রানুরাগী ছিলেন। পুত্র সুরেশচন্দ্র পিতার অনুসারী ছিলেন। তিনি এই নাট্যমন্দির স্থাপন করেন। কলকাতার বিখ্যাত স্টার থিয়েটারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই নাট্যশালার। তিনতলা বিশিষ্ট নাট্যশালার মাঝেরতলায় অভিনয় হত। বেশ আধুনিক ছিল নাট্যশালা। প্রতি বছর দুর্গাপুজোয় ৩দিন, লক্ষ্মীপুজোয় ৭দিন ও দোলপূর্ণিমায় ৭ দিন ধরে থিয়েটার অভিনীত হত। বসত সাহিত্যসভাও। এখানে শিশিরকুমার ভাদুড়ি-সহ অনেক বিশিষ্ট অভিনেতা অভিনয় করেছেন।

কিন্তু বৃহৎ এই নাট্যশালা ১৯৪২ সালের ঝড়ে ধুলিসাৎ হয়েছিল। শুধু দাঁড়িয়ে আছে প্রবেশ দ্বারের দুটি স্তম্ভ ও কিছু ভগ্নাবশেষ। যাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছে জমিদার পরিবারটি। তবে সম্প্রতি তাদের আবেদনে প্রশাসন সাড়া দিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে। আপাতত তার চারপাশ ঘিরে সংরক্ষণের কাজ চলছে। এতে খুশি জমিদার পরিবার। নাট্যশালা সংরক্ষিত হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। দাঁতনের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাছের তলায় পড়ে থাকা প্রস্তরমূর্তি ও এলাকার স্থাপত্য সংরক্ষণ করা হোক, এমন দাবি দীর্ঘদিনের। এলাকার মানুষ ও গবেষকদের দাবি, কিছু এলাকায় খননকাজ করা হোক। অনেক ইতিহাস উঠে আসতে পারে। জমিদার পরিবারের এক সদস্য তীর্থঙ্কর রায় বীরবর জানান, প্রশাসন সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে। সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থাও করবে। প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে প্রশাসনের এই ভাবনায় তাঁরা খুশি।

যদিও প্রশাসনের তরফে জানা গেছে, পুজোর আগে কাজগুলি শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। দাঁতন ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে উদ্যোগী হয়েছে দাঁতন ১ পঞ্চায়েত সমিতি।

দাঁতনের গবেষক দণ্ডভুক্তি অ্যাকাডেমির সম্পাদক সন্তু জানা জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে এই ধরনের দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। সেইমতো প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। তাঁদের আরও দাবি, দাঁতনে আরও কয়েকটি এলাকায় এই ধরনের মূর্তি ও স্থাপত্য আছে। প্রশাসন সেগুলিরও সংরক্ষণের কাজে হাত লাগাক।

তবে আর দেরি কেন, শীতের মরসুমে নতুন ডেস্টিনেশন হতেই পারে এই জমিদার বাড়ি।




All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us