ব্রেকিং নিউজ
part-time-teacher-vegetable-seller-durgapur-bengal
Durgapur: পেটের জ্বালায় সকালে সবজি বিক্রি, বেলায় শিক্ষকতা!


Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2021-11-21 12:51:45


ইতিহাসে এমএ, রয়েছে বিএড-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা। তবুও করতে হচ্ছে সবজি বিক্রি। সরকারি স্কুলে আংশিক সময়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি সবজি বিক্রি ও বেসরকারি সংস্থায় পার্টটাইম কাজ। আর্থিক অনটনের লড়াইয়ে দুর্গাপুরের মৃত্যুঞ্জয়, আশরাফুলের মতো আরও অনেক শিক্ষক। সামাজিক অবক্ষয় না লজ্জার এক অধ্যায়? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ইতিহাসে এমএ, রয়েছে বিএড ডিগ্রি। ২০১৬ সাল থেকে সরকারি একটি স্কুলে ইতিহাসের আংশিক সময়ের শিক্ষকতা করেন তিনি। মাস শেষে স্কুল থেকে মেলে ১৮০০টাকা। যাতে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে পেটের টানে শিক্ষকতার পাশাপাশি সবজি বিক্রেতাও তিনি। দুর্গাপুরের কাঁকসার বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সাত সকালেই দেখা মিলবে সমাজ গড়ার এই কারিগরের। সকালে বাজারে বিক্রিবাটা সেরে স্কুলে যান মৃত্যুঞ্জয়। করোনা আবহে স্কুল ছিল বন্ধ, সেই সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেতনও। অভাবের তাড়নায় দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে তখন সকাল-বিকেল দু বেলাই সবজি নিয়ে বসতেন। সংক্রমণের অতিমারীর মুহূর্ত কাটিয়ে ফের স্কুল খুলেছে। স্থানীয় দেবশালা অঞ্চলে একটি বাজারে সকালে বাজারে বিক্রিবাটা সেরে সকাল সাড়ে দশটায় স্কুলে যান মৃত্যুঞ্জয় রায়। সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, সম্মানজনক সাম্মানিক দিন, ভাবুন স্থায়ীকরণের কথা, নচেৎ না খেয়ে মরতে হবে।

একই ছবি আশরাফুল মণ্ডলেরও। শিক্ষাগত যোগ্যতা এডুকেশনে স্নাতক, এমএ। রয়েছে শিক্ষকতা করার বিএড ডিগ্রিও। সরকারি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে মাস গেলে পান মাত্র ২৫০০ টাকা। সংসারের আর্থিক অনটন মেটাতে বাধ্য হয়ে স্কুল শেষে বিকেলে একটি বেসরকারি ট্যুরিস্ট এজেন্সির কাগজপত্র সামলানোর কাজ করেন, ঘরে ফেরেন রাতে। সেই ২০১৬ সালে স্কুলে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দিয়ে জীবন সংগ্রামের এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ আশরাফুল মণ্ডল। আশরাফুলের দাবি, সরকার একটু ভাবুক তাঁদের কথা, এখনই স্থায়ীকরণ সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে চলুক।

শুধু মৃত্যুঞ্জয় আর আশরাফুল নয়, আরো অনেক অস্থায়ী শিক্ষক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। যাঁরা আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। স্কুলের মাস্টার মশাইরা যদি শিক্ষিত হয়েও সবজি বিক্রি করে পেট চালান, তাহলে পড়াশোনা করে আর লাভ কী? এমনটাই প্রতিক্রিয়া মৃত্যুঞ্জয় রায়ের শিক্ষকতার আলোয় আলোকিত হওয়া তাঁর ছাত্রছাত্রীদের।

এদিকে এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পূর্ব বর্ধমান জেলার সহ সভাপতি রমণ শর্মার অভিযোগ, এই বাংলায় কর্মসংস্থানের গ্রাফ এক্কেবারে নিচে নেমে গেছে। শিক্ষক নিয়োগের শুধু ঘোষণা হচ্ছে, কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।

কোথাও যেন আক্ষেপের সুর তৃণমূল নেতৃত্বের গলাতেও। দলের দেবশালা অঞ্চল সভাপতি ও পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সির আক্ষেপ, সরকার মানবিক, সন্দেহ নেই। কিন্তু শিক্ষকতা করার পাশাপাশি শুধু সংসারের অনটন সামলাতে অন্য কাজ করেন, এটা তো সমাজের কাছে লজ্জারই ছবি।  বিষয়টি নিয়ে তিনি দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানাবেন।

কোনও কাজই ছোট নয়, সৎ পথে থেকে জীবিকা নির্বাহকে কুর্নিশ জানায় সমাজের সব স্তরের মানুষ। কিন্তু আংশিক সময়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি সংসারের অভাব মেটাতে রাস্তায় নেমে তাঁদের সেই যন্ত্রণার ছবি আদৌ এই সমাজের কাছে কতটা ইঙ্গিতপূর্ণ আর লজ্জার, তার উত্তর একমাত্র সময়ই দিতে পারে।




All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us