mohunbagan-eastbengal-puja
Football: ইস্ট-মোহন যুদ্ধে বিভক্ত বাঙালি


Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2021-11-25 12:02:07

ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেলার আগে নানা মন্দিরে যাওয়ার রীতি ছিল একসময়,যা আজও আছে কি না জানা নেই | তবে কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দেওয়ার ব্যাপারে কে আগে যাবে, তা নিয়েও দৌড়ঝাঁপ ছিল | পুজোর ফুল মাথায় ঠেকিয়ে কপালে সিঁদুরের তিলক কেটে দিতেন দলের কর্মকর্তারা | প্রদীপ ব্যানার্জি বা পি কে ব্যানার্জিরও তুকতাক ছিল প্রচুর | তিনি সিজনের প্রথম ম্যাচে যে শার্ট বা প্যান্ট পরতেন, শেষ দিন অবধি ওই পোশাকই পরতেন | অমল দত্তের অবশ্য পোশাকের বিষয়ে কোনও বাছবিচার ছিল না | 

মাঠে কোন দল আগে নামবে, তা নিয়েও অশান্তি হয়েছে বহুবার | 

মোহনবাগানের এক সময়ের সম্পাদক ধীরেন দে খেলার দিন মাঠে আসতেন না | তিনি তাঁর গাড়ি নিয়ে গঙ্গার ধারে বসে থাকতেন। তখন মোবাইল ফোন ছিল না। কাজেই মাঠে গোল বলে চিৎকার শুনলে ড্রাইভারকে পাঠাতেন জেনে আসতে, কে গোল দিল| খেলার শেষে মাঠে আসতেন | ইস্টবেঙ্গলের এক সমর্থক এই সেদিনও জার্সি-বুট পরে খেলা দেখতে আসতেন | চলচ্চিত্র অভিনেতা জহর গাঙ্গুলি নিজেই মাঠে যেতেন এবং নিজের  জন্য একটি বসার জায়গা ঠিক রাখতেন| তিনি মোহনবাগানের গোঁড়া সমর্থক ছিলেন | 

অন্যদিকে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কাঠ বাঙালি এবং ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক | এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে মাঠে যেতেন এবং একের পর এক সিগারেট ধরিয়ে টেনশন কাটাতেন | 

মহানায়ক উত্তমকুমার ছিলেন মোহনবাগানের সমর্থক | তিনি মাঠে যেতেন না ঠিকই, কিন্তু ডার্বি থাকলে সহ অভিনেতা মন্টু ব্যানার্জিকে রেডিওর রিলে শুনতে বসাতেন | ১০ মিনিট বাদে বাদে মন্টুর কাজ ছিল 'গুরু'র কাছে রেজাল্ট বলে আসা | মোহনবাগান জিতলে নিজের ফ্ল্যাটে ওইদিন রাতে হুইস্কির আসর বসত | আসলে বিষয়টি তখন জীবনের অঙ্গ ছিল | উত্তমবাবু চাকরি জীবনে মাঠে যেতেন বলে জানা যায় | অন্যদিকে তাঁর নায়িকারা বেশিরভাগই ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের | সুচিত্রা সেন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এবং সুপ্রিয়া দেবীও পূর্ববঙ্গের মেয়ে ছিলেন, এমনকি লাল-হলুদের সমর্থকও | 

(আগামী পর্বে চতুর্থ ভাগ)




All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us